ধর্ষকের সাথে সেলফিই কি মূল কারণ?

0

শিল্পী জলি:

ফেবুতে পড়লাম, ধর্ষক নাঈম আশরাফের সাথে ছবি থাকায় ফারহানা নিশোকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছেঘটনা যদি সত্যি হয়, কেন?
সাকিব আল হাসানের সাথেও তো এক ধর্ষকের হ্যান্ডশেক করার ছবি দেখেছি, তাদের বিজনেস রিলেশন আছেতাঁকেও কি ক্রিকেট টিম থেকে বাদ দেয়া হবে?

আমাদের আচরণগুলো পরিণত এবং আইন সম্মত হওয়া উচিত। তখনই জনগণ আইন বুঝবে, মানবে, এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

সাফাত, নাঈম, এবং সাদমানকে আগে কেউ ধর্ষক বা দালাল হিসেবে জানতো না। নাঈম ইভেন্টের কথা বলে কাজ পাইয়ে দেবার নামে মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করতো। ফলে অনেক মেয়ের ছবিই তার সাথে থাকতে পারে। এর মানে এই নয় যে তারা সবাই অপরাধী। বরং তারাও কেউ কেউ হয়তো বা ভুক্তভোগি! তবে, জগতের সব রেপিস্টই যে সব মেয়েকে রেপ করে, বা করতে চায়, তেমনও কোন কথা নেইতাদেরও মা, বোন, বউ, বা বান্ধবী নিরাপদ থাকতে পারে।

এখানে ধর্ষকদের সাথে তারা কতটি ছবি তুলেছেন, সেটাও কোন হিসেবের বিষয় নয়। কেননা তখনও তারা চিহ্নিত আসামী ছিল না। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার, অত চতুরলোক হয়েও যেখানে এতদিন নাঈমের আসল পরিচয় জানতে পারেনি (জানলে অবশ্যই যখনতখন নিজের ঘরে ঢোকাতো না) সেখানে এই কম বয়সী মেয়েরা কী করে আগে থেকে বুঝবে, কতটা ভয়ঙ্কর লোক সে?
তারপরও কেউ কেউ হয়তো এক সময় বুঝেছেন যখন, তখন আর চক্কর থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। কিন্তু তারা নিজেরা যদি কোন ক্রাইম করে না থাকেন তাহলে তাদের সাজা দেয়া মানে সমাজে মেয়েদেরকেই পিছিয়ে দেয়া, অন্যায়ভাবে তাদের অধিকার হরণ করা, তাদের রিজিক ছিনিয়ে নেয়া।

তাই মিডিয়া এবং তদন্ত কমিটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত ধর্ষকদের সাথে পরিচিত আরও মেয়ের খবরাখবর পাবার চেষ্টা করলেও উচিত হবে না তাদের নাম এবং পরিচয় পাবলিক করা, যেহেতু আমাদের সমাজ এখনও অনেক পেছানো এবং ভিকটিম ব্লেমিং। ইতিমধ্যেই মিডিয়ায় ধর্ষকদের সাথে চারজন মডেলের ছবিসহ আরও এগারজন মেয়ের নাম জড়িত হবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যেটা অনুচিত। কেননা এতে তাদের প্রাইভেসি ক্ষুন্ন হয়েছে, এবং তারা নানা বাঁধার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা তাদের জন্যে জীবননাশকও হতে পারে।

একটি মেয়ের বাইরের ঝকমকানিই তার পুরো জীবনের প্রকাশক নয়। তার ভেতরেও কোটি না বলা কথা থাকে, লক্ষ বঞ্চনা থাকে, হাজারও ক্ষত এবং দুর্বিষহ কষ্ট থাকে, যেগুলো বাইরে থেকে খালি চোখে দেখে প্রেমপ্রীতি বা চক্করের হিসেব দিয়ে পরিমাপযোগ্য নয়।

কিছুদিন আগে ছবিতে তারানা হালিমের পেছনে এক খুনিকেও দেখা গিয়েছিলতার মানে কি এই যে তারানা হালিমও খুনি?
পৃথিবীতে মানুষ চেনা অত সহজ কাজ নয়, আবার চেনার পরও অনেক সময় তাদের কবল থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নাও হতে পারে। তেমন হলে, নাঈমকে বিয়ে করে দুজন মেয়ে কখনও ধরা খেতো না। তবুও তারা এক সময় বের হয়ে গিয়েছেন, কিন্তু এখনও তার এক স্ত্রী বর্তমান।

এক সময় লক্ষ লোক বনানীর ধর্ষকদের বন্ধু ছিল, এখন হাজার লোক তাদের থেকে দূরে সরে যাবে, কেউবা বিষয়গুলো পছন্দ না করলেও বন্ধুত্বের খাতিরে খারাপ সময়টিতে বন্ধুকে ছেড়ে যেতে পারবে না,
কেউ আবার বিজনেসে চুক্তিবদ্ধ থাকার কারণে এখনও আঁটকে থাকবেনএর মানে এই নয় যে তারাও খারাপ, এবং তাদের উপর আমাদের মতামত চাপিয়ে দিয়ে বাধ্য করবো তাদেরকে সেগুলো মানতে ! কেননা একজনের কর্মের সাজা আরেকজন্যের প্রাপ্য নয়ওটা অমানবিকতা। তবে, স্বর্ণ ব্যবসায় এবং রেইনট্রি হোটেলে যেসব অনিয়ম চলছে সেসবের দায় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। মাশুলও দিতে হবে। হয়তো বা বিজনেস চুক্তির কারণে সাকিব আল হাসানও ওদের ধূর্ততার কারণে আঁটকে যেতে পারেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কেননা সাধারণ চোখে বিজনেসের ফাঁকফোকড় বোঝা তত সহজ নয়। তবে, তিনি যে জেনেশুনে কোন অনিয়ম করবেন না, সেই বিষয়ে আমরা আশাবাদী। কেননা, একজন ক্রিকেটারের নীতিই তাঁর আসল শক্তি। তবে, ভুলও মানুষই করে।

কেউ কেউ বলছেনফারহানা নিশোঅযোগ্যতার কারণে চাকরি খুইয়েছেন। তাঁর কাজের মান দেখে তাকে অদক্ষ মনে হয় না। যে পরিস্হিতিতে ফারহানা নিশো চাকরি হারালেন এবং যেভাবে এটা ফলাও করে পুরো দেশবাসীর মাঝে ছড়ানো হলো, তাতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের উচিত মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে অবগত করা যে মিস নিশোর চাকরি হারানোর বিষয়টি ধর্ষণ কেসে অভিযুক্ত নাঈম আশরাফের সাথে তোলা ছবির সাথে সম্পর্কিত নয়এই বিষয়টি দেশে মেয়েদের অধিকার অক্ষুন্ন রাখাসহ,তাদের ভবিষ্যত অধিকার সুরক্ষায় সহায়ক হবে, এবং তারা পরবর্তীতে অন্যায়কে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করতে সাহস পাবে।

বনানীর ধর্ষণ কেসে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, পাপীকে সাজা দেয়া, এবং মানুষের নাগরিক অধিকার অক্ষুন্ন রাখা।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

লেখাটি ৩,০২৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.