পুরুষ, “না” এর অর্থ জানো

0

ইফতিয়ার সুমন:

বাংলাদেশীরা কথায় কথায় ভারতকে ধর্ষণের রাজধানী বলে নিজেদের বড্ড নারীবান্ধব হিসেবে প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে আমার মনে হয় না এমন কোনো দিন যায়, যেদিন শখানেক মেয়ে রেইপড না হয়। সংখ্যাটা আরও বেশি হবে। কম হবে না। 

এই রেইপগুলার ৯০%ই মিডিয়াতে আসে না। যেইগুলা আসে, সেইগুলা নিয়া দেশের এক সারির জনগণ হাউহাউ করে, ফেসবুকে বড় বড় স্ট্যাটাস মারে, বেশি কিছু হইলে মানববন্ধন কইরা মোমবাত্তি জ্বালায়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে। আর অপর পক্ষ মাশাল্লা, ঘুরায়ে ফিরায়ে ঐ ধর্ষণের দায় মেয়েটার ঘাড়ে চাপাতে থাকে। এরা প্রত্যেকটা মলেস্টেশনের পেছনে মেয়েদের পোষাক, চলাফেরাকে দায়ী করে এদের আদর্শিক আব্বা তেঁতুল শফির তেঁতুল তত্ত্বের আইডিয়া ফলো কইরা।

তাই ক’দিন পরপর খবরে আসে তনুদের নাম। আমরা সেই মোমবাত্তি পর্যন্ত যাই। তারা মেয়ের কাপড় পর্যন্ত যান। কিন্তু ধর্ষন কমে না। ধর্ষিতার সংখ্যা বাড়তে থাকে দিনকে দিন। এইভাবে ধর্ষণ কমবেও না। ধর্ষণ কমাইতে হইলে প্রত্যেক ঘরে ঘরে ছেলে সন্তানদেরকে বুঝাইতে হবে, কনসেন্ট আর কনফ্রন্টের মানে। কারণ ধর্ষণের জন্য, মেয়ে বা মেয়ের কাপড় দায়ী থাকে না, থাকে ছেলে, ছেলের লাম্পট্য আর ঘর থেকে ছেলেকে দেওয়া শিক্ষার অভাব।

আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ একজন ছেলেকে বুঝতে শেখার আগেই বুঝায় “তুমি সুপিরিয়র, তাই তোমার সাত খুন মাফ”। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই উল্টাটাই ঘটে। যত দোষ, মেয়ের ঘাড়েই পরে। ছয় বছর বয়সী মেয়ে যদি চাচার দ্বারা মলেস্টেড হয়, তাইলেও দাদি-নানিরা দোষ ঐ বাচ্চার মধ্যেই খুঁজে পায়।

এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। ছেলেদের বোঝাতে হবে তোমরা সমাজে সুপিরিয়র নও। একটা মেয়ে আর তুমি সমাজের জন্য সমান। মেয়েরা তোমার থেকে কোন দিক দিয়ে কম তো নয়ই, বরং অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে।

এইরকম শিক্ষা দেওয়া যদি যায়, তাহলে আপনার ছেলে সন্তানের মাথায় অন্তত “ও মেয়ে মানুষ, কি আর করবে যদি ওকে রেইপ করি।” টাইপ চিন্তাধারা আসবেনা। ছেলেকে শিখাতে হবে  “না” মানে কি।

প্রত্যেকটা ছেলেকে তার ঘরে বুঝাতে হবে “না” শব্দের অর্থ। বুঝাতে হবে “পেনিট্রেশন”ই পুরুষত্ব না। নিজের যৌনাকাঙ্ক্ষা সংবরণ করাই পুরুষত্ব।  একটা মেয়ে যখন ছেলেকে না বলবে, ছেলেকে তখন থেমে যেতে হবে, এই শিক্ষা দেওয়া লাগবে ঘরে ঘরে।

“না” শব্দটা বড্ড ছোট। কিন্তু এর অর্থ খুবই পরিষ্কার। “না” মানে “না”। “না” মানে আপনাকে থেমে যেতে হবে। “না” মানে আপনাকে নিজের যৌনাকাঙ্ক্ষাকে সংবরণ করতে হবে।

সেই না’টা শর্ট স্কার্ট পরা কোন মেয়ে বলুক, রাতের বেলা পার্টিতে গিয়ে মদ গেলা মেয়ে বলুক, আপনার সাথে হাসিমুখে কথা বলা বান্ধবী বা কলিগ বা ক্লাসমেট বলুক, আপনার সাথে যখন তখন বিছানায় যাওয়া আপনার গার্লফ্রেন্ড বলুক, হাজার পুরুষের সাথে বিছানায় যাওয়া যৌনকর্মী বলুক কিংবা, কিংবা আপনার নিচে হাজারবার দুই পা ফাঁক করে শোয়া আপনার বউ বলুক, না এর অর্থ ক্লিয়ার। আপনাকে থামতে হবে।

নারীর নায়ের পরেও যদি আপনি আগে বাড়েন, তাইলে আপনি ঐখানেই মানুষের শ্রেনী থেকে খারিজ হয়ে গেলেন।

এই শিক্ষা যতদিন ঘরে ঘরে না দেওয়া হবে ততদিন আমি আশা দেখি না।

আর এই বিষয়ে কেউ ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখাইতে আসবেন না। কোন ধর্মই ধর্ষিতার পাশে দাঁড়ায় না। সবাই ধর্ষককেই সুরক্ষা দেয়।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 479
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    479
    Shares

লেখাটি ২,০৪০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.