আমি যখন ‘নারীদের’ নিয়া হতাশ

0

নাদিয়া ইসলাম:

যেই পুরুষতান্ত্রিক দেশে শাকিব খানের মতো ‘মেগালোম্যানিয়াক’ কূয়ার ব্যাং- যিনি নিজেরে ‘সুপারস্টার’ বইলা ভাবেন এবং গণমাধ্যমে অপু বিশ্বাসের মতো একজন ব্যবসা-সফল নায়িকা সম্পর্কে ‘আমি চাই অপু শুধু রান্নাবান্না করুক’ এবং ‘সে বাচ্চা রেখে সিনেমা করতে চায় ক্যানো’ বলার মত ধৃষ্টতা রাখেন, এবং সেই জিনিস নিয়া দেশের পুরুষকূলরে এবং নারীকূলরে কোনো উচ্চবাচ্চ্য করতে দেখা যায় না, সেই দেশের পুরুষদের এবং বিশেষতঃ নারীদের নিয়া আমি হতাশ।

পুরুষরা আপনাদের রান্না করার চাকর এবং বাচ্চা জন্ম দেওয়ার মেশিন ভাবতেই পারেন, ভাবনা আটকাবে কে- কিন্তু আপনি নিজেই নিজেরে যদি পুরুষের চাকর হিসাবে দেখেন, এবং চাকর হওয়ার জন্য হাত পা ছড়ায়ে কান্নাকাটি করেন, তাইলে আপনাদের প্রতি অনুরোধ- আর পড়ালেখা না কইরা, শ্রম, মেধা, সময়, অর্থ খরচ না কইরা- অন্যের চাকরি করার সুযোগ নষ্ট না কইরা ১৬ বছর বয়সেই স্বামীর ঘরে চইলা যান, দেশে এখন স্পেশাল আইনে ১৬ বছরেই আপনি বিয়া করতে পারবেন, আর- স্বামীর পায়ের নিচেই তো আপনার বেহেস্ত। এবং তাই, পায়ের তলদেশে বেহেস্ত খুঁইজা না পাইলে ‘নারী নির্যাতন’এর মামলা কইরা আর লোক হাসাইবেন না প্লিজ।

 তবে হ্যাঁ, অপু বিশ্বাসরে নির্যাতন করা হইছে সন্দেহ নাই। পুরুষ নিজের ক্যারিয়ার এবং স্বার্থ রক্ষার্থে অপু বিশ্বাসরে ব্যবহার করছেন। অপু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অন্যায়ের শিকার। সবই ঠিক আছে। সবই আমার মতো দুই পয়সার নারীবাদীদের দুই পয়সার হাততালি কামানোর জন্য দুই পয়সার ফেইসবুকে কথা বলার পারফেক্ট উপাদান। কিন্তু আমি কিছু কইতে চাই নাই কারণ, আমি জানি দুই দিন পরেই অপু বিশ্বাস পুত্রসমেত নাচতে নাচতে শাকিব খানের কোলে গিয়া উঠবেন। উনারে সকালে মোগলাই পরোটা এবং দুপুরে মুড়িঘন্ট এবং রুই মাছের কালিয়া এবং বিকালে মালাই চা ও কলিজার সিঙ্গাড়া রাইন্ধা খাওয়াবেন। না, আমি খাওয়ানোর বিরুদ্ধে না। আমি খাইতে ও খাওয়াইতে দুইই ভালোবাসি। আমার সমস্যা অন্য জায়গায়। শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী অথচ আত্মসম্মানহীন মেয়েদের দেখলে আমার গা জ্বলে।

ফেইসবুকে আমার বাড়ির দারোয়ান এবং ড্রাইভার সাহেব এবং আমার বাড়িতে ঘরের কাজে সাহায্য করেন ভদ্রমহিলারাও আছেন। তারা বেশিদূর পড়ালেখা করেন নাই। তাঁদের হিসাব বাদ। তাঁরা যদি এই সমস্ত প্রশ্নে আত্মসম্মান কমও দেখান দুই চাইর লাইন, আমি কথা বলবো না। কিন্তু ধরেন আপনি, মানে আপনি- যিনি বাপ মায়ের বা নিজের পয়সায় নর্থ-সাউথ বা ব্র্যাক বা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করছেন, শিক্ষিত হইছেন, চাকরি করতেছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা দুনিয়ার তথ্য এবং সেই মারফত জ্ঞান পাইছেন, প্রজ্ঞা অর্জন করছেন, আপনার যদি আত্মসম্মানের অভাব থাকে, তাইলে আপনি নির্যাতিত হইয়া মইরা যান, আমি কথা বলতে যাবো না।

