কোনো টালবাহানা না, এক কথা, বিচার চাই

0

রুখসানা কাজল:

চরিত্রহীনা,বেশ্যা, বেয়াদব, বাজে মেয়েমানুষ, ছেনাল, দু পয়সার মাগী, সস্তা, লোভি, ছলনাময়ী আরো আছে এরম অনেক মধুর মধুর অনেক বচন আছে কেবল নারীদের জন্যেপৃথিবীর প্রতিটা নারীকে জীবনের কোনো না কোনো সময় এই শব্দগুলোকে  শুনতে হয়েছে বা এখনো শুনতে হচ্ছে। তাতে কচু হচ্ছে। এই শব্দগুলো এখন পচে গেছে। বাতিল। তাই অগ্রহ্যেরএগুলোতে  তেমন আর ক্ষার নেই তবু বনানী থানার ওসি আরো একবার এসব বলে নারীজাতিকে আরেকবার কচলে নেওয়ার চেষ্টা করলো। ওসি সাহেব জানে না উনার ঘরের এবং পরের নারীরা এগুলো দিয়ে এখন ইয়েও পোঁছে না। 

কথা হচ্ছে কেন, কী জন্যে, কটার সময়, কার সাথে মেয়েরা বাইরে যাবে, খাবে, আড্ডা দেবে, শোবে, থাকবে, ফিরবে, তার হুজুরাতি করার খবরদারি কি ওসি সাহেবকে দিতে হবে? বেশ উঁচু উঁচু পোষ্টে কয়েকজন আত্মীয়, বন্ধু পুলিশকর্তাকে জিগাইছি, তারা হাসি গিলে বলেছে, ছাড়ান দাও তো। তদন্ত তো হচ্ছে , ওদের ধরা হবেই। তা ঠিকঠেলায় পড়ে  তদন্ত তো হচ্ছেই। এরমধ্যে উড়ো খবর , লাখ লাখ টাকা তেজপাতার মত উড়ে যাচ্ছে। আচ্ছা না হয় তাও উড়ুকদিলদার সাহেব বড় দিলতাজ  মানুষ। মহা আধুনিকও বটে। ছেলে যে বিয়ে শাদি, সমঝোতা করে নারীভোগী, ইয়েবাসেবী সব তিনি জানেন। সাফায়াতের কি ভাগ্যি ভাই। এমন “আমার আব্বা সব জানে” টাইপ কামিল বাপ পেয়েছে। তা এমন বাপের টাকা লুটে যাক, চুষে নিক, ধেতায় যাক, পকেটে আসুক, ড্রয়ারে জমুক তাত আমাদের কি ! আমাদের প্রশ্ন, কোথায় তিন ধর্ষকপুত্ররা ? কেনো এখনো তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না?  

পত্রপত্রিকার খবরে প্রকাশ, প্রথমে অজ্ঞাত পিতার জারজ সন্তানেরা পরে সংজ্ঞায়িত পিতার আদরের পুতরা মায়ের আঁচলের নিচে  দুধু খাচ্ছে ওদের মা কসম। পঁচিশ লাখ টাকার দিব্যি, পুলিশ কিস্যু জানে না। ওদিকে ধর্ষক ছানাদের বাবারাও নেমে পড়েছে  ফিল্ডে। কোটি  কোটি টাকা কামাই করে  এমন ছেলে বানাইছ ভায়া, এবার এদের উদ্ধারের দায়িত্বও ত তোমাদের আব্বাহুজুরসাফায়েত তো আবার পরহেজগারি বেজায় নামাজীপ্রতি জুম্মার নামাজ পড়ে বাছুর সাকিফকে সাথে নিয়ে দিলদার সাহেবের দিল বড় সাফ। কেবল উনার ছেলেই চরিত্রহীনা মেয়েদের বিয়ে করে সমঝোতা করে ধর্ষণে ক্ষতি কি!  যা করে সব চরিত্রহীনারা করে সাফায়েত কেবল ঠোকা দিয়ে যায়, এরে কি ধর্ষণ কয় ! কি সোনামোনা চাম্পু ছেলে রে 

আর অই নাঈম আশরাফ, পিতা অজ্ঞাত। মিডিয়ার কি চরম পক্ষপাত, কি মুগ্ধ ঠিকেদারি আনুগত্য, ভাবা যায় ! কিছুতেই এই  ধর্ষকের পিতামাতার পরিচয় ওপেন করছে না। অথচ এইই ধর্ষক চূড়ামণি। গুল্লুমুল্লু সাকিফ যে কিনা বন্ধুর বেশে মাগী পাচারের দালাল, টাকা আর ক্ষমতার কাছে নিজের বন্ধুদের ধর্ষিত হতে দিয়ে ঘরে ফিরে যায়

প্রশ্ন জাগে মনে, তার কি পুরুষ জন্ম ? এ তো যে কোনো সময় ক্ষমতা আর টাকার জন্যে নিজের মা, বোন, প্রেমিকা, বউ, খালা, ফুপুকেও ভাড়া দিতে পারে। একাত্তরে এর মতো রাজাকাররাই পাকিস্তানি আর্মির কাছে বাঙ্গালী মেয়েদের ধরে ধরে দিয়েছিল ধর্ষণ করার জন্যে। ভাল ব্যবসা। বয়স তেইশ হলে কি হবে একেবারে গোলাম আজমি বুদ্ধি। খাইয়ে পরিয়ে বাবা মা ঝাড় বংশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। সোনার ছেলে এর বাবা আবার বলছে , আমার ছেলে তো ধর্ষণ করে নাই। তাতো ঠিক , ধর্ষণ করে নাই, কিনতু করাইছে। করাইয়ে আবার চেপে যেতে বলেছে। ঝানু ব্যবসায়ি। বাপের তাজ।   

