হায় ধর্মনিরপেক্ষতা!!!

0
মালবিকা লাবণি শীলা:
মেজাজটা তুঙ্গে উঠে আছে। ডিপফ্রিজে মাথা ঢুকিয়ে বসে থাকলেও ঠাণ্ডা হবে না। অবশেষে ওরাই জয়ী হলো! সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে থেমিসকে।

আমার মুসলমান বন্ধুটি যখন তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তার উত্তর আমি দিতে পারিনা। যখন তার কবিতা গিয়ে দাঁড়ায় সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, হতাশায় সে কবিতা ছেড়ে দিতে চায়, আমি তাকে জোর দিয়ে বলতে পারিনা, কবিতা ছেড়োনা। তার বাক স্বাধীনতা হৃত হয়ে গেছে। আমি সেটা ফিরিয়ে দিতে অক্ষম।

আমার হিন্দু বন্ধুটি যখন কোণঠাসা হতে হতে স্ত্রী আর মেয়েদের নিরাপত্তার জন্যে দেশ ছাড়তে চায়। তাকে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি না, তোর ফ্যামিলির লোক তো এই দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে মারা গেছে, তুই কেন যাবি? ওর নামের শেষের ফ্যামিলি নেইম ওকে মানুষের চেয়ে ছোট করে তুলেছে। ওর যোগ্য সম্মান আমি ফিরিয়ে দিতে পারি না।

আমার পাহাড়ের বন্ধুটি যখন জিজ্ঞেস করে, দশ বছর পর কি এই দেশে ফিরতে পারবে? আমি জোর দিয়ে বলতে পারি না, দেশটা তো আমারও, কেন পারবো না? পাহাড়িদের সাথে অহরহ যে অবিচার চলছে, ওদের মৌলিক অধিকার যখন লুণ্ঠিত, তখন আমি অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকি। বলতে পারি না, তুইও আমার মতোই মানুষ। ওর অধিকার আমি পুন:স্থাপন করতে পারি না।

ইস্যুটা ভাস্কর্য নয়, ইস্যুটা একাত্তরের চেতনার। ইস্যুটা ধর্মের নয়, ইস্যুটা ছিলো ধর্মনিরপেক্ষতার। আজ হেফাজতের ইচ্ছার কাছে বিক্রি হয়ে গেল সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতা। একাত্তরের শহিদের রক্তে রাঙা এই মাটিতে আজ শকুনের উল্লাস। এই লজ্জা কোথায় রাখি!

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

লেখাটি ৩,৫৯৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.