পৃথিবীর সব ধর্ষকের বাবাদের একই চেহারা কেন?

0

মারজিয়া প্রভা:

তা দিলদার আহমেদ! আপনি হচ্ছেন বাবা! আপনি তো ছেলের পক্ষে সাফাই গাবেন। এটা স্বীকার আপনি করে নিয়েছেন কিন্তু বলেন তো, পৃথিবীর সব ধর্ষকের বাবা একই চেহারার হয় কেন?

এই যেমন আপনি আপন জুয়েলার্সের মালিক। আপনার মতো আরেকজন প্রভাবশালী বাবা ছিলেন আমেরিকাতে! তিনি হচ্ছেন বিখ্যাত সাঁতারুর ব্রুক টার্নারের বাবা। তার ছেলে এরকমই এক পার্টিতে এক মদ্যপানে অচেতন মেয়েকে ডাস্টবিনের পেছনে ধর্ষণ করে। আপনার মতোই ওই বাবা বলেছিল, “২০ মিনিটের একটা কাজের জন্য ছেলের আর যাই হোক জেল হতে পারে না”।

সেই কথার সুর আপনার মুখে। যেমন আপনি এখন পত্রপত্রিকায় আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করছেন, “এক মাস পরে কী করে ধর্ষণের মামলা হয়?”

আর আপনার এই কথা শুনে অনেকেই নাচছেন, ২৮শে মার্চ ধর্ষণ হলো মামা। মেয়ের হঠাৎ ৪০ দিন পর মামলা করার কথা মনে হলো। ফাইজলামির লিমিট আছে একটা!

আগে জানান, নিজে জীবনে কতবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন? কতবার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনাঙ্গে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে? তাইলে একজন ভিকটিমের যন্ত্রণা আপনি কিভাবে বুঝবেন? কি করে বুঝবেন কেন এক মাস লাগলো তার? এক মেয়ের অনিচ্ছায় তার শরীরের ভেতর পেনিট্রেশনের যন্ত্রণা শুধু তো শারীরিক নয়! মানসিকও!

একটা মামলা করতে প্রমাণ লাগে। তার চাইতেও বড় হলো সাহস লাগে। থানায় কি নিজের শরীরের ধর্ষণের আলামত দেখানোর চাইতেও বড় কঠিন হচ্ছে ধর্ষণ এর খুঁটিনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করা। ধর্ষণের পরেরদিন সব মেয়েই কি পারবে ওই ভয়ংকর কথাগুলো পুলিশের সামনে গড়গড় করে বলতে? তার জন্য একটা মানসিক শক্তি দরকার। একটা প্রস্তুতি দরকার।

এক মাস তো অনেক কম সময়। অনেক মেয়ে বছরের পর বছর ধর্ষণের বিষয়ে ট্রমাট্রাইজড থাকে। কোনদিন মুখই খুলতে পারে না! আর আপনারা তো হচ্ছেন প্রভাবশালী! আপনার গুণধর ছেলে সাফাত ভিডিও করে রেখেছে। হয়ত হুমকিও দিয়েছে! ফালাফালি করলেই, ভিডিও ভাইরাল করে দিব।

কিংবা আপনার গুণধর ছেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন কি না সেটাও খোঁজ নিন!

সেক্ষেত্রে একটা মেয়ের এক মাস সময় লাগতেই পারে এটা মেনে নিতে, “যা হওয়ার হোক। আমি লড়াই করব”। ভিডিও ভাইরাল করলে, কতজন তার নগ্ন শরীর দেখতে পারে সে ব্যাপারেও মানসিক শক্তি গ্রহণ করতে হবে।  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করার হিম্মত অনেকের সারাজীবনেও হয় না!

কিন্তু এক মাসের মাথায় তো তাদের হয়েছে। তারা মামলা করেছে। বেশিরভাগ ভিক্টিম সেটা কোনদিন করতে পারে না বলে আপনাদের মত বাবারা দীর্ঘদিন ঘরে সাফাতের মতো শুকরছানা পুষে রাখতে পারছেন। আপনি ছেলের পক্ষে সাফাই না গেলেও, ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন। এবং এই মামলা কয়দিন পরে লোকে ক্যোঁৎ করে গিলে ফেলবে। ধর্ষক পার পেয়ে যাবে

ব্রুক টার্নারের মাত্র ছয় মাস জেল হয়েছিল। আপনাদেরও অমন কিছু শাস্তি ফাস্তি হতে পারে। কিন্তু সব শাস্তিই আসলে অর্থহী,ন যতক্ষণ না আপনার ছেলে না বুঝবে যে সে কী অন্যায় করেছে! আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, আপনি কি কোনদিন সৎ মানুষ এবং আসল বাবা হয়ে ধর্ষক ছেলের বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়ার কথা ভাববেন?

নাকি ওই সেই ভিক্টিম ব্লেমিং চলবে? দুজনের সম্মতির কথা চলবে? ছেলেকে মিথ্যা ফাঁসানোর কথা চলবে?

পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ষকের বাবারা তো তাই করে আসছে!  

লেখাটি ৯,৭২০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.