নারীরা বোরখা পরলে আপনারাও আলখাল্লা ও পাগড়ি পরবেন

যারিন তাসনীম:

কোনো মেয়ে ধর্ষিতা হবার পর সবচেয়ে কমন প্রশ্ন যেটা থাকে সেটা হলো, “মাইয়া কী পইরা বাইরে বাইর হইছিলো?” এছাড়াও আনুষঙ্গিক আরো নানান রকমের প্রশ্ন আছে। যেমন ধরেন, “মাইয়া কি একলা একলা রাস্তায় বাইর হইছিলো?”, “ওমা! এতো রাইত পর্যন্ত মাইয়া বাইরে ছিলো?” 

তবে সকল প্রশ্ন ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে “মাইয়া কী পইরা বাইর হইছিলো”? অর্থাৎ মেয়েটা কোন ধরনের পোষাক পরে রাস্তায় বের হইছে! মেয়ে যদি পশ্চিমা পোশাক পরে, তাহলে তো বরং ভালোই হয়। কারণ ঐ যে, তর্ক করা যায়।  এইসব পোশাক পরে বের হওয়ার কারণেই ধর্ষণ হইছে এই কথাটা সহজে চাপিয়ে দেওয়া যায়। অবশ্য এসব কথা এখন পুরুষের চেয়ে পুরুষতান্ত্রিক মেয়েদের মুখেই বেশি শোনা যায়। প্রত্যেকেই তখন সুন্নতী পোশাকের বিজ্ঞাপন চালাতে বেশ আগ্রহ এবং সুযোগ দুটোই বেশি করে পান।  
ধর্মমতে মেয়েদের কনুই ঢেকে রাখা, কব্জি ঢেকে রাখা, পায়ের গোড়ালি ঢেকে রাখা, কাঁধ ঢেকে রাখা -এইসব হাদিস  বেশি করে আউরান এবং সকল দোষ যেনো ধর্ষিতার উপর বর্তাইতে পারেন তার একটা নিখুঁত চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও তখন হাদিস শোনানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। “সব দোষ ধর্ষিতার। সে কেনো একা বাইর হইলো, কেনো এই জামা পরলো, কেনো উড়না বুক থেকে সরে গেছিলো, কেনো জন্মদিনের পার্টিতে গেছিলো, কেনো মাথা নিচু কইরা হাঁটে নাই, কেনো হিজাব ঐরকম কইরা বাঁধলো?”
– এইসব শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। অনেক হইছে, থামেন এবার। তাও যদি না থামতে চান, আপনার ধর্মের দোহাই, “থামেন প্লিজ”।
ধর্ষণ এড়ানোর জন্য আপনারা উদাহরণ দেন সৌদি নারীদের। তারা আলখাল্লা পরে, নেকাব পরে, হাত মোজা, পা মোজা পড়ে। তারা ইসলামিক পোষাক পরে। তাই আপনাদের ও আর্জি যেনো বাংলাদেশের সকল মহিলা ইসলামিক পোষাক পইরা আপনাদের ঈমান রক্ষা করে।
চলেন আপনাদের ঈমান রক্ষা করতে আমরা একধাপ আগায়া আসি। ধর্ষণ এড়াইতে আমরা বোরখা পরবো, হাত মোজা, পা মোজা, নেকাব সব পরবো, কিন্তু…..। আপনারাও সৌদি পুরুষ গো মতো আলখাল্লা পরবেন। মাথায় পাগড়ি পরবেন। কি, শক খাইলেন? এ আবার কেমন দাবি! আজ্ঞে,  এটাই যুগোপযুগী দাবি। যেহেতু মেয়েরা পশ্চিমা পোশাক পরে বের হতে পারবে না,  তো আপনি বের হবেন কেনো? নিজে স্যুট, প্যান্ট, টাই পরে দিব্যি রাস্তায় ঘুরতে পারবেন, আর মেয়েরা পশ্চিমা পরলেই ধর্ষণ করবেন, তাতো হবে না বাপু। এইখানে আজাইরা যুক্তি – টাখনুর উপরে প্যান্ট থাকলেই হয়, এইসব ভুজুং ভাজুং মারতে আসবেন না।  
প্যান্ট, টাই, স্যুট বিজাতীয় ধর্মের পোষাক। অন্য কোনো গোত্রের পোষাক পরিধান করা আপনার ধর্মে মানা আছে। এই স্যুট ফ্যুটেই সমাপ্তি মেলে না আপনাদের। একধাপ এগিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্যান্টের নিচের জাঙ্গিয়া বের করে হাঁটেন এবং সেটাকে ডিজিটাল স্টাইল বলে চালিয়ে নেন। অথচ অসতর্কভাবেও একটা মেয়ের ব্রায়ের ফিতা বেরিয়ে থাকলে নাকি আপনার লালা ঝরে।  
আপনারা যেহেতু জাঙ্গিয়া দেখানোটাকে বৈধ করে নিয়েছেন, সেহেতু ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রা এর ফিতা দেখালে সেটাকেও বৈধ ভাবেই দেখা উচিত ছিলো।  কিন্তু আপনারা কুকুরের মতো লালা ঝরাতে ওস্তাদ। মেয়েদের হাতের পশম দেখলেও আপনাদের লালা ঝরে। তাই চলুন এসব তর্কাতর্কি বন্ধ করে আপনার লালা ঝরানো বন্ধ করি।  আজ থেকে আপনারা আলখাল্লা আর পাগড়ি পরেন, আমারও বোরখা, নেকাব পরবো।  ময়েরা গরমে নেকাব আলখাল্লা পরে ঘুরবে আর আপনি শার্টের বোতাম খুলে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবেন, তাতো হয় না। আপনিও মেয়েদের মতোই সুন্নতি পোষাক পরুন।  
বিশ্বাস করেন,  এতোদিন যে, বুলি আউরাইতেন – “সুন্নতি পোশাক পরে ধর্ষণ এড়ানো সম্ভব, উন্নত, আধুনিক জীবন যাপন সম্ভব”- এইসব বুলি আপনার আলখাল্লার নিচ দিয়া ঘামের সঙ্গে ঝইরা মাটিতে মিশে যাবে এবং কিছু বুলি আপনার পায়ুপথ দিয়াও বের হবে। 
শেয়ার করুন:
  • 472
  •  
  •  
  •  
  •  
    472
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.