ধর্ষণ: প্রতিরোধটাই জরুরি এই মুহূর্তে

0
সালমা লুনা:
মেয়ে দুটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তাদেরই এক ছেলেবন্ধুর জন্মদিনে দাওয়াত পেয়েছে। যাবে না বলায় বন্ধু আঠারো বার ফোন করেছে। বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে ড্রাইভার দিয়ে। অবশেষে বন্ধুদের আগ্রহ এবং ভদ্রতা হেতু তারা পার্টিতে গেছে। 
এরপরের ঘটনায় বদলে গেছে তাদের জীবন।
বন্ধু শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছে। রাজী না হলে পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়েছে, মেরে লাশ ফেলে দেবে এমন জায়গায় যে কেউ খুঁজেও পাবে না। এমনকি পুলিশের কাছে গেলেও লাভ হবে না।
অতপর ধর্ষণ। এখানেই শেষ নয়, আরো দুই বন্ধু এবং ড্রাইভারের সহায়তায় ভিডিও ধারণ।
ঘটনা ২৮ মার্চের। তাদেরকে চেপে যেতে বলা হয়েছিলো। তা না হলে তাদেরই বদনাম হবে, নয়তো লাশ হতে হবে। উপর্যুপরি ফোনে হুমকি ধমকি তো ছিলই। একমাসেরও বেশি সময় ধরে চেপেই রেখেছিলো তারা। তবুও নানান হুমকি ধমকি পেয়ে মেয়েরা আর চেপে রাখেনি। তারা বেশকিছু দিন পর হলেও পুলিশের কাছে গেছে। 
তবে ধারণা বা আশংকা করি মেয়েদের পক্ষে হয়তো ঘটনা থাকবে না, কেননা ছেলেদের মধ্যে একজন টাকাওয়ালা লোকের সন্তান। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে। অপরজনও ‘প্রভাবশালী নেতা’র ছেলে, যার নাম মিডিয়ায় আসছে না। সুতরাং তার প্রভাব-প্রতিপত্তিও আমাদের বোধগম্য।
আরো আছে। 
মেয়েদের দোষ আছে। যেহেতু তারা রাতবিরাতে ছেলেবন্ধুর সাথে হোটেলে পার্টি করতে গিয়েছে, তাই তারাই ফেঁসে যেতে পারে। অন্তত আমাদের মানসিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তাই বলে। 
এ প্রসঙ্গে বেশি কথায় না যাই। 
ঠিক একই রকম কাহিনী নিয়ে একটি হিন্দি সিনেমা আছে – পিঙ্ক। যাতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি ছবিতে একজন উকিল। নির্যাতিতা মেয়েটির পক্ষে ওকালতি করে তিনি মেয়েটিকে শেষে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেন।কিন্তু জীবন তো সিনেমা নয়। এখানে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন না হলেও পরিস্থিতির জন্য অনেককিছুই বদলে যায়।
বচ্চন সাহেবের চরিত্রটির মুখ দিয়ে কিছু কথা বলানো হয় যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং হালে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার খানিকটা এমন —
একটা মেয়ে একটা ছেলের সাথে যেকোো সময় যেকোনো জায়গাতে যেতেই পারে। মেয়েটি যেকোনো ধরনের পোশাক পরতে পারে। এমনকি চাইলে স্বেচ্ছা সম্মতিতে সেক্সও করতে পারে। তবে মেয়েটা যদি তার কাছে আসতে দিতে না চায় তাহলে কাছে যাওয়াটা অন্যায়। সে যদি শারীরিক মেলামেশাতে না বলে তাহলে সেটি না-ই হবে, হ্যাঁ হবে না। এবং সেটাকে মানতে হবে। তা না হলেই সেটাই অন্যায়। কথাগুলো কিছুটা এমন।
ধর্ষকামী পুরুষ আসলে এই ভদ্রসভ্য কথাগুলোর মানে বোঝে – এ বিষয়ে আমার বিস্তর সন্দেহ আছে। তাই আমি মেয়েদেরকেই কিছু বলতে চাই। 
না, আমি বলবো না যে বাইরে যাওয়া যাবে না,বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়া মানা, রাতে পার্টিতে যাওয়া যাবেই না। বরং বলবো, প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েরা নিজের নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখেই চলাফেরা করবে, করতেই হবে। তবে নিজের সুরক্ষার জন্য কিছু ব্যবস্থা তো করা উচিত। যেমন কোনো বন্ধু সম্পর্কে ভালো করে জানা না থাকলে সেই বন্ধুর দ্বারা  রাত কেন , দিনেও  নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। 
সেক্ষেত্রে যাবার আগে কাউকে জানিয়ে যাওয়া, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কোন অস্ত্র  (পিপার স্প্রে ,ছোট ছুরি , স্প্রে) সাথে  রাখা। আত্মরক্ষার কোনো কৌশল শিখে নেয়া এবং তার বাস্তবে প্রয়োগ করতে জানা – এসব খুবই  জরুরি। ড্রিঙ্কস বুঝেশুনে পান করা। যাতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে না পারে।
সম্ভব হলে নিকটবর্তী থানার নাম্বার জেনে নেয়া। 
মনে রাখতে হবে ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কে না জানে , প্রিভেনশন ইজ বেটার – অলওয়েজ বেটার।
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 692
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    692
    Shares

লেখাটি ৩,৭৪২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.