নারীদের লেখার অর্থগুলো বুঝতে হবে

ইমতিয়াজ মাহমুদ:

‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস’ কিংবা ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ এইরকম একটা কথা যদি আপনি পড়েন তাইলে কি এই কথাগুলি আপনি আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করেন? নাগিনী অর্থে নাগিনীরা আসলেই চারদিক অর্থে চারিদিকে বিষাক্ত বিশ্বাস ফেলে না। যারা এইসব কথা লেখেন ওরাও আক্ষরিক অর্থে লেখেন না বা যারা পড়েন তারাও আক্ষরিক অর্থে পড়েন না। একইরকমভাবে কেউ যখন একটা প্রবন্ধের শিরোনাম দেন, কুকুরেরও ভাদ্র মাস ফুরায়, পুরুষের ফুরায় না, আপনি সেটার কি অর্থ করবেন? প্রবন্ধের কন্টেন্ট সম্বন্ধে আপনি কী অনুমান করবেন?

সকল স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই বুঝতে পারবেন এর কন্টেন্ট কী হতে পারে আর কেন এরকম তীব্র শ্লেষ ধরনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু অল্পবিদ্যা ভণ্ড আর প্রতারকেরা।

প্রতারক মানে কী? এখানে ভণ্ড আর প্রতারক বলতে আমি সেইসব ফাজিলকে বুঝাবো যারা এমনিতে বাইরে বাইরে কাগজে কলমে পোশাকে আশাকে বেশ লিবারেল বটে, কিন্তু চামড়ার নিচে একেকটা কুতকুতে মেল শভিনিস্ট আর চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল। এরা এটাতে পড়বেন যে এখানে নাকি সকল পুরুষকেই ধর্ষক বলা হয়েছে আর এর পুরো লেখাটা নাকি পড়তে রুচি হয় না। উইম্যান চ্যাপ্টারের প্রধানের বিরুদ্ধে নাকি মামলা করতে হবে।

ও ভাই, বুঝতে চেষ্টা করুন কিরকম ক্ষোভ থেকে একজন নারী তাঁর লেখার এইরকম শিরোনাম দিয়েছেন। নিজেকে বলেছেন পৃথিবী দেখতে আসা এক মুগ্ধ পরিব্রাজক? চোখ খুলে দেখতে চেষ্টা করুন, কথাটায় সারবস্তু আছে কিনা। গোটা পৃথিবী দেখতে হবে না, চারপাশে দেখুন, কোন পুরুষটির ভাদ্র মাস শেষ হয়? শারীরিকভাবে ধর্ষণ সকলেই করে না বটে, কিন্তু নারী দেখলেই চিত্তের ভিতর লালা ঝরে সে কি কেবল ঐ হুজুর একা? কবিদের কথাই ধরেন, সেই কালিদাস থেকে শুরু করে অদ্যাবধি যেসকল কবি নারীর শরীর আঁকছেন কবিতায় সে কি কাম থেকে নয়?

নারী মুখ খুললেই হৈ হৈ রৈ রৈ করে ওঠেন। মেয়েমানুষ এইরকম কথা লিখবে কেন? মেয়েমানুষ এইরকম ছবি পোস্ট করবে কেন? মেয়েদের পোর্টালে এরকম শিরোনামে লেখা যাবে কেন? ভাইসাহেব, আপনি আমি আমরা পুরুষরা নারীকে ভোগের বস্তু বিবেচনা করে মানুষের মর্যাদায় উঠতে দিই না বলেই নারীদের এইসব কথা লিখতে হয়। নারীরা কেউ মনের আনন্দে এইসব কথা লেখে না।

এক ভাইজান দেখলাম মন্তব্য করেছেন, এইসব ফেমিনিস্টরা নাকি এটেনশন সিকার। ওরে, আপনার এটেনশনের জন্যে নারীর এতো কিছু করার দরকার নাই, এতো কিছু লেখার দরকার নাই। কুকুরের এটেনশন পেতে কি করতে হয়? কেবল হাড্ডি আকৃতির একটা প্লাস্টিকের টুকরা দেখালেই কুকুরের দঙ্গল এসে জড়ো হবে।

আমার ছোটবোন একবার একটা পোস্টে লিখেছিল, সুন্দরী মেয়েরা মুখ খুললে আপনাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। কথাটা ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন ঠিক, সামষ্টিক পর্যায়েও প্রযোজ্য। নারীরা মুখ খুললেই বিপদ। এজন্যেই আপনারা এইরকম জ্বলে ওঠেন।

সত্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। আখেরে লাভ আমাদের সকলেরই হবে।

যে লেখাটি নিয়ে বিতর্কhttps://womenchapter.com/views/20571

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.