ধর্ষকদের বন্ধু এবং পরিবারকেও চিনে রাখুন

0

সালমা লুনা:

ধরুন একজন রেপিস্ট আপনার ফেসবুক বন্ধু। আপনি তাকে তেমন চেনেন না, জানেন না। কিন্তু অনেকদিন ধরেই আপনার লিস্টে আছে।

আপনি দেখেছেন, নামীদামী হোটেল রেস্টুরেন্টে সুবেশী সে ততোধিক নামীদামী লোকজনের সাথে চেক ইন দিয়েছে। গভীর রাতের লং ড্রাইভে পাশে বড়ভাই বা বন্ধুটি সহ বিলাসবহুল গাড়িটিকে কায়দা করে দেখিয়ে সেলফি আপলোড করেছে ।
চটকদার কাজকর্মে তার সম্পৃক্ততা এবং রাষ্ট্রীয় বা সরকারী হর্তাকর্তাদের সাথে তার দমাদম খাতির সেটিও আপনি ফেসবুকে দেখে দেখে তার সাথে ফেসবুকে বন্ধু হিসেবে থাকতে পারাটাকে যখন আপনি প্রায় আপনার সৌভাগ্যের ব্যাপার বলেই ধরে নিয়েছেন ঠিক তখনই ………
তখনই কোন মেয়ে খুব জোড়ালো অভিযোগ আনলো তার বিরুদ্ধে যে লোকটি একটা আস্ত শয়তানের বাচ্চা – ধর্ষক !

আপনি কী করবেন!
একটু হতচকিত, একটু দ্বিধাদ্বন্দের দোলায় দুলছেন তো!

ঠিক আছে আরো সহজ করে দেই।

প্রমাণিত না হলে কাউকে অপরাধী বলা যায় না, এটিই আপনার মনে আসছে তো!

ঘটনা এমন দাঁড়ালো যে বেশ হৈচৈ উঠলো, সেই ব্যক্তি একাধিক ব্যাক্তির সাথে মিলে এই সু-কর্ম করেছে। তারা সেটির ভিডিও-ও করেছে। অতঃপর তারা পালিয়ে গেছে। কেউ কেউ ধরা পড়ে স্বীকারও করেছে।
সমাজের একাংশ বলছে, মেয়েটি দোষী। কেননা সে ওই ধর্ষকদের বলেছিলো, “এসো আমাকে ধর্ষণ কর”! তাছাড়া সে তো বাজে মেয়ে। পারিবারিক অনুশাসন মানে না, রাতবিরাতে বন্ধু নামক পরপুরুষের সাথে ঘোরে, এমন সব পোশাক পরিধান করে যে, সাধু সন্তেরও মাথা ঠিক রাখা দায়।

এগুলোও আপনাকে কিঞ্চিত প্রভাবিত করতেই পারে। তাই আপনি ফেসবুকের লিস্টে থাকা ধর্ষক (ওপস! প্রমাণিত হয়নি) বন্ধুটিকে (!) নিয়ে খুশি খুশি বিরাজমান হতেই পারেন!
কিন্তু একজন ধর্ষককে লিস্টে সাজিয়ে রাখা আপনাকে দেখলে যে অন্য কারো অরুচিকর লাগতেই পারে সেটি হয়তো আপনার অজানা। অথবা আপনি জেনেশুনে বুঝেই একজন ধর্ষককে লিস্টে রেখেছেন। কেননা ধর্ষণকে হয় আপনি অপরাধ ভাবেন না, নয়তো মনে মনেই আপনি একজন।

সুতরাং ধর্ষককে কেন বন্ধু হিসেবে রেখেছেন এ প্রশ্ন করে আপনাকে বিব্রত করার তো কোন মানেই হয় না।

আপনার বন্ধু তালিকায় ধর্ষক থাকার জন্য আপনাকে কেউ ধর্ষকবান্ধব ভাবলে সেই দোষ তো আর তার হবে না নিশ্চয়ই?

ধর্ষণমুক্ত সমাজ গড়তে চাইলে ছোটখাটো বিষয়গুলো নজরে রাখাও জরুরি। শুধু নারীর সহি কাপড় আর সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে না থাকার ফতোয়াই যথেষ্ট নয় জনাব। ধর্ষকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বয়কট করেও তেমন লাভ নেই। কারণ তারা এই দুর্নীতিবাজ সমাজে ফের মাথা তুলবেই।
বয়কট করতে হবে ধর্ষক, তার পরিবার আর তার বান্ধবদেরকে !

লেখাটি ১,২২৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.