আমার পরিচিত একজন মেয়ে, ধরা যাক উনার নাম তানিয়া। তানিয়া একসময় বেশ কয়েকটা টিভি চ্যানেলে কাজ করতেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করতেন। তানিয়া শিক্ষিত, সুন্দরী এবং স্মার্ট একজন মেয়ে। তো একসময় উনি এক বিবাহিত ভদ্রলোকের প্রেমে পড়েন। বিবাহিত ভদ্রলোকের প্রোফাইল বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিবাহিত পুরুষদের মতই। ঘরে বউ যেহেতু বাচ্চা জন্ম দিয়া বৈশাখের পান্তাভাত মার্কা ম্যারম্যারা হইয়া গেছেন, তাই উনি ‘ফাক’রুদ্দিনের ‘কচি’ খাসির মাংসের ঠ্যাং দিয়া রান্ধা সুস্বাদু কাচ্চিবিরিয়ানির সন্ধান করবেন, এইটাই স্বাভাবিক।

তো, উনি তানিয়ারে বইলা দিছেন, উনার পক্ষে আগের বউরে ডিভোর্স দেওয়া সম্ভব না, বলছেন, “এইভাবে থাকলে থাকো, না থাকলে চলে যাও!” উনি তানিয়ার ফ্ল্যাটের ভাড়া দেন, তানিয়ারে গাড়ি এবং অন্যান্য জিনিসপাতি (শাড়ি, গয়না ইত্যাদি যা যা মেয়েদের লাগে আরকি) কিনা দেন এবং উনার উপর গোয়েন্দা নজরদারি করেন ও সকালবিকাল ট্রাউজার্সের বেল্ট খুইলা পিটান। এই মারামারি আমিসহ তানিয়ার অন্যান্য বন্ধুদের সামনেও হইছে। তানিয়া ভদ্রলোকের আড়ালে আমার পাশে বইসা ফ্যাঁচফ্যাঁচ কইরা কান্দেন। আমি টিশুর বাক্সো আগায়ে দেই। তানিয়ার প্রতি আমার সহানুভূতি হয় না। অপু বিশ্বাসের প্রতিও হয় না। হয়তো আমি এখনো ‘সঠিক’ নারীবাদী কিংবা ‘সঠিক’ মানুষ হইয়া উঠতে পারি নাই।

হ্যাঁ, আপনারে ছোটবেলা থিকা বুঝানো হইছে বিয়াই সব। আপনে পড়ালেখা করেন আর ধান ভানতে শীবের গীত গান, বিয়া আপনারে করতেই হবে। সংসারই আপনার একমাত্র ধর্ম। আমার কথা অন্য জায়গায়। আপনারে যা শিখানো হইছে তার বাইরে আপনি ক্যানো প্রশ্ন করতে পারেন না? সিস্টেমের অসংগতি আপনার ক্যানো চোখে পড়ে না? পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ত্রুটিগুলি নিয়া আপনি ক্যানো প্রতিবাদ করতে পারেন না? আপনি নিজেরে বিয়ার বাইরে, স্ত্রীর বাইরে, মায়ের বাইরে ক্যানো চিন্তা করতে পারেন না? আপনি নিজেরে মানুষ হিসাবে ক্যানো ভাবতে পারেন না?

আমি বলি কী- আপনি পড়ালেখা শিখছেন আমার মাথা। আপনি প্রাতিষ্ঠানিক বিয়া, যেইখানে আপনারে ভোগ্যপণ্য বানানো হইতেছে, তা নিয়া প্রশ্ন করবেন না, বরং কনে দেখার মত অমানবিক এবং প্রাগৈতিহাসিক বর্বর প্রথায় নতমুখে বইসা থাকবেন, বরপক্ষ আপনার চুল দেখবেন, আপনার হাঁটা দেখবেন, আপনে কত গুণে গুণান্বিতা সেই হিসাব করবেন, আর আপনে মনে মনে সুখের সংসারের স্বপ্নে ভাসতে থাকবেন।

