সমপ্রেমীদের অবিলম্বে মুক্তি চাই

0

চৈতী আহমেদ:

স্টকহোমে এক এক্সিবিশনে দেখা হয়েছিলো এই বাঙালি যুগল যুবকের সাথে। আমার সাথে ছিলো সুইডেন পেন এর জেনারেল সেক্রেটারি Anna Livion Ingvarsson। ওর আমন্ত্রণেই আমার সেই অনুষ্ঠানে যাওয়া। যুগল যুবকের একজনের সাথে কথা বলছিলাম, অন্যজন এসে যোগ দিলে প্রথমজন পরিচয় করিয়ে দিলো –
-ও আমার বয়ফ্রেন্ড!
অন্যজন মিষ্টি হেসে হাত বাড়িয়ে দিলে আমিও হাত বাড়ালাম। তারপর এক্সিবিশনের পুরো সময়টাই ওদের সাথে কেটে গেলো গল্পে আডায়। অস্বস্তিবিহীন। নিজেদের সম্পর্কের সুরক্ষার জন্য এই প্রেমিকজুটি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। দেশে তারা একটি সমকামী পত্রিকা চালাতো।

জানলাম ২৭ জন সমপ্রেমী মানুষকে এরেস্ট করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। আমার মনে পড়ে গেলো সুন্দর এই যুগলের কথা। দেশে থাকলে হয়তো তাদেরও এরেস্ট করতো পুলিশ।

কী অসভ্য একটা দেশ, ততোধিক অসভ্য তার পুলিশ! আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে ধর্ষক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, পুলিশ তাকে কিছুই বলে না। হযরত আলী প্রাণাধিক শিশু কন্যা আয়েশাকে ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ট্রেনের নীচে পড়ে আত্মহত্যা করলেও প্রধানমন্ত্রীসহ কারো টনক নড়ে না। বাংলাদেশ নামের জঙ্গলে তনুকে তো ভাল্লুকেই খেয়ে ফেললো, কেউ কিছু করতে পারলো না। সদ্য সদ্য যখন বাসাবোতে মাদ্রাসা শিক্ষক আট বছরের বালককে ধর্ষণ করে সুন্নত পালন করেছে, তখন এই পুলিশ কোন সুন্নত পালনে ব্যস্ত ছিলো কে জানে?

অরাজক অবস্থা চলছে পুরো দেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীর সময় নেই দেখার তার রাজত্বে কে কার …. ছা মারলো দেখার। তিনি তাঁর রাজাকার বেয়াইয়ের পাছার ছাল বাঁচাতে ব্যস্ত। ২৭ জন #LGBTI কে এরেস্ট করা প্রধানমন্ত্রীর রাজাকার বেয়াইমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া শোরগোল কনভার্টের চেষ্টা কিনা কে জানে?

মাদ্রাসার শিক্ষক নামের পেডোফাইলগুলোও কি তাদের বেয়াই লাগে? তাদেরও তো কোনোদিন কেউ এরেস্ট করে না?
তা না হলে দেশে এতো এতো সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে পুলিশ হঠাৎ সমপ্রেমীদের এরেস্ট করার পেছনে নিশ্চয় কোনো ধামাচাপার বিষয় আছে। যে কোনো কারণে নাস্তিক ব্লগার আর এক্টিভিস্টদের মনোযোগ ভিন্নখাতে ব্যস্ত রাখতে চাইছে সরকার। রাজপথের আন্দোলন এখন সরকারের ঘরজামাই। তাই তাদের যে কোনো আকামের গলায় কাঁটা এখন একমাত্র নাস্তিক ব্লগার আর এক্টিভিস্টরা। এদের এখন না গেলা যাচ্ছে না ফেলা যাচ্ছে। নাই কথাতে #LGBTI এরেস্ট টোপ হিসেবে মন্দ না। আমরা এক্টিভিস্টরা, মুক্তমনের মানুষরা সমাজে, রাষ্ট্রে সমপ্রেমীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সঙ্গে আছি সবসময়, থাকবো।

জানতে চাই, যে পুলিশ প্রশাসন চুরি ডাকাতি, দুর্নীতি, মাদক, ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, সেখানে অন্য সব স্বাভাবিক তথা প্রকৃতি সমর্থিত সম্পর্কের মতোই একটি সম্পর্ক সমপ্রেমিকদের পুলিশ এরেস্ট করেছে কোন আইনে?
আমি কার সাথে শোবো এটা ঠিক করে দেয়ার তুমি কে হে পুলিশ? বেতন তুমি আমারে দাও না, আমার ট্যাক্সের টাকায় তুমি বেতন পাও। সো, আমার বেড আমি কার সাথে শেয়ার করলাম সেটা দেখা তোমার ডিউটি না। সমপ্রেমীদের মুক্তি দাও। দিতে হবে।

সমপ্রেমীদের স্বীকৃতি চাই। আজ না দাও, কাল দিতেই হবে!

লেখাটি ৪,৮৮০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.