মালাউই এর অগ্নিকন্যা 

0

তামান্না ইসলাম:

আফ্রিকার এক ছোট্ট দেশ মালাউই। আফ্রিকার অন্যান্য অনেক দেশের মতোই সভ্যতার আলো সেখানে আজও ভালভাবে পৌঁছায়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বরং পিছিয়ে আছে অনেক বেশি। বাল্য বিবাহ তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এক বিষয়। খুব কম  বয়সেই এই দেশে শিশুদের, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো কিছুদিন আগেও।
বাল্যবিবাহের সংখ্যা মালাউইতে পৃথিবীর যে কোন দেশের চেয়ে ছিল অনেক বেশি। ৮/৯ বছরের মেয়েদেরকেও বিয়ে দিয়ে দেওয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা ছিল সমাজের এবং রাষ্ট্রের চোখে। ৫০% এর ও বেশি মেয়েই বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে। এই সব মেয়েদের কোন আর্থিক স্বাধীনতা ছিল না। শিক্ষা, কাজ কোন কিছুর কোন সুযোগই ছিল না তাঁদের জীবনে। বলতে গেলে একপ্রকার  দাসত্বের জীবন কাটিয়েছে এই সব মেয়েরা। 
এখানেই ঘটনার শেষ নয়। বয়ো:সন্ধি পেরিয়ে যাওয়ার পরও যেসব মেয়ের বিয়ে হতো না, তাদেরকে পাঠানো হতো এক বিশেষ ক্যাম্পে, যেখানে তাদেরকে শৈশব থেকে পরিশুদ্ধ করে বউ হওয়ার উপযুক্ত করে তৈরি করা হতো। একজন ভাড়াটে বয়স্ক লোকের সাথে শারীরিকভাবে জোর পূর্বক তাদেরকে মিলিত হতে হতো, বাস্তবিক এর সাথে ধর্ষণের কী পার্থক্য আমি জানি না। এতে করে নাকি তাঁদের শরীরে কামনা, বাসনার উদ্রেক ঘটান হয়। এবং এর ফলে অবশ্যম্ভাবী ভাবে অনেক মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে, অনেকে এইডস বা অন্য ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

(I will marry when I want: Memory Banda)
এই সব ঘটনা  শুনলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় আমরা ঠিক কোন যুগে বাস করছি! কীসের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল ওই দেশের মেয়েরা। এমনি এক মেয়ে ‘মেমোরি বান্দা’ । মেমোরির আপন ছোট বোনের যখন ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় এক ৩০ বছরের লোকের  সাথে, সে তাঁর নিজের ভিতরে বিদ্রোহের আগুন টের পায়। সেই আগুন সে ছড়িয়ে দেয় গোটা দেশে।
তাঁর বয়স তখন মাত্র ১৫। তারই মতো বিদ্রোহী সব মেয়েদেরকে সে একতাবদ্ধ করে, সরকারের কাছে দাবী পেশ করে, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত সে চালিয়ে যায় তাঁর সংগ্রাম। ফলশ্রুতিতে ২০১১ সালে মালাউই সরকার তাঁদের দাবি মেনে নেয়। বিয়ের আইনগত বয়স ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৮ করা হয়। মাত্র ১৫ বছরের মেয়ে মেমোরি এই অসাধ্য সাধন করে। মেমোরির বয়স এখন ২০, দেখতে একটি মিষ্টি কিশোরী।
মাত্র কয়েক দিন আগে এই মিষ্টি কিশোরী মেয়েটি ক্যালিফোর্নিয়াতে সাড়ে পাঁচ হাজার উচ্চ শিক্ষিত সুপ্রতিষ্ঠিত নারীদের এক কনফারেন্সে কথা বললো, সেক্রেটারি হিলারি ক্লিনটনের