সেলিব্রেটিদের ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক প্রভাব

0

সীমা জামান:

ভেবেছিলাম অপু বিশ্বাস আর শাকিব খানকে নিয়ে মন্তব্য করবো না। কিন্তু অভ্যাস খারাপ, তাই চুপ থাকাও গেলো না। অবশ্য শেষটা দেখার অপেক্ষাতেও ছিলাম। আজ প্রথম আলো পত্রিকায় তাদের সাক্ষাতকার পড়লাম। অপুর ক্যারিয়ার বিষয়ে শাকিবের  সেখানকার দু’ একটা কথা না বললেই নয়।
“আমি (শাকিব) এতো ব্যস্ত থাকি, অপুও যদি ব্যস্ত থাকে, তাহলে আমার সংসার সন্তান সবকিছুই ভেস্তে যাবে। আমি নিশ্চই চাইবোনা নায়িকা হিসেবে সে ফিরে আসুক।তাছাড়া স্বামী-স্ত্রী সিনেমা জুটি হিসেবে দর্শকরারা গ্রহণ করতে চাননা। আমি চাইবোনা স্বাধীন ভাবেও সে কাজ করুক।টাকার জন্য তার সিনেমা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করিনা।…..ভারতেও অনেক নায়িকা সন্তানের কথা ভেবে সিনেমা থেকে দূরে সরে যান।…..অনেকেই হয়তো মনে করবে শাকিব খান এতো বড় সুপারস্টার, তার স্ত্রীকে কেন অভিনয় করতে হবে।”
এখানে অপুর কথা হলো “আমার কিছুই বলার নাই। শাকিব যা চেয়েছে, আমি সব সময় তাই করেছি।সংসারে মতবিরোধ করে তো ভালো থাকা যাবেনা।”
আমরা শুরুতে দেখলাম বাংলা সিনেমার এই দুজন জনপ্রিয় নায়ক নায়িকা তাদের বিয়ে এবং সন্তান এর গোপনীয়তা নিয়ে একটা চরম নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত ঘটালেন। অপুর সাক্ষাৎকার, পত্রিকার লেখা পড়ে আর সবশেষে লাইভ অনুষ্ঠানে এসে শাকিবের অসংলগ্ন কথাবার্তা থেকে একটা বিষয় সবাই মোটামুটি নিশ্চিত যে শাকিবের চাপেই অপু এতোদিন সবকিছু চেপে গেছেন ক্যারিয়ারের চিন্তায়। আর পরে যখন নিজের অবস্থানকে তার অনিরাপদ মনে হয়েছে তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিডিয়ার সামনে আসার। 
এই প্রসংগে বহু লেখালেখি হয়ে গেছে। আমি পুরোনো বিষয় আর আনবোনা সামনে কিন্তু আজকের সাক্ষাতকার আর পূর্বের ঘটনা দুই মিলে আমার অবস্থান টা বলতেই এই লেখা। 
আমি বাংলা ঢালিউড  সিনেমার দর্শক সেভাবে নই সত্যি কিন্তু একথাও অস্বীকার করার সুযোগ নাই এইসব নায়ক নায়িকারাও আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। আজকে সুপারষ্টার সাকিব বা অপু বিশ্বাস এর কথার বা কাজের একটা প্রভাব সমাজে  যে থাকবে সেটা অবধারিত। সংসারের জন্য ক্যারিয়ার বিসর্জন দেয়া আমাদের মেয়েদের জন্য নতুন কিছু না কিন্তু এটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখাটা কি ঠিক আছে? তাদের অবস্থান থেকে ঘোষণা দিয়ে বউকে অভিনয় ছাড়ানো আর স্ত্রী হিসেবে স্বামীর আদেশ মেনে নিলাম -এই কথা কি বিশেষ কোনো মেসেজ বহন করেনা?
সুপারস্টার শাকিব খানের বউ ছাড়া একজন অপুর কি আলাদা কোনো পরিচয় নাই এখন? সমাজকে, রাষ্ট্রকে দেবার কি তার কিছু ছিলনা?অনেকেই বলবেন এখনো হয়তো সময় ফুরিয়ে যায়নি কিন্তু তাদেরকে বলছি মেসেজ একটা চলে এসেছে – “স্বামী আর সংসারের জন্য নাম্বার ওয়ান অপু বিশ্বাসও ক্যারিয়ার ছাড়ছে আর তুমি তো কোন ছার!”
আমরা কি এটা আশা করেছিলাম তাদের কাছে? তাদের পারিবারিক ব্যাপারই যদি ছিল তা পারিবারিক ভাবেই মিটিয়ে ফেলতেন তারা।গণমাধ্যমে এনে এমন উদাহরণ সৃষ্টি করে সমাপ্তি টানা কেন? নারী সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী একজন মানুষ নিজের এমন অবস্থান তুলে ধরে কি উপকারই না করলেন ভাই অপু আপনি! এগিয়ে যাবার সারথিদের দিলেন আরেকবার পিছনে টান। আর শাকিব খান সাহেবের কথা আর নাইবা বললাম। তার কথাবার্তাই তার সম্পর্কে ধারণা করার জন্য যথেষ্ট।
কেউ কেউ বলতে পারেন  “এই ঘটনায় কীইবা প্রভাব পড়বে, আজকাল বাংলা মুভি কেইবা দেখে”- তাই যদি হবে তাহলে এরা সুপার স্টার কেমন করে হয়, নম্বার ওয়ান কারা বানায় তাদের? এভাবে ভাবার সুযোগই নাই যে তাদের ফলোয়ার কম। এরা মানে, এই সেলিব্রেটিরা আমাদের সমাজের একটা বড় অংশের জন্য আইডল। তাদের কথা কাজের প্রভাব নিশ্চয়ই আছে এবং আছেই। আমরা যারা নারীর এই এগিয়ে যাওয়া নিয়ে ভাবছি তারা নির্দ্বিধায় বলতে পারি এটা মোটেও সামান্য কোনো ঘটনা নয়।
তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাগুলি অন্যভাবে আসতে পারতো। যেহেতু তারা সেলিব্রেটি আর তাদের কথার কথার সরাসরি প্রভাব আছে কাজেই কথা বলের ক্ষেত্রে আরো সংবেদনশীল হওয়া উচিৎ ছিল বলে আমি মনে করি।
সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা তারা এড়াতে পারেন না।  আর ব্যক্তিগত জীবনের কথা যদি বলেন তাহলে বলবো ওটা দিয়ে উপকার যদি সমাজের কিছু নাই বা হলো, তা এই অপকার করা কেন বাপু?

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.