“বিয়ে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে”

0
সাদিয়া অন্তরা: 
না, আমি কোন যাদুর কথা বা কোন অবিশ্বাস্য ওষুধের কথা বলছি না। আমি বলছি যুগ যুগ ধরে চলে আসা। আমাদের সমাজের এক প্রচলিত ঘরোয়া “টোটকা” এর কথা। এমন বহুবার শুনেছি, দেখেছি যে ছেলে কথা শুনে না, মেয়ে কথা শুনে না তাহলে বিয়ে দিয়ে দাও। তাও না হয় বুঝলাম কিন্তু পরিস্থিতি আরো জটিল হয়, যখন অন্য কোনো বদ অভ্যাসের সমাধান হয় বিয়ে করিয়ে দেয়া।
যেমন সন্তান নেশা করে, বাবা মায়ের অবাধ্য, জুয়া খেলে অথবা অসৎ সঙ্গে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর সমাধান বিয়ে দিয়ে দেওয়া। আবার তো অনেকে এক কাঠি বেশী সরেস, যাদের সন্তানদের মানসিক কোন সমস্যা আছে, তারা কবিরাজের কাছে যাবে, অন্যান্য ডাক্তার দেখাবে কিন্ত ভুলেও সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্ট এর চেম্বারে পা বাড়াবে না।
আরে ধূর আমার সন্তানকে “পাগলের ডাক্তার” এর কাছে কেন নিয়ে যাবো! তো কিছুতেই যখন কিছু হয় না, তখন এর ও সমাধান বিয়ে করিয়ে দেয়া! এর চাইতে ভয়াবহ ব্যাপার আর কী হতে পারে? কারণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের “গুণ”গুলো অপর পক্ষের কাছে লুকানো হয় স্বভাবত কারণেই। অভিভাবকরা মোটামুটি নিশ্চিতই থাকে যে আরে এসব বলার কী দরকার, বিয়ের পর তো ঠিক হয়েই যাবে।
আর বিয়ের পর যখন নতুন একজন মানুষ এসে তার পার্টনারের “গুণ” সম্পর্কে জানতে পারে বা নিজ চোখে দেখতে পারে।তখন এই অবস্থা তাকে শুধু দিশেহারাই করে তা না, পাশাপাশি শ্বশুর বাড়ির চাপও তার উপর বাড়তে থাকে যে, সে আসার পরেও কেন তাদের সু-সন্তান তার সেই “গুণ”গুলো পরিত্যাগ করছে না।
প্রথমে হয়তো সেই নতুন বিয়ে করে আসা মেয়েটির সবার উপর রাগ হয়,কিন্তু একটা সময় এটাকেই নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়ে চেষ্টা করতে থাকে স্বামীকে সঠিক পথে ফেরানোর। কিন্তু যারা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে না তাদের উপর চাপ আসতে থাকে বাচ্চা জন্ম দেয়ার।
এটা তো এখনো অনেককেই বলতে শোনা যায়, “আরে বাচ্চা নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে, স্বামীর মন সংসারের দিকে ফিরবে” মানে যে ছেলের মন তার বাবা মা ফেরাতে পারেনি, বা তার বিয়ে করা স্ত্রী ফেরাতে পারেনি, তার মন ফেরানোর বা তাকে সঠিক পথে আনার দায়িত্ব বর্তায় অনাগত সন্তানের উপর।
ফলাফল যে পরিবারের কোন ভবিষ্যৎ নেই সেই পরিবারে অনাহুত এক অতিথির মতো আগমন ঘটে এক নিষ্পাপ বাচ্চার।যার ছোট কাঁধের উপর ভার থাকে সংসার বাঁচানোর!! তাই সে বড় হয় এক অশান্ত “এবিউসিভ” পরিবেশে, যার প্রভাব সারা জীবন থেকে যায়! কিন্তু যার স্বভাব বদলায় না, তাকে কোন কিছুতেই পরিবর্তন করা যায় না।
তাই অভিভাবকদের চিন্তা করা উচিৎ, যে সন্তানকে আপনারা জন্ম দিয়েছেন, তার কাছে তো আপনাদের চাইতে আপন কেউ হতে পারে না। তাই সেই সন্তানকে যদি আপনারা সঠিক শিক্ষা দিয়ে, সঠিক পথে চালিত না করতে পারেন বা তার মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা না করাতে পারেন, তাহলে অনুগ্রহ করে তাকে বিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব অন্যের উপর চাপিয়ে দিবেন না, অন্তত আরেকটা নিরপরাধ মানুষের জীবন নষ্ট করবেন না। যে সন্তান নিজের বাবা মায়ের অবাধ্য সে বিয়ের পরে তার জীবন সাথীর বাধ্য হয়ে যাবে ভাবাটাই অন্যায়…।

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.