সেরের উপর সোয়া সের, একটি বাজে অভিজ্ঞতা

0
আফসানা কিশোয়ার:
জীবনের সহজ জানা-বোঝা পার হয়ে মানুষ আকস্মিক কোনো ঘটনায় একলাফে বড় হয়ে যায় কখনো কখনো। নীতুও তেমন ঝটিকা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলো।
নীতু একজন বাচ্চা মেয়ে, আমাদের কাছে তো বটেই, দুনিয়ার কাছেও। নীতু যে সমস্যা নিয়ে এসেছে তা কাউকে বলা যায় না। কিছু করবো সে উপায়ও নেই। নীতুর বাবাকে বলি ওকে লুকিয়ে রাখা ছাড়া আমরা আর কী করতে পারি? উনি আমাদের হাতে মেয়েকে দিয়ে যেতে চান? আমরা না হয় ওকে এ বাসা, ও বাসা করে সপ্তাহখানেক রাখলাম। তারপর কী করবো? নীতুর বাবা বলেন, তাহলে ওকে একেবারে সীমান্তের কাছে ওর খালার বাড়ি ছেড়ে আসি। সীমা আপার দিকে তাকাই। দুজনের চোখে চোখে কথা হয়-দুজনে একসাথে “হ্যাঁ” বলি।
নীতুদের বাসা ঢাকার কাছেই, সে ক্লাস নাইনে পড়ে। তাদের এলাকায় তারা অর্থশালী। বাইরে থেকে কোনো সমস্যা এ পরিবারে নেই। নীতুর চাচা-ফুপুরা সবাই একসাথেই থাকে। বড় ভাই এর প্রথম সন্তান-চাচা ফুপু দাদী বাবা মা সবার চোখের মণি নীতু। নীতুর সমস্যা তার আপন দাদা। তিনি নীতুকে বিয়ে করবেন। নীতুর দাদা, নীতুর বাবা-চাচাকে ইতিমধ্যে ত্যাজ্য করার ঘোষণা দিয়েছেন, নীতুর দাদীকে তালাক দেবার বন্দোবস্ত করেছেন। অনেকভাবে তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি মানতে নারাজ।
নীতুকে দূরে পাঠিয়ে তেমন লাভ হলো না। তার দাদা সেখানেও উপস্থিত। নীতুর বাবা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরেন, নীতুর মায়ের সাথে পরামর্শ করেন। এলাকায় সালিশও বসে। সমাধান হয় না। রজব মেম্বার নীতুকে তার কাছে বিয়ে না দিলে তার বাড়িতে কাউকে থাকতে দিবেন না। তিনি নীতুকে বিয়ে করবেনই।
এমন ডামাডোলের ভেতর রজব মেম্বারের সদরে কাজ পড়ে। বরাবরের মতো রজব মেম্বার তার মোটর সাইকেলের ড্রাইভার জমিরকে নিয়ে সদরে যাত্রা করেন। পথের মধ্যে মোটর সাইকেলকে পেছন থেকে ট্রাক ধাক্বা মেরে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। জমির সামান্য আহত, কিন্তু রজব মেম্বারের মাথায় হেলমেট না থাকাতে সে গুরুতর আহত হয়। ঢাকার দিকে আনতে আনতে রজব মেম্বার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
সাড়ে পাঁচ বছর পর নীতুর বাবার সাথে দেখা। কেন জানি ইচ্ছে হয় জানতে তিনি কিভাবে কাজটা করেছেন, রজবের গজব থেকে মেয়েকে বাঁচিয়েছেন! ছোট্ট করে আমাকে আর সীমা আপাকে নীতুর বাবা একটা কথা বলেন, আমার মা-ই সব ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।
নারী কোথাও নিরাপদ নেই। ভায়োলেন্স,হ্যারাসমেন্ট কত প্রকার এ শুধু তার নমুনা, সবাই নীতুর পরিবার ও এলাকাবাসীর মতো সাহসী নাও হতে পারে, কিন্তু বাঁঁচবার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এটাই জরুরি বিষয়।
***এ লেখার প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক।
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 306
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    306
    Shares

লেখাটি ৩,৪৩৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.