আমরা কি পারি না কবি শ্বেতা শতাব্দীকে বাঁচিয়ে তুলতে?

0

কাবেরী গায়েন:

‘আমি দিন দিন ছোট হয়ে বেঁচে থাকি

আর আমার ভেতর এক বৃক্ষ বড় হতে থাকে।‘

– শ্বেতা শতাব্দী এষ

কবি শতাব্দী এষ এবং তার বড়বোন কবি মন্দিরা এষ’র সাথে পরিচয় আমার বন্ধু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, মেহের নিগার জুনের মাধ্যমে। জুন আমাকে প্রথম জানান অসাধারণ মেধাবী অথচ অগোছালো দুই বোনের অসম্ভব ভালো কবিতা লেখার কথা। আমি প্রথম দিকে তেমন একটা খেয়াল না করলেও জুনের বেশ কয়েকবার বলার পরে দুই বোনের কবিতাই পড়ি। এবং আসলেই মুগ্ধ হই। এই দুইবোন আর কিছু করেননি জীবনে, শুধু কবিতা লিখেছেন। চাকরি ধরেছেন, ছেড়েছেন, বিষয়ী হয়ে উঠতে পারেননি।

যখন থেকে এই দুই কবি বোনের কথা জানি, ঠিক সে’সময় থেকেই জেনে এসেছি ছোটবোন শতাব্দী এষ’র অসুস্থতার কথা। বন্ধু জুন বরাবর শতাব্দীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর চিকিৎসার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। কিন্তু শতাব্দীর অবস্থা এখন অনেক খারাপ। এবার জুন দেশে নেই এই মূহুর্তে। মন্দিরা তাই উপায়ন্তর না দেখে আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমি জুনের মতো ভালো সংগঠক নই। জুনের ধৈর্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মন, তার ধারেকাছেও আমার সামর্থ্য না।

আমি শুধু বলবো, শতাব্দী অসম্ভব ভালো কবিতা লেখেন। বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী। বয়স মাত্র ২৫ বছর। ২০১৬ সালের বই মেলায় তাঁর বই ‘বিপরীত দূরবীনে’ প্রকাশিত হয়ে ২০১৭ সালে ‘আয়েশা ফয়েজ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭’ পেয়েছে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সাথে অপর্যাপ্ত চিকিৎসার জন্য বহু জটিলতায় আক্রান্ত। তিনি এখন প্রায় হাঁটতে পারছেন না। যকৃত মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। তাঁর সমস্ত অসুস্থতার বিবরণ পাওয়া যাবে বোন মন্দিরা এষ’র আবেদনপত্রে। আমি সেই আবেদনপত্রটি এখানে তুলে দিচ্ছি। ভেলোরে নিয়ে চিকিৎসা করতে ৩০ লক্ষ টাকার তহবিল জোগাড়ের এক কঠিন লড়াইয়ে বড়বোন নেমেছেন ছোটবোনকে বাঁচানোর চেষ্টায়।

আশা করি, দেশে-বিদেশে বন্ধু-শুভানুধ্যায়ী-মানবিক মানুষেরা এগিয়ে আসবেন। কারো যদি কোন সংগঠনের সাথে যোগাযোগ থাকে যেসব সংগঠন এসব ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, তবে অনুগ্রহ করে একটু দেখবেন বিষয়টি। তরুণ কবি শতাব্দী সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন, লিখবেন কবিতা, এইটুকুই চাওয়া।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- শতাব্দী এষ, হিসাব নম্বর- ৩৪১২৬৬৩৬, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কর্পোরেট শাখা, জনতা ব্যাঙ্ক লিমিটেড। বিকাশ নম্বর- ০১৯১৪-৮৬৭৬৮৭ (শতাব্দীর ব্যক্তিগত নাম্বার)। ওর জন্য একটা ফেসবুক পাতা খোলা হয়েছে। https://www.facebook.com/standbyshw…

মন্দিরা এষ’র আবেদনপত্র। বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। 

তাং-

বরাবর- বাংলাদেশ।

বিষয় : দুরারোগ্যব্যাধি থ্যালাসমেয়িয়ায় আক্রান্ত শ্বেতা শতাব্দী এষ’র চিকিৎসায় সাহায্য প্রার্থনা করে আকুল আবেদন।

