‘মিডিয়ার মেয়ে’দের প্রতি দেখার চোখটা পাল্টান

0

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি:

মিডিয়ার মেয়ে মানেই কলগার্ল, চাইলেই তাকে বিছানায় পাওয়া যায়- এরকম একটা বিশ্রী ধারণা দেশে-বিদেশে সবখানে আছে। আজকে ভারতের টালিউডের একজন অভিনেত্রীর কাজে আনন্দিত হলাম। অভিনেত্রীর নাম প্রিয়াংকা। তিনি বাংলাদেশের এক ডিরেক্টরের সিনেমায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ প্রযোজনায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ পরিচালকের অপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে তিনি বলে দিয়েছেন- তিনি সিনেমা করবেন না। সমস্ত স্ক্রিনশট ফাঁস করে দিয়ে তিনি বলেছেন- পরিচালকের অপেশাদারসুলভ আচরণে তিনি বিরক্ত ও বিব্রত।

আমরা মেয়েরা প্রতিনিয়ত এই আচরণের সম্মুখীন হই, যত্রতত্র দেখি। যেহেতু তুমি একজন পুরুষের সাথে কাজ করছ, কাজেই তোমাকে তোমার মেধার পাশাপাশি একটি নতুন বিনিয়োগ যোগ করতে হবে, সেটা হচ্ছে- তোমার শরীর!
এই শরীর দেখিয়েই তোমাকে সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিতে হবে। কি টিভি পর্দায়, কি স্ক্রিনের আড়ালে। স্ক্রিনের আড়ালের খেলাটি বড় কুৎসিত। মডেল তিন্নি, মডেল রাফা- এদের লাশগুলি সেই সাক্ষী। আসামীদের কি হয়েছে তা পুলিশ বাহিনীই বলতে পারবে!

অপু বিশ্বাস নামের মেয়েটিকে মিডিয়ার সামনে বাচ্চাসমেত হাজির হওয়ায় যতই গালি দেন, অস্বীকার করতে পারবেন না যে শাকিব খানের মতন স্বামীরা বীর্যস্খলনের এসব সুবিধা দেখেই নিজেদের ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে, বাচ্চা বন্ধক নিয়ে মেয়েগুলিকে চুপ করিয়ে রাখে। এরপর সুযোগ বুঝে চিরতরে চুপ করিয়ে দেয়! আর চুপ করিয়ে দেওয়ার পর দাবিও করা যায়না সে ব্যবহৃত নাকি পরিত্যাক্ত। বরং পরিবারের তরফ থেকে কিছু বলতে গেলেও মৃতদেহটির গায়ে লাগে ‘বেশ্যা’ তকমাটি।

অভিনন্দন প্রিয়াংকা! আপনি পেরেছেন! মিডিয়ার মেয়ে মানেই খারাপ, মিডিয়ার মেয়ে মানেই ‘চাহিবামাত্র শরীর দানে বাধ্য থাকিব’, মিডিয়ার মেয়ে মানেই নষ্ট ও উচ্ছিষ্ট নয়। একজন অভিনেত্রীর অভিনয় প্রতিভার নিদর্শন খানিকটা টাকার বিনিময়ে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু শরীরটা সেখানে ফ্রি নয়- এই শিক্ষা ভিক্ষা নেওয়ার কথা এইসব ডিরেক্টরদের মনে থাকবে তো?

এবার আসুন দেখি, প্রিয়াংকা নিজে কী লিখেছেন? 

আজ আমি আমার সকলের সাথে একটা ব্যাপার শেয়ার করতে চাই সেটা হচ্ছে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আমি ঢাকা গিয়েছিলাম আমার প্রথম বাংলাদেশী ছবি “হৃদয় জু‌ড়ে”-র শুটিং করতে এবং সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশে আমার প্রযোজনা টিম, সহশিল্পী সহ সকলের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু এত কিছুর পরেও অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে এই ছবির পরিচালক Rafique Sikder চূড়ান্ত অপেশাদার একজন মানুষ। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারি শ্যুটিং এগোচ্ছে ধীর গতিতে। বাংলাদেশের শিডিউল শেষ হলেও আমার সিনগুলো শেষ করতে পারেননি পরিচালক উনারই পেশাদারিত্বের অভাবে।

প্রিয়াংকা সরকার, অভিনেত্রী

অকারণেই উনি শুটিং-এর সময় আমার সাথে কাজের বাইরে অন্যান্য বিষয় নিয়ে গল্প করতে চাইতেন। সময়ে-অসময়ে মেসেজ করতেন নানা রকম। যেগুলো কাজ সংক্রান্ত নয়! মানে বাড়তি অ্যাটেনশন পাওয়ার চেষ্টা এবং অনেক সময়েই আমি এর প্রতিবাদও করেছি কিন্তু তবুও উনি নিজেকে সংশোধন করেননি। এরপর প্রযোজনা টিমের চুক্তি অনুযায়ী আমার সুটিং সিডিউল শেষ হবার পরই আমি কলকাতা ফিরে আসি। তবুও আমি রাজী ছিলাম চুক্তি শেষ হবার পরেও বাংলাদেশে গিয়ে ছবির বাকী অংশের কাজ শেষ করতে।

যাইহোক কলকাতা ফেরার পরই উনি শুরু করেন আমাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়, উনি আমাকে বার বার মেসেজ করতেন। বলতেন, উনি নাকি আমাকে মিস্‌ করছেন! একটা সময়ের পর আমাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন! বারবার ব্লক করা সত্ত্বেও উনি থামেননি। উনি সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন আমাকে। এসব সত্যি অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ শিল্পী হিসেবে আমরা নূন্যতম সম্মানটুকু অন্তত আশা করি সবার কাছে।

আমি প্রমাণ স্বরূপ উনার করা হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং ফেসবুকের মেসেজের স্ক্রিনশটও শেয়ার করছি তাহলেই আপনারা এই মানুষটির মানসিকতা বুঝতে পারবেন। এই লোকের কী বিচার হওয়া দরকার সেটা আমি আমার বাংলাদেশের বন্ধুদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। আমার সত্যি এসমস্ত এভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম এই ধরনের হয়রানি-র একটা প্রতিবাদ হওয়া দরকার।

কারণ এই ধরনের নিম্ন মানসিকতার লোকজন দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতের জন্যই হানিকারক। এরা শিল্প এবং শিল্পী কাউকেই সম্মান করতে জানেনা। এবং দুই বাংলার শিল্পীদেরই আমার অনুরোধ এই রকম ঘটনার সম্মুখীন হলে প্রতিবাদ করুন ও সতর্ক হোন। নইলে চুপ করে থাকলে এরা আরও পেয়ে বসবে। আর একজন শিল্পী হয়ে আমি এটুকুই বলতে পারি ঈশ্বর উনার শুভবুদ্ধি জাগ্রত করুন।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 258
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    258
    Shares

লেখাটি ১,৫৪৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.