শৈশব হোক নির্যাতন আর যৌন নিপীড়নমুক্ত

0

ফারজানা হুসাইন:

আজ এক বন্ধু আমাকে ম্যাসেঞ্জারে বার্তা পাঠালো গতকাল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখার পর থেকে সে খুব অস্থির হয়ে পড়েছে। ভয়ঙ্কর মন খারাপ, আর আশংকা নিয়ে কেটেছে তার সারাটা দিন। একই অস্থিরতায় পার হয়েছে আমার গতরাতও। শুধু আমি বা আমার বন্ধুটিই নই, ছবিটি নিয়ে আরও অনেকেই হতাশা, আশংকা, আর আক্রোশ প্রকাশ করেছে কাল থেকে।

ছবিটি কে বা কারা তুলেছে কিংবা এভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে জানা নেই, আদতেই ছবিটি আসল নাকি নকল, তাও জানি না। কিন্তু মাথা থেকে কিছুতেই সরাতে পারছি না ছবিটা। একজন বয়স্ক লোক আর ছোট্ট একটা লাল ফ্রক পরা মেয়েকে দিনে-দুপুরে কোন বাড়ি বা নির্জন রাস্তার কোনাতে কী ভীষণ অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে ওই ছবিতে। অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে ছোট্ট মেয়েটাকে একজন বয়স্ক লোকের শরীরের প্রাইভেট একটা অংশ স্পর্শ করানো হচ্ছে।

যৌন নিপীড়নের ঘটনা যে শুধু বড়দের সাথে হয় তা তো নয়, পৃথিবীর সব দেশের শিশুরাও কম বেশি এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার। আমাদের দেশেও শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি হলো দ্যা ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্যা রাইটস অব দ্যা চাইল্ড (সিআরসি), যার আরটিকেলস ৩৪ ও ৩৫ অনুসারে সদস্য দেশগুলো সকল প্রকার যৌন শোষণ ও যৌন নিপীড়ন হতে শিশুদের রক্ষা করার জন্য নীতিগতভাবে বাধিত হয়। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে সিআরসি তে স্বাক্ষর করে শিশু অধিকার রক্ষার এই চুক্তির সদস্য দেশ হয়।

আন্তর্জাতিক আইনে ১৮ কম বয়সী যে কেউ শিশু। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ,২০০৩ অনুযায়ী আমাদের দেশীয় আইনে ১৬ বছরের কম বয়স্ক যে কেউ শিশু বলে গণ্য হবে।

আমাদের প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো কেবল ধর্ষণই যৌন নিপীড়ন। তাহলে শিশু যৌন নিপীড়ন কী? শিশু যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞা বিভিন্ন দেশের আইনে কিংবা গবেষণায় ভিন্ন রকম। খুব সহজভাবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো শিশুর প্রতি যে কোনো শারীরিক, মৌখিক বা চাক্ষুষ যৌন আচরণ হলো শিশু যৌন নিপীড়ন। 

দ্যা আমেরিকান সাইকোলজিস্টের দেওয়া সংজ্ঞা মতে, এটা এক ধরনের শিশু নিপীড়ন যেখানে কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বা নিপীড়নের শিকার শিশুটির চেয়ে বয়সে বড় বা শারীরিক শক্তিতে বলশালী বা শিশুটির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন কেউ নিজের যৌন উত্তেজনার কাজে কোনো শিশুকে যৌনকর্মের অংশগ্রহণের জন্য বা অনুচিত কোন যৌন আচরন করার জন্য প্ররোচিত বা বাধ্য কিংবা উৎসাহিত করে।

আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ,২০০৩ এর ১০ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন … শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন… তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন। ” আর যৌননিপীড়নের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর আর সর্বনিম্ন ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এর সাথে দোষী ব্যক্তি আথির্ক দণ্ডে ও দণ্ডনীয় হবেন।

একই আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিশুকে ধর্ষণ করলে তার জন্য শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড আর ধর্ষণের কারণে শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হতে পারে।

প্রশ্ন জাগতে পারে, শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন কোথায় হয়? কোথায় শিশুরা অনিরাপদ?