আপনে নির্যাতিত হবেন না তো কী আমি হবো? আপনি চাকরি করেন আই-সি-ডি-ডি-আর-বি-তে, আপনার জামাই আমেরিকাতে রেস্টোরেন্টে বাসন ধোয়ার কাজ করেন, আপনি নিজের ক্যারিয়ার ফালায়ে দিয়া তাক-ধিনা-ধিন করতে করতে আমেরিকা যাবেন, বা যেই বাপ মা আপনারে গত আঠারো-বিশ বছর আদর দিয়া পালছেন, তাদের ভুইলা শ্বশুর শাশুড়ির পদতলে সকালে সরিষার তেল এবং রাত্রে জবাকুসুম তেল ডলাই-মলাই করবেন, এরপর বলবেন “আমি ক্যানো অত্যাচারিত?” “আমার সাথেই ক্যানো এইসব হয়?” “আমার বর আমাকে ভালোবাসে না ক্যানো?” “আমার স্বামী ‘আমার’ মত একজনকে ঘরে রেখে পরকীয়া করে ক্যানো?” “আমার রোজগার করা টাকায় আমি ভাগ পাই না ক্যানো?” “আমাকেই ক্যানো সংসারের সব কাজ করতে হয়?” “আমি কী অপরাধ করেছি যে এভাবে মার খাচ্ছি?” “আমি তো ওর সুখের জন্যই চাকরি ছেড়েছি, কিন্তু ও আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে ক্যানো?”

ভাই আপনার কান্নাকাটি আলমারির ভিতর ঢুইকা করেন। আমি বলবো, আপনার স্বামী ঠিক জায়গাতেই আছেন। দুর্বলরে কে না পিটায়? আমি বলবো, আপনারই বরং অত্যাচারিত হওয়া মানায়। আপনি অনেক আগেই স্বীকার কইরা নিছেন আপনি আত্মসম্মানহীন। আপনি অনেক আগেই স্বীকার কইরা নিছেন আপনার সাথে যা মন চায় তাই করা যায়। সেই সুযোগ পুরুষ এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিবেন না ক্যানো? উনারা কি আপনার মত গাধা?

নিশ্চয়ই না।

অপু বিশ্বাস এবং তানিয়াসহ বাংলাদেশের প্রচুর মেয়ে নিজে শিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার পরেও নিজের অধিকার সম্পর্কে জানেন না। তারা বিয়া নামক এক পুরুষতান্ত্রিক সংগঠনের জন্য বিসর্জন দেন না এমন কিছু নাই। তারা নিজেদের বাপ মা ভুইলা যান, নিজেদের ক্যারিয়ার ভুইলা যান, নিজেদের শখ ভুইলা যান, নিজেরেও ভুইলা যান। কীসের আশায়? শুধু একটা বাড়ি বা সংসার বা পুত্র-কন্যার আশায়? আর যেই বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা তিনি কোনোদিন পান না, সেই বাড়ির আশায়? যেই পুত্র-কন্যার নামে বা বংশ পরিচয়েও তিনি থাকেন না সেই পুত্র-কন্যার আশায়? যেই সংসারের অধিকার তিনি কোনোদিন পান না, সেই সংসারের আশায়?

অপু বিশ্বাস কয়েক দিক থিকা ভাগ্যবান। তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতেন। তিনি জানেন এই কেইস কোর্টে গেলে উনার পকেটের দিস্তা দিস্তা টাকা খরচ হওয়া ছাড়া আর কিছুই হইতো না। যেই স্বামী স্ত্রীরে বাড়ি নিয়া যাইতে চান না, তারে দিয়া পুরুষতান্ত্রিক বাংলাদেশি কোর্ট কিছুই করাইতে পারতো না। তাই উনি মিডিয়ারে ব্যবহার করছেন। মিডিয়ার কল্যাণে আজকে উনি উনার ‘সাধের’ সংসারে ফেরত যাইতে পারছেন। কিন্তু আজকে উনি যদি বিবাহিত না হইতেন, তাইলে এই মিডিয়াই উনারে বেশ্যা বানায়ে ছিড়া ফেলতে দুই সেকেন্ড বেশি টাইম নিতো না।