এগুলো দেখেই কি এরা বেড়ে উঠেছে? এদের বাবা মা টাকা উপার্জন করেছে দুহাতেসন্তান সেই টাকা উপায়ের সুলুকগুলো  জেনে নিয়ে বড় হয়ে ভোগ করছে। সামান্য সন্মানবোধ, নৈতিকতার শিক্ষা  যদি এদের বাবা মা পরিবার থেকে এরা পেতো তবে কি এরা এসব করে বাবা মার কাছেই আবার ফিরে যেতে পারতো? পায়নি আর পায়নি তার প্রমাণ হচ্ছে এদের বাবাদের বড় গলায় কথা বলা। কতখানি নির্লজ্জ হলে এই বাবারা তাদের ধর্ষক পুত্রদের পক্ষে সাফাই দিতে পারছেআপনি আমি আমরা কি পারবো এমন বেহায়া বাবা মা হতে? এদের  ঘর হচ্ছে অনৈতিকতার সূতিকাগার।

আচ্ছা এদের মায়েদেরও তো যৌন অঙ্গ আছে, বোন বা খালা, ফুপুরাও তো যৌনাঙ্গ নিয়ে এদের আশেপাশে কাছে ঘুরছে, খেতে দিচ্ছে, এদের লুকিয়ে রাখছে। ঘিনঘিন করে উঠে না আপনাদের ধর্ষক পুত্র, ভাই, আত্মীয় নাঈম, সাফাত, সাকিফকে দেখে ? নাঈম, সাফায়েত, সাকিফের মা, বোন, খালা, ফুপু আপনাদের ঘেন্না করছে না ?

এরমধ্যে আইন ভালো করে শিখে নিয়েছে এদের আব্বাজানরা। শুনলাম সাফাতের আব্বা বলছে, ধর্ষণ তো দুএকদিনের ভেতর প্রমাণ করতে হয়! প্রমাণ না হইলে আমার ছেলে ত গিলটি না। তা কথাটি সত্যি। ধর্ষণের পরেই  মেডিকেল চেক্‌ আপ না করালে  আলামত নষ্ট হয়ে যায়। উকিল আর পুলিশের কাছ থেকে ভালো করেই জেনে নিয়েছে একদিনের ভেতর। কতদূর চতুর এই বাবা ব্যক্তি। ধর্ষক জেনেও ছেলেকে সে বাঁচাবেই।  ব্যক্তিগত আলাপে উচ্চপদস্থ পুলিশ আত্মীয়টি জানালেন, প্রায় পনেরদিন হয়ে গেছে এখন ধর্ষণ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যাবে। তবে  ডিএনএ পরীক্ষা বলে একটা  পরীক্ষা আছেতাতে ধর্ষণ প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু ততোদূর কি এই মামলা যেতে পারবে ?  দেশের সব উকিল তাদের মেয়ে, বোন, স্ত্রী, মায়ের দিকে তাকিয়ে যদি এদের পক্ষে মামলা না নিত তো বেশ হতো। জানি তা হবে না।  

দুটি ছাত্রী সাহস করে বলে দিয়েছে। লজ্জা ,ভয়, সন্মানকে তুচ্ছ করে ওরা লড়াইয়ে নেমেছে। আমরা আছি পাশে। কিসের লজ্জা? ধর্ষকের পিতা, মাতা, পরিবার যদি অন্যায় জেনেও তাদের ধর্ষক পুত্রদের সমর্থন, সহযোগিতা দিয়ে যেতে পারে তো আমরা আছি  ন্যায়ের দাবিতে। শাস্তি আমরা চাই ই চাই।

সুদীর্ঘ বছর পরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। একমাত্র  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছাড়া আর কোন অন্যায়ের বিচার করতে পেরেছে এই সরকার? তনিমার মত একটি মেয়ে বিচারহীনতার শিকার হয়ে মাটি হয়ে গেলো। সাগর রুণি এখন স্মৃতি মাত্র। বিচারহীনতার এক জঘন্য উদাহরণ রেখে যাচ্ছে এই সরকার। জনগণ মনে রাখবে। মনে রাখব আমরাও। এবার একটি ভোট পেতে আওয়ামী লীগকে ঘাম ঝরাতে হবে। এত এত অন্যায় ফুলেফেঁপে উঠেছে যে সরকারের উপর আস্থাহীনতা জনগনকে হতাশ করে তুলেছে। কথাটি মনে রাখবেন সরকার এই ধর্ষকরা আপনাদের ক্ষতি করছে।

লড়ে যাও মেয়েরা। সামনে এসে দাঁড়াও। চরিত্র কেবল শিশ্ন আর যোনীতে থাকে না। ধর্ষকের যদি লজ্জা না থাকে তো তোমাদের কেনো থাকবে? তোমরা তো সাহসি মেয়ে আমাদের। গলা খুলে বিচার চাও। আমরাও চাই। আসুন এই পরিণতি আমার আপনার মেয়েরও হতে পারে। আজ যদি বিচার না হয় তো কাল আমার আপনার মেয়ের ক্ষেত্রেও কিন্তু বিচার হবে না।  তাই এখুনি

আসুন গলা খুলে বলি, নাঈম, শাফায়েত, সাকিফের বিচার চাই। সরকার তুমি জেগে উঠো, ন্যায়বিচারের সঙ্গী থাকো।  

লেখক/ কলাম লেখক: জনকন্ঠ 

লেকসার্কাস, উত্তর ধানমন্ডি , কলাবাগান।

 

লেখাটি ৩,৫২২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.