এই ‘ধর্ষক’ সাংবাদিকদের নিয়ে আমরা কী করবো?

0

নাদিয়া শারমিন:

মনে করুন আপনার মা/বোন/মেয়ে/বান্ধবী আকস্মিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এলাকা বা বাড়ির কারো কাছে বিষয়টা এখনও প্রকাশ পায়নি। এ অবস্থায় আচমকা এক সাংবাদিক (!) গিয়ে বললো, এ বাড়িতে ধর্ষিত হয়েছে কোন মেয়েটা? অমুক নাম, অমুক প্রতিষ্ঠানে পড়ে…।

পরবর্তী পরিস্থিতিটা ভাবতে পারছেন? সারা বাড়ির সব ফ্লাটে মুহুর্তের মধ্যে ঢোল পিটিয়ে খবরটা জানানো হবে। সবার চোখ চাওয়াচাওয়ি, মেয়েটা বের হলে তার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকা, আহা উহুর ছলে তাকে-তার পরিবারকে ক্রমাগত প্রশ্নের মুখোমুখি করা।

এসবই কি মেয়েটাকে আবারও ধর্ষণ করা না? ভেবে দেখেছেন? ভেবে দেখার মতো ঘিলু আছে আপনার? নাকি ওটাও যৌনবিকৃত চিন্তা করতে করতে…? এমন দুর্গন্ধযুক্ত মনমানসিকতা নিয়ে কতো পেশাতেই তো যেতে পারতেন।সাংবাদিকতায় আসার কি দরকার ছিল? নিজের অপমানবোধ নেই বলে টের পাচ্ছেন না বোধ হয়- এসব কথা শুনে আমরা বাকি ছাপোষা সাংবাদিকরা মরমে মরে যাচ্ছি।

সাংবাদিক তৈরির কারখানাগুলোতে প্রতিবছর হাইব্রিড/ব্রয়লার মুরগীর ডিম ফুটে তৈরি হচ্ছে আপনাদের মতো একেক জন অকালকুষ্মাণ্ড। আর মোটাতাজা ফাঁপা সেই সস্তা ব্রয়লার দিয়ে চিকেন গ্রিল বানিয়ে ঝুলিয়ে লোভ দেখাচ্ছে সেই সংবাদ দোকানদাররা। বিনিময়ে বোকা দর্শকরা নিজেদের বিক্রি করে কখনো কিনছে ধর্ষক, কখনো নির্যাতক, কখনো ক্ষমতাবান দুর্নীতিবাজ, কখনো অপরাধীদের নীতিকথার বর্জ্য, দিচ্ছে দায়মুক্তির পথ। আর সেগুলো বিক্রি করে দুদিক থেকেই পকেট ভরছে সংবাদ ব্যবসায়ীরা। মাঝখান থেকে কিছু ছাপোষা আদর্শবাদী সাংবাদিক ‘সাংঘাতিক’ বদনাম নিয়ে ছটফট করে মরে।

সংবাদ ব্যবসায়ীদের প্রতি সর্নিবন্ধ অনুরোধ, দয়া করে পেশাটিকে ডাস্টবিন বানাবেন না। ব্যবসার জন্য তো কত পথই পড়ে আছে! আমাদের পেশাটিকে রেহাই দিন। হাতজোড় করে বলছি-এমন সংবাদ ধর্ষক তৈরি বন্ধ করুন।
আর এসব সংবাদ ধর্ষকদের বলি-আপনাদের তো জন্মদাত্রীও বোধহয় আপনাদের হাত থেকে নিরাপদ না! তাই না…?

কূপমণ্ডুক এবং অসুস্থ চিন্তাধারা নিয়ে বেড়ে ওঠা এ এমন এক সমাজ আমাদের যেখানে একটা ভাষ্কর্য পর্যন্ত কামুক নজর থেকে রক্ষা পায় না। কবর থেকে লাশ উঠিয়ে পর্যন্ত ধর্ষণ করা হয় নারীকে। ৪/৫ বছরের বাচ্চা পর্যন্ত রেহাই পায় না ধর্ষণ থেকে! তবু ধর্ষিত হওয়ার দায় চাপে নারীর ঘাড়েই। হোক সে বাচ্চা, লাশ , ভাষ্কর্য-নারী তো! ওটাই বড় পাপ। আজন্ম পাপ। নিঃসন্দেহে পাপ। ঐ পাপের বোঝা বহন করেই সে নারীদেরই একজন আপনার মত জানোয়ারকে জন্ম দিয়েছে। এরচেয়ে বড় পাপ আর হয়?

যতদিন আপনাদের জন্ম দিতে থাকবে তারা -ততদিনই এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে যেতে হবে নারীকে। ততদিন ধর্ষণের অপরাধে ধর্ষক নয়, সাজা পাবে ধর্ষিতা। বিচার পাওয়ার বদলে জবাবদিহি করবে ক্রমাগত, কেন ধর্ষিত হল। বারবার ধর্ষিত হতে থাকবে আপনাদের প্রশ্নের মুখে, সন্দেহভরা চাহনির মুখে, নির্বোধদের ধিক্কারের মুখে। কারণ ভ্রূণ থেকে আপনাকে পৃথিবীতে আনার পরপরই আপনার মা জানোয়ার চিনতে পারেননি। বিষ খাইয়ে মারতে পারেননি আপনাকে…আপনাদের মত ধর্ষকমনাদের। যাদের কেউ সরাসরি ধর্ষক, কেউ সুযোগের অভাবে মনে মনে ধর্ষক। এ তো অনেক বড় পাপ।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 349
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    349
    Shares

লেখাটি ২,৫৩০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.