কেন যে এতো বেকুব হয় নারীরা!

0
লাজ্বাতুল কাওনাইন:
আজ এক বেকুব মহিলার খবর চোখে পড়লো! এক হম্বিতম্বি লোকের বউ ছত্রিশ বছর ঘর করতে করতে কিভাবে জানি পুড়ে মারা গেছে! এমন লাখ লাখ রমণী আছেন, এদের নিয়ে আগে ভাবতাম জানেন! এখন ভাবি না! আমি ইয়ে এদের হাব্বিদের নিয়ে এখন ভাবি! খবর টা পড়ার সময় কটা বিষয় মগজে কুঁই কুঁই করে উঠলো…
এক:
ভদ্রমহিলা ৫০ বছরের জীবন হয় নিজের হাতে দিয়েছেন আজরাইলকে, নয় অন্য কেউ নিয়ে ভাল মানুষের মতো আজরাইল এর হাতে দিয়ে দিয়েছেন! জানি না,কেউ জানে না! তবে এগুলো ব্যাপার  না! জান নাই তো এতো ঘাইট্যা লাভ কি!
দুই:

ভদ্রমহিলা নাকি ৩৬ বছর সংসার করেছেন! প্রিয় স্বামীটির নামে আগে মামলাও করেছিলেন! মাথায় রডের বাড়ির সতেরোটা সেলাই নিয়ে! ব্যাপার হলো, বেয়াদব নাফরমান জালিম বউকে পিটানো খারাপ কিছু না! বেকুব মহিলা মনে হয় মামলা করে আবার ভালবাসা করতে গিয়েছিলেন স্বামীর সাথে….আস্তাগফিরুল্লাহ! (সব আমার কল্পনা, আল্লাহ মাফ করুন)

তিন:

দেখুন এই স্বামী তাকে ‘কত্তো লাপ’ থুক্কু ‘লাভ’ করেন! ইসলামী রীতিতে যত তাড়াতাড়ি লাশের শান্তি ততো শীঘ্র কবর, ব্যাপারটা পালন করেছেন! কাউকে তেমন কিছু না জানিয়ে দেশে নিয়ে মাটিতে চিরশান্তির ব্যবস্থা করেছেন! উনার কী দোষ বলুন! হতে পারে চরিত্রহীনা বউ! যাচ্ছেতাই বউটি উনার ভালবাসা বুঝে নাই, আজীবন তাই মরণের পর শেষ ভালবাসাটাও বেসে দিলেন! সালাম দিতে মুন চায়!!
বাদ দিন!  আমি এমন অভিজ্ঞ ভালোবাসাযুক্ত স্বামীদের কিছু টিপস দিতে চাই….
টিপ-১:

ধরেন আপনার বউ হুমকি দিলো, এতো অত্যাচার আর সহ্য হয় না! আমি আত্মহত্যা করুম! আপনি সাথে সাথে বলুন! এর ওর লগে নষ্টিফষ্টি করে বেড়াও!  এই কাম তো তোমার হাসিমুখে করা লাগবে!

টিপ-২:

ধরেন বেকুবনী গায়ে আগুন লাগিয়েই দিলো! আপনি তাড়াতাড়ি একে বোকার মতো না ধরে আগে এদিক-ওদিক খোঁজ দ্যা সার্চ দিন! কোনো মেসেজ লিখে গেলো কিনা! “আমি তোর জন্য মরলাম” এমন কিছু পাবার সাথে সাথেই মহিলার শরীরের আগুনের সাথে চিরকুটটি দিয়ে দিন! আর “আমার মরা, আমার ইচ্ছা” এই টাইপ কিছু পেলে বুক পকেটে যত্ন করে রেখে দিন! আর ইয়ে, কিছু না পেলেও হতাশ হবেন না! আইন, সমাজ সবাই আপনার প্রতি করুণাময়ী চোখে চেয়ে আছে! আপনার ফাঁসার চান্স জিরু পার্সেন্ট! তাই আপনি হিরু!! চো চিল! (অন্যান্য পন্থায় আত্মহত্যাকারী বউদের স্বামীর জন্য একই টিপ্পা প্রযোজ্য)

এলা এটাও বাদ দিন!! নারীকূল এবার আমার উপর ক্ষেপলো বলে, তাই আমি কেন ক্ষ্যাপা ব্যাখ্যা দিয়ে আজ পালাই….

