স্তনে, গোপনাঙ্গে ছ্যাঁকা! এসআই মানসের কি শাস্তি হবে?

0

মারজিয়া প্রভা:

পত্রপত্রিকা একে মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলছে। কিন্তু “মধ্যযুগীয়” কথাটার সঙ্গে একমত নই। এই জিনিস এখনো যেহেতু ঘটছে, একে মধ্যযুগীয় বলি কী করে!

এই তো গত বছরেই ভারতের মহারাষ্ট্রতে দুজন মহিলার গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়ো ঢেলে দিয়ে অত্যাচার করেছে পুলিশ। গেল নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকায় এটিএম কার্ড ক্লোন করার অপরাধে দুই পায়ের মাঝখানে লাঠি ঢুকিয়ে অমানুষিক অত্যাচার করেছে পুলিশ। আমাদের কক্সবাজারের এসআই মানস বড়ুয়া ডিজিটাল বাংলাদেশে কি মরিচের গুঁড়ো বা লাঠির মতো অ্যানালগ জিনিসপত্র ব্যবহার করতে পারে! তাই সেই ব্যবহার করেছে ইলেকট্রিক শক!

রিমান্ডে এনে নারী উদ্যোক্তা জীবন আরার কাছে ত্রিশ লাখ টাকা দাবি করল কক্সবাজারের এস আই মানস বড়ুয়া। জীবন আরা দিতে অস্বীকার জানায়। নারীর স্তন আর গোপনাঙ্গে দেওয়া হল ইলেক্ট্রিক শক। সাথে সাথে অজ্ঞান জীবন আরা। জ্ঞান ফেরার পর দেখেন শরীরের আরও কয়েক স্থানে গরম ছ্যাঁকার ফোস্কা পড়েছে।

এ অবস্থায় তাকে কারাগারে দিয়ে আসা হয়। বিনা চিকিৎসায় থাকায় বৈদ্যুতিক শকের ক্ষতস্থান থেকে পচা গন্ধ বের হলে কারা কর্তৃপক্ষ পরে সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নথিতে বৈদ্যুতিক শকের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব কথা উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে জামিন চাওয়া হয়। আদালত নারী কর্মকর্তা দিয়ে চেকআপ করার পর তথ্যের সত্যতা পেয়ে অবশেষে জামিন দেয়।

জামিন পাওয়ার পর “নারী কল্যাণ” পাশে এসে দাঁড়িয়েছে জীবন আরার! আর তাই পুলিশের হুমকি চলছে তার উপর!

মেয়েদের এই এক জ্বালা! শুধু শুধু ন্যাক্কার জঘন্য কিছু কাজ তাদের সাথে করা হয়! আবার সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে যারা খারাপ কাজ করল তারাই আবার হুমকি ধামকি দেয়! এই আমিও তো কম হুমকি ধামকি পেলাম না!

জীবন আরা একজন স্বাবলম্বী নারী। পার্লার আছে নিজের তার। সেখানে আরও ১৫ জন প্রশিক্ষার্থী আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নারী উদ্যোক্তার পুরস্কারও পেয়েছে সে। কিন্তু ভুলের মধ্যে যেটা করেছে, সেটা হলো সীমা আক্তার নামক আরেক নারী উদ্যোক্তা কে বিশ্বাস করে।

ভেবেছে যৌথ উদ্যোগে বড় পার্লার হলে লাভটা আদতে তাদেরও এবং অনেক নারীদেরও। তাই ২৩ লাখ টাকা দেন সীমা আক্তারকে। সীমা আক্তার আবার এক কাঠি সরেস! সেই টাকা দিয়ে বাড়ি বানিয়ে ফেলে। যখন জীবন আরার সেটা নজরে আসে, তিনি তার টাকা ফেরত দেবার চাপ দেন। এর বদলে গাড়ি বন্ধক দেন সীমা আক্তার। কথা ছিল টাকা ফেরত দিলে গাড়ি নিতে পারবেন সীমা।

কিন্তু আমাদের সীমা আক্তার কি আর যে সে পাবলিক! সে ভাবল ২৩ লাখ টাকা জীবন আরাকে না দিয়েও ১০ লাখ টাকা পুলিশকে দিলেই কাজ হাসিল হবে। সেই পুলিশ ১০ লাখ টাকা খেয়ে জীবন আরা আর তার ব্যবসায়ি স্বামীকে ইয়াবা রাখার অপরাধে ফাঁসায়। তারপর থানায় এনে নোংরা অত্যাচার করে।

যখন জীবন আরা তার উপর বর্বরতার বিচার চাইতে নারী কল্যাণের কাছে যায় তখন এস আই মানস বড়ুয়া আবার হামলা করে তাদের উপর। জীবন আরার দেবরকে ইট দিয়ে আহত করে।

এই যে আমাদের মানস বড়ুয়া, পুলিশের পোশাক পরে যে সন্ত্রাসীগিরি করছে, নারীর উপর ন্যাক্কার বর্বরতা চালাচ্ছে, তার কি বিচার হচ্ছে? সে যে ১০ লাখ টাকা সাপটেসুপ্টে খেয়ে অপরাধীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তার আদৌ কি কোন বিচার হবে?

এত অভিযোগকে অস্বীকার করেছে আমাদের মানস বড়ুয়া।  কিন্তু শুধু শুধু একজন তদন্তাধীন আসামীর এত সাহস হবে না, একজন এস আই এর বিরুদ্ধে নোংরা কথা বলতে। যদি না তার উপর অমানুষিক অত্যাচার না হয়ে থাকে। মোদ্দা কথা, এস আই মানস অন্যায় করেছে।

এখন ধরা পড়ে বলছে, “ওরা আমাকে নিয়ে মিথ্যা বলছে। আমার মতো ভালো লোক হয় নাকি আবার?”

কিন্তু এখনো এস আই মানসের পদচ্যুতি ঘটার সংবাদ পাচ্ছি না কেন? ১০ লাখ টাকা কি অনেক গভীরে ভাগাভাগি হয়েছে বলে সবাই চুপচাপ বসে আছে ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য! অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তদন্ত শেষ হতে আর কত দেরি, পাঞ্জেরী! যখন জীবন আরার আলামত সব শেষ হয়ে যাবে তখন তদন্ত শুরু হবে?

আমাদের প্রচুর শুভাকাঙ্ক্ষী সরকারী লোক আছেন, পুলিশ ভাইয়ারা আছেন, আইনজীবী বন্ধুরা আছেন! তারা এই বিষয়ে কি একটু দৃষ্টি রাখবেন দয়া করে! না আমাদের তো আবার স্বভাব আছে তদন্তের কথা বলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার! আবার সেটা যখন এক নারীর উপর ঘটে যাওয়া বর্বরতা হয়, তখন তো “মিথ্যা অভিযোগ” বলে আরও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে!

আমাদের প্রশ্ন ঘুরে ফিরে একটাই! এসআই মানস বড়ুয়ার কি আদৌ শাস্তি হবে?

লেখাটি ৬,০৪৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.