-বড়দের ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ঘটনা সাধারনত ঘটে ঘরের বাইরে এবং অপরিচিত ব্যক্তি দ্বারা। অপরপক্ষে শিশু যৌন নিপীড়ন হতে পারে সেইসব স্থানে যেখানে আমরা মনে করি শিশু সবচাইতে নিরাপদ, যেমন, ঘরে, স্কুলে কিংবা শিশু শ্রমের স্থানে।

বাল্যবিবাহকে কন্যা শিশুর উপর করা সবচাইতে প্রচলিত শিশু যৌননিপীড়ন ও শোষণ বলে অবিহিত করেছে ইউনিসেফ।
যদিও শিশু যৌন নিপীড়ের প্রায় সব গবেষণাই কন্যা শিশুকে নিয়ে, কিন্তু সামপ্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, ছেলে শিশুর প্রতি করা যৌন নিপীড়নকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই আমাদের।

সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি চারজনের একজন কন্যাশিশু ষোল বছর বয়সের আগেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, অপরপক্ষে ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে সে সংখ্যা ন্যুনতম প্রতি দশজনের একজন। ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, ইউএন উম্যান এবং ইউএনভি এর নোট-স্ট্যাটিস্টিক্স অব বাংলাদেশ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে শিশু যৌননিপীড়নের উদ্বেগজনক শতকরা হার ২২থেকে ৩৭ এর মধ্যে।

 শিশু যৌন নিপীড়নকারী কে বা কারা?
 – সহজ উত্তর যে কোনো পুরুষ, মহিলা, বয়ো:সন্ধিকালীন কিশোর- কিশোরী বা কোন শিশু ও অন্য শিশুকে যৌন নির্যাতন করতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে নারীর তুলনায় পুরুষেরা বেশি শিশু যৌন নিপীড়ন করে থাকে। অধিকন্তু নারী কর্তৃক যৌন পীড়নের ঘটনা প্রকাশ হয় না বললেই চলে, এবং অধিকাংশ সময় একে যৌন পীড়ন বলে ধরাই হয় না।

ইনসিডিন বাংলাদেশ ২০০০ এর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাণিজ্যিকভাবে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত শিশুদের প্রায় শতকরা ৬ ভাগ বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে, কারণ তারা তাদের নিজগৃহে বা পরিবারের কোন সদস্য দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হতো।

প্রতি দশজনের নয়জন নিপীড়নের শিকার শিশু তাদের পীড়নকারীকে চেনে বা জানে। এই পীড়নকারী ব্যক্তি সাধারণত শিশুর পরিচিত, পারিবারিক বন্ধু কিংবা আত্মীয়, যাদেরকে শিশু ভালোবাসে বা ভরসার আশ্রয় মনে করে। যার ফলস্বরূপ নিপীড়নের শিকার শিশু হয়তো পুরো ঘটনাটি কাউকে বলতে পারে না। অনেকসময় সে খুব দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে, বা ঘটনার জন্য নিজেকে দোষী মনে করে, ভয় পায় কিংবা ধরে নেয় কেউ তার কথা বিশ্বাস করবে না। পীড়নকারী শিশুটিকে ভয় দেখায় বা বলে সে এই ঘটনা কাউকে বললে শিশুটির পরিবার ভেঙে যাবে।

খুব কম বয়স্ক শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশু তুলনামূলকভাবে বেশি অরক্ষিত, কারণ শব্দ স্বল্পতা বা অক্ষমতার কারণে, তাদের সাথে এই ঘৃণ্য ঘটনাটি যে ঘটছে বা ঘটেছে তা তারা অন্য কাউকে জানাতে সক্ষম হয় না।
বিপিএফ ও সেইভ দ্যা চিলড্রেন এর যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের অর্ধেকই যৌন নিপীড়নের শিকার।