মহাত্মন,

যথাবিহীত সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি “মন্দিরা এষ”, পিতা- জ্যোতিষ চন্দ্র এষ; মাতা- ছবি এষ; স্থায়ী ঠিকানা- “এষ বাড়ি, বসাক পাড়া, জামালপুর সদর, জামালপুর-২০০০।” আমার একমাত্র সহোদরা “শ্বেতা শতাব্দী এষ”; বয়স-২৫; জন্মের ছয় মাস বয়স থেকে দুরারোগ্যব্যাধি থ্যালাসমেয়িয়ায় আক্রান্ত। বিটা-মেজর। থ্যালাসেমিয়া এমন এক দুরারোগ্য রক্তরোগ, যে রোগে আক্রান্তদের অস্থিমজ্জায় রক্তের তিনটি কণিকার মাঝে লোহিত কণিকা জন্মায় না। জন্ম থেকে অথবা শিশুকালে যেকোনো সময়ে এই রোগ দেখা দিতে পারে। এই রোগে আক্রান্তদের আজীবন একটা নির্দ্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর শরীরে রক্ত গ্রহণ করতে হয় এবং এই প্রয়োজনীয় রক্ত গ্রহণের সাথে সাথে শরীরে তৈরি হয় অপ্রয়োজনীয় নানা জটিলতা। অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় লৌহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জমে সেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দীর্ঘস্থায়ী অথবা চিরস্থায়ী ক্ষতি সাধন করে। শ্বেতার ২০০৯ সালে অতরিক্তি আয়রনের কারণে অপারশেন করে প্লীহা অপসারণ করার পর নানারকম জটিলতায় বিপর্যস্ত হয়। সাথে মাত্রাতিরিক্ত আয়রনের কারণে তার যকৃত মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পর্যদস্ত, তার হাড়ের ক্যালসিয়াম বিপদজনক পর্যায়ে কমে গেছে, অনেকটা একজন আশি বছর বয়স্ক বৃদ্ধের মতো, তার হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে দেখা দিয়েছে নানারকম শারীরিক সমস্যা।

শ্বেতা শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। শারীরিক এতোসব জটিলতা নিয়েও সে তার পড়াশোনা ও লেখালেখি চালিয়ে গেছে নিয়মিত। বরাবর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল করে সকলের কাছে হয়েছে অনন্য দৃষ্টান্ত। তার সম্প্রতিতম কবিতার বই “বিপরীত দূরবীনে” (প্রকাশকাল-২০১৬, প্রকাশ-অমর একুশে বইমলো-২০১৬) পুরষ্কৃত হয়েছে “আয়েশা ফয়েজ পুরষ্কার-২০১৭” –এ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স শেষ করে একটি বহুজাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাজে যোগদানের কিছুকাল পরই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এখন সে পঙ্গুপ্রায় অবস্থায় বিছানায় শয্যাশায়ী। দরকার দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ চিকিৎসার। এর আগে তার চিকিৎসার জন্য নিয়মিত মাসিক খরচ ছিলো প্রায় ২৬,০০০/= টাকা। যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অনিয়মিত চিকিৎসা এবং মাত্রাতিরিক্ত আয়রনের প্রভাবে তার আজকের এই পরিস্থিতি। তাকে পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ভেলোরের খ্রিস্টান মিশনারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত চিকিৎসাব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। প্রতিমাসে এখন তার চিকিৎসা খরচ প্রায় ৩০,০০০/= টাকা। আর সেজন্য্ দরকার বড় একটি ফান্ডের। শ্বেতার জন্য আমরা ৩০ লক্ষ্ টাকার ফান্ডের ব্যবস্থার চেষ্টা করছি।

অতএব, মহাত্মন সমীপে বিনীত প্রার্থনা, আমাদের র্বতমান পরস্থিতি, এবং একজন মেধাবী কবি ও তরুণ যোদ্ধার জীবন বিবেচেনা র্পূবক আপনার মহানুভব হৃদয়ের প্রতি আকুল আবেদন, দুরারোগ্যব্যাধি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত “শ্বেতা শতাব্দী এষ”র চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে আপনার মহান সাহায্যরে হাত বাড়িয়ে দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

বিনীত নিবেদক,

মন্দিরা এষ, ১৫৯/১৮/সি-৯, পশ্চিম শেওড়া পাড়া, মীরপুর-১০, ঢাকা ১২০৯।

যোগাযোগ : ০১৯২১-০০৬৬২৭।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- শতাব্দী এষ, হিসাব নম্বর- ৩৪১২৬৬৩৬, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কর্পোরেট শাখা, জনতা ব্যাংক লিমিটেড। বিকাশ নম্বরঃ- ০১৯১৪-৮৬৭৬৮৭ (শ্বেতার ব্যক্তিগত নম্বর)

কবি মন্দিরা এষ কবি শতাব্দী এষ’র জীবন বাঁচাতে চাইছেন।

বড়বোন মন্দিরা ছোটবোন শতাব্দীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য চাইছেন।

আমরাও কি দাঁড়াতে পারি না?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৫,৮৯৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.