মায়ের বেটি 

0

তামান্না ইসলাম:

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পড়ে সবার সাথে শেয়ার না করে পারলাম না। ঘটনাটি আমাকে  গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, আশা করছি কিশোরী, তরুণী মেয়েরা, বিশেষ  করে মেয়ের মায়েরা অনেক সাহস পাবেন এই ঘটনা থেকে। 
আমেরিকার একটি হাসপাতালে ইমারজেন্সিতে কাজ করে এক নার্স। একদিন ডিউটিতে থাকা অবস্থায় সে তার টিন এজার মেয়ের স্কুল থেকে ফোন পেলো যে তাকে তখনই  স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ফোন পেয়ে সে প্রথমে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, তবে কী তার মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেছে, নাকি আহত হয়েছে কোনভাবে। স্কুলের শিক্ষক জানালো, তেমন কিছুই হয়নি, তবে তার মেয়ে একটি ছেলেকে আঘাত করেছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ, তাই তাকে জরুরি ভিত্তিতে স্কুলে যেতে হবে। 
প্রিন্সিপালের রুমে যেয়ে মহিলা দেখতে পেলো প্রিন্সিপাল ছাড়াও আছে তার মেয়ে, মেয়ের ক্লাসের পুরুষ শিক্ষক, মহিলা কাউন্সেলর, আহত ছেলেটি, যার নাক দিয়ে তখনো রক্ত পড়ছে আর ছেলের বাবা, মা। 
প্রিন্সিপাল কথা শুরু করলেন, ‘ এই ছেলেটি আপনার মেয়ের ব্রা ধরে টেনেছে, তাই আপনার মেয়ে এই ছেলের নাকে দুটো ঘুষি মেরে রক্ত বের করে দিয়েছে ।’ 
মহিলা প্রিন্সিপালের গলায় ছেলের চেয়ে মেয়েটির উপর রাগই বেশি টের পেলো। সবার দিকে ঘুরে সে জানতে চাইলো, ‘ওহ এজন্য আমাকে ডেকে এনেছেন যেন আমি সেকচুয়াল এসলট (যৌন নির্যাতনের) কেইস না করি এই ছেলের বিরুদ্ধে?’ 
এই শব্দ শুনে সবাই নার্ভাস হয়ে এক সাথে কথা বলতে শুরু করলো, ছেলের মা কাঁদতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। 
প্রিন্সিপাল বলছেন ‘আপনি বাড়াবাড়ি করছেন।’ 
শিক্ষক বলছেন, ‘আপনি মনে হয় বুঝতে পারছেন না যে আপনার মেয়ে তার সহপাঠীকে ঘুষি মেরেছে।’ 
এইবার মহিলা তার মেয়ের কাছে জানতে চাইলো কী হয়েছে। 
‘এই ছেলে বার বার আমার ব্রা ধরে টানছিল, আমি থামতে বলেছি। কথা শুনছিল না তাই শিক্ষককে বলেছি, সে ছেলেটিকে কিছু না বলে আমাকে বলেছে ইগনোর করো। তারপরে ছেলেটি এতো জোরে টেনেছে যে, আমার ব্রা খুলে গেছে। আমি তখন নিরুপায় হয়ে ওর নাকে ঘুষি মেরেছি। ‘ 
এইবার ওই নারী সেই ছেলে শিক্ষককে বললেন, ‘আপনি আমার সামনে আসেন, আমি আপনার প্যান্টের সামনে স্পর্শ করবো।’ শিক্ষক একথা শুনে হতভম্ব এবং প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। ওই নারী এইবার বললো, ‘অথবা আপনি যান ওই মহিলা কাউন্সেলর, ছেলেটার মা বা আমার ব্রা ধরে টান দেন।’ 
হতে পারে এরা এখনো টিন এজার, কিন্তু এদের সাথে এই আচরণও যৌন নির্যাতন।  এই ছেলেটি আমার মেয়ের চেয়ে এক ফুট লম্বা, আয়তনও অনেক বেশি। আমার মেয়ের আপনার কাছে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল, আপনি সেটা দিতে ব্যর্থ  হয়েছেন, সে নিজে আত্মরক্ষা করেছে।’ 
একথার পর মহিলা মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং রিপোর্ট করেন শক্ত শাস্তি হওয়ার জন্য। 
সমগ্র পৃথিবী জুড়ে ঘরে ঘরে এমন মা এবং মেয়ে তৈরি হোক, এই কামনায় …………….    

লেখাটি ৮,৭৬৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.