আবার কন্যা শিশুদের তুলনায় ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের ঘটনা অন্য কোন ব্যক্তিকে অবহিত করার হার অত্যন্ত কম। ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ছেলে শিশু তাদের নিপীড়নের কথা প্রকাশ করে না। ছেলেদেরকে হতে হবে শক্তিশালী, সে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারবে – এ সমস্ত স্টেরিওটাইপড ধারণা আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ছোটবেলা থেকেই ছেলে শিশুকে শিখিয়ে দেয়। আবার বড়রা সবসময়ই সঠিক , বড়রা কোন অন্যায় বা ভুল করে না কখনো তাই বড়দের কথার অবাধ্য না হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয় শিশুদের; যার ফলে যৌন নির্যাতনকারী অনায়াসে পার পেয়ে যায়।

যদি প্রশ্ন করি, কেন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ কোন শিশুর সাথে যৌন সম্পর্কে উৎসাহিত হয়?
 – নিপীড়নকারী কেন শিশুকে যৌন পীড়ন করে তার কোন সুস্পষ্ট কারণ জানা নেই। তবে বিকৃত যৌন চাহিদা, ক্ষমতা প্রয়োগ বা নিয়ন্ত্রণ করার অভিলাস, ব্যক্তিগত শৈশবের যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা বা ক্ষোভ এমনকি অস্থির পারিবারিক পরিবেশ – এগুলোর যেকোন কিছুই শিশু যৌন নিপীড়নকারীর নিয়ামক হতে পারে। আবার শিশু পতিতাবৃত্তি বা পর্নোগ্রাফির ক্ষেত্রে অর্থলিপ্সা হতে পারে যৌন পীড়নের অন্যতম কারণ।

কীভাবে বুঝবেন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার?

– শিশুটি নিজে থেকেই তার আস্থার কোন ব্যক্তি যেমন বাবা, মা, বড় ভাই-বোন বা শিক্ষককে কোন সূত্র বা ইঙ্গিত দিতে পারে। তাছাড়া, যৌন নির্যাতনের শিকার হলে শিশুর মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। যেমন, হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ, কিংবা চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, ঘুমের মধ্যে বিছানা ভিজিয়ে ফেলা, নেতিবাচক মনোভাব, স্কুল পালানো বা লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা। সে অল্প বয়সেই কোন যৌন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বা এমন কোন শব্দ ব্যবহার কিংবা আচরণ করতে পারে যা তার জানার কথা নয়। শিশু কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা আত্মীয়কে এড়িয়ে চলতে পারে, বা একাকি তার সাথে সময় কাটাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে। নিপীড়নের শিকার হলে শিশু শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, যৌনাঙ্গ ফুলে উঠতে পারে এমনকি সে প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়তে পারে।

শিশুকে যৌন নিপীড়ন থেকে সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবকদের কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার:

– প্রথমতঃ শিশুর সাথে খোলামেলা ও সহজ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা যাতে শিশু মনে করে সে যেকোনো বিষয়ে আপনার সাথে কথা বলতে পারে।
দ্বিতীয়তঃ শিশুকে না বলতে শেখান এবং তাদেরকে শেখাতে হবে যে তার শরীরের উপর শুধুই তার নিয়ন্ত্রণ।  আমরা বাড়িতে কেউ বেড়াতে আসলে অনেক সময় শিশুকে জোর করে সেই ব্যক্তির কোলে উঠতে বা আদর করতে বাধ্য করি যা একেবারেই অনুচিত।
তৃতীয়তঃ শিশুকে পরিস্কার করে বুঝিয়ে বলুন গোপন অঙ্গ কী এবং বাবা-মায়ের উপস্থিতি ছাড়া কারো সামনে সে গোপন অঙ্গ উন্মুক্ত করবে না।

শুধু শিশুকেই লক্ষ্য করলে চলবে না, একজন অভিভাবক হিসাবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে শিশুর প্রতি কোনো ব্যক্তি বা আত্মীয়ের অস্বাভাবিক আচরণের প্রতিও। কেউ আপনার শিশুকে অযাচিত বা বারবার কোন খেলনা, চকলেট দিচ্ছে কিনা, শিশুর সাথে একাকি সময় কাটাতে চাচ্ছে কিনা, অথবা প্রায়ই শিশুকে একা বাইরে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইছে কিনা তা লক্ষ্য রাখা খুব জরুরি।