বোঝেন, বিয়া এবং সতীত্ব এবং পুরুষতন্ত্রের কত জোর! এবং আপনি, অপু বিশ্বাস, কতটা আত্মসম্মানহীন! অন্যদিকে তানিয়ার মতো মেয়েরা কোর্ট ক্যানো সমাজের কাছেই আক্ষরিক অর্থে বেশ্যা। তানিয়ার তাইলে এখন কী করা উচিত? আমার পরামর্শ হইলো, যদি আপনার এখনো কিছুপরিমাণ আত্মসম্মান বজায় থাকে, তাইলে এই মূহুর্তে এই অসম্মানজনক সম্পর্ক থিকা বাইর হইয়া আসা উচিত, মানে যদি আপনি আর মাইর খাইতে না চান এবং ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ কানতে না চান। সেই বাইর হইয়া আসা কঠিন হবে, মানুষের কথা শুনতে হবে, কিন্তু কেউ আপনারে দুর্বল এবং আত্মসম্মানহীন বইলা গালি দিতে পারবেন না। কেউ আপনারে ‘লোভী মাইয়ামানুষ’ বা ‘মেয়েরা এমনই হয়’ বইলা অশ্লীল হাসি দিতে পারবেন না।

সো কামিং ব্যাক টু দ্যা পয়েন্ট-

অপু, নিজের সিদ্ধান্ত আরেকবার ভাইবা দেখেন। শুধুমাত্র আপনি একলা বাচ্চা পালতে পারবেন না, শুধুমাত্র আপনার একলার পরিচয়ে আপনার বাচ্চা বড় হইতেছেন, তা সমাজ মাইনা নিবে না, শুধুমাত্র আপনি একলা চলতে পারবেন না এবং শুধুমাত্র ‘প্রেম মহৎ’ বইলা আপনি নিজের শিক্ষা এবং আত্মসম্মান ছুইড়া ফালায়ে দিয়া শাকিব খানের সংসারের একজন চাকর হওয়ার জন্য ছুইটা গেলেন।

কিন্তু আপনার আত্মসম্মানহীনতার প্রমাণ পাইয়া কাল যদি শাকিব খান মদ খায়ে বা না খায়ে আপনারে পিটান এবং পরশু আপনার বাচ্চারে নিজের কাছে রাইখা আপনারে লাত্থি দিয়া ঘর থিকা বাইর কইরা দেন, তখন আপনি যেন আবার মিডিয়ারে ডাইকা কান্নাকাটি না করেন। আরেকবার ভাবেন, যেই স্বামী আপনারে চান নাই, যেই স্বামী আপনারে এতদিন ব্যবহার করছেন, যেই স্বামী আপনারে ‘চাই না’ বইলা অপমান করছেন, তার সাথেই আপনি আপনার বাকি জীবন কাটাইতে চান কীনা।

চাইলে ভালো, আপনার সম্মানহীন সংসারে সম্মান ফিরা আসুক, আপনি সুখী হন সেই কামনা করি, কিন্তু তা না হইলে দ্বিতীয়বার একই নাটক কইরেন না প্লিজ। আত্মসম্মানহীন শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী ‘স্বেচ্ছা-নির্যাতনে-নিরব-সম্মতি-দেওয়া’ মেয়েদের উপর অত্যাচারে আমার সহানুভূতি হয় না।

(ঠিক একদিন পরের খবর: শাকিব খান তার স্ত্রী ও ছেলেকে ফিরিয়ে নিতে রাজী, অপুও খুশী)

অপু বিশ্বাস, আপনার প্রতি আমার করুণাও নাই। যেই পুরুষ আপনারে এইভাবে অপমান এবং নির্যাতন করছেন, আপনি তার ঘরেই নাচতে নাচতে ফেরত গেছেন, যেন আপনার আর করার কিছুই নাই। আপনার প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থিকা ধিক্কার। আপনি নারী-সমাজ এবং মানুষ-সমাজ এমনকি গাধা-সমাজেরও কলংক। আত্মসম্মান আছে এমন সকল প্রাণীর জন্যই আপনি কলংক।

তাই- অপু বিশ্বাস- আপনারে চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা। আগামী কাল আপনার ‘হিরো’ আপনার ‘সুপারস্টার’রে পান্তা ও জাটকা ইলিশ রান্না কইরা খাওয়ান, পুত্রসমেত লাল-সাদা ম্যাচিং ঢিস্টিং ঢিস্টিং কাপড় পিন্দা নববর্ষ সেলফি দেন, এরপর দুপুরে টিভিতে আপনার স্বামীর ফিজিক্যালি ফিট ও সেক্সি নতুন প্রেমিকার সাথে করা ফিল্ম দেখতে দেখতে নিজের পুরানা সিনেমার কথা ভাবতে ভাবতে পুত্রের মাথায় হাত বুলাইতে বুলাইতে গোপনে দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়েন। ভাবেন, একজন মেয়ের জীবনে স্বামী সন্তান ছাড়া আর কীই বা আছে।

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.