একটা মেয়ের বিয়ে হবে স্বাভাবিক!  স্বামী প্রথম থেকেই মারধর করে।সমাজ বলে শালার বউটাই খারাপ! নাইলে কী রাত দুপুরে এতো এনার্জি যে বউ পিটাইবো ব্যাটা! আচ্ছা! মেয়েটা লজ্জায় হাসিমুখে থাকে! ছিঃ তাকে খারাপ বলবে! তার স্বামী কে! সে চুপ থাকে! স্বামী নেশাখোর হোক বা দুশ্চরিত্র হোক, সংসার টিকাতে হবে! এটাই বড় কথা! এক সময় না পেরে যদি নিজের বাবা-মা বা শ্বশুরকুল এর আত্মীয়দের বলে, তো কম্ম সারা! ওই শালী! আমার সাথে ঘর করবি আর বাজারে বাজারে কইয়্যা বেড়াবি!

মেয়ে চুপ! তাইতো প্রচুর মার খেয়েও দুঃখিত বলে আবার সংসারে মন দেয়! এক যুগ, দুই যুগ কেটে যায়! মাইরের কমতি নাই! যদি সে নিজের পায় দাঁড়াতে চায় তো হলোই!! কী রে কয়টা ব্যাটা লাগে দিনে! আমারে তো আর ভাল্লাগে না! 

এলা দে মাইর! বাচ্চাদের সামনে অপমান অকথ্য ভাষা! কুঁকড়ে যায়! তবু মেয়েগুলো আর কিছু না শুধু সংসার চায়! আত্মীয়রা বলবে, আহারে স্বামীটা ভাল হইলো না! তোমার তো কুনু পাওয়ারই নাই! আজ তোমার জন্যই ওই আরো খারাপ হইছে! অক্কা!! এই মেয়ে কী করবে! নেশাখোর বা দুশ্চরিত্র স্বামী যখন শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক গ্যাঁড়াকলের যাঁতায় ফেলে, বেকুব নারী তখন একটু তফাৎ হতে চায়! স্বামীকে ভয় দেখাতে চায়! আমার সাথে আইন আছে, দয়া করে আমাকে মেরো না! আমাকে আর বাচ্চাদের বাঁচার সুযোগ দাও! আমরা তোমাকেই বার বার চাই!
হালার আইনের গুষ্টি!! ওই মেয়ে আইনের প্যাঁচে যে সর্বস্বান্ত হয় আর তার অভিজ্ঞ অত্যাচারী স্বামীর হুমকি আর সমাজের চোখের তাপে….সন্তান নিয়ে করবেটা কী!
অনেক সময় অসহায় হয়ে আবার ফিরে! আবার কেউ কেউ ফিরেও না! কিন্তু ফেরা আর না ফেরাতে তার জীবনের স্বস্তি আর ফিরে না!! কারণ সে তো মানুষ না, সে নারী! এইসব বেকুব মহিলাদের দয়া না, দরকার অভিশাপ !! মরে যাক এরা! কী দরকার বেঁচে থাকার! কারণ এরা যতোদিন বাঁচে, সেই সংসারের আশে এমনিতেই মরে থাকে! আর একান্তই না পেলে ফিরুক আর না ফিরুক, আত্মহত্যা করে বসে! তাই পাপী তো তারাই, যারা করে…যারা করায় তাদের হয় ছাড়ো, নয় ধরো….।
শোনো, তুমি নারী, এমনিতেই দোযখে যাবে! হুদাই এই কাজ করে যেও না! আমার খুব প্রিয় ছিলো এমন এক বন্ধু বলেছিলো কথা প্রসঙ্গে!
কথাটা তুমুল কষ্টের, কিন্তু ধাক্কা খেয়ে জেগে উঠার মতো! তাই মনে হলো! নারীদের ধাক্কা দরকার, খুব খুব প্রবল ধাক্কা! যাতে উড়ে গিয়ে পড়ে সেই পথে, যেখানে বাঁচার অনেক অনেক আশা আছে!! বলুক দুশ্চারিণী, বলুক অমানুষ, বলুক মুখরা!! যারা বলে তারা তোমাকে বাঁচাবে না! তোমাকে বাঁচাতে পারবে শুধু বিধাতা আর তুমি……
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 27
  • 2
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    30
    Shares

লেখাটি ৬,৬৩৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.