যদি আপনি জানতে পারেন বা সন্দেহ করেন যে আপনার বা আপনার পরিচিত কোন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, নির্দ্বিধায় পুলিশকে জানান কিংবা নিকটস্থ ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে শিশুকে নিয়ে যান। শিশুসহ যেকোনো বয়সী নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় দেশে আটটি মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) ব্যবস্থা আছে। ওসিসির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশী সহায়তা, এনজিও সহায়তা, আইনী সাহায্য, আশ্রয় কেন্দ্র আর চিকিৎসা ও ডিএনএ টেস্ট এ সবকিছুর ব্যবস্থা একস্থানে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ওসিসি এর প্রদত্ত সুবিধা থেকে ছেলে শিশু বন্চিত।

আমাদের দেশে শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে আইন বলতে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ আর দেড়শত বছরের পুরানো পেনাল কোড, ১৮৬০ এর কিছু ধারা প্রচলিত। শিশু আইন , ২০১৩ মূলত আইন ভঙ্গকারী শিশুদের রক্ষাকবচ। আমাদের প্রচলিত সনাতনী আইন আর আইনের দুর্বল ব্যাখ্যার দরুণ ছেলে শিশুদের প্রতি ধর্ষণকে শুধুমাত্র যৌননিপীড়ন হিসাবে দেখা হয়, ধর্ষণ নয়। শিশুর সাথে কোন শারীরিক সংস্পর্শ বা যৌন কাযর্ক্রম না করলে তাকে যৌন নিপীড়ন বলা হয় না।

অথচ বেশিরভাগ উন্নত দেশেই শিশু নির্যাতন আইন বেশ শক্ত পোক্ত, যাতে কেউই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস্ ২০০৩ এ যে আলাদাভাবে “সেক্সচুয়াল অফেন্স এক্ট” প্রবতর্ন করছে, এই আইনে কোন শিশুর উপস্থিতিতে যৌনকর্ম করা বা তা দেখতে শিশুকে বাধ্য করা , এমনকি যৌন পরিচর্যার (গ্রুমিং) জন্য শিশুর সাথে দেখা করাকে ও অপরাধ হিসাবে অন্তভূর্ক্ত করেছে।

ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের করা ২০০৭ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে ৫৩ শতাংশ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, যার প্রতিকারকল্পে ২০১২ সালে “দ্যা প্রটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সচুয়াল অফেন্স এক্ট” প্রনয়ন করা হয়েছে। এই আইনে ধষর্নের সংজ্ঞাকে প্রবধির্ত করে লিঙ্গ- নিরপেক্ষ আইন করা হয়েছে, ফলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রতি করা নিষিদ্ধ যৌন আচরণ এখন ধর্ষণ বলে গণ্য হতে পারে। শুধু তাই নয়, শিশুর প্রতি কোন যৌন নিপীড়নের ঘটনা পুলিশকে রিপোর্ট করা না হলে সে অপরাধে সর্বোচ্চ ছয়মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

দিন দিন শিশু নিপীড়নের হার যেভাবে বেড়েই চলেছে, এখন আমাদের প্রয়োজন আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও যথাযথ প্রয়োগ। এর সাথে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত কাম্য। অসচেতনতা বা লোক লজ্জার ভয়ে হাজারো নিপীড়ন অলক্ষ্যে চাপা পড়ে যায়। যার ফলে নিপীড়নকারী পুনরায় একই শিশু বা অন্য কোন শিশুকে নিপীড়নের সুযোগ পায়।
শিশু যৌন নিপীড়ন একটি ঘৃণ্য অপরাধ। তাই শুধু নিজের শিশু নয়, আপনার বাসার শিশু শ্রমিকটির শৈশব নিপীড়নমুক্ত করতে সচেতন ও সচেষ্ট হোন। শৈশব হোক নির্যাতন আর নিপীড়নমুক্ত; শৈশব হোক অনাবিল।

——————————————–
লেখক: আইনজীবী, অধিকার শ্রমিক, গবেষক, ব্লগার ও সেক্যুলারিস্ট।

লেখাটি ১,৫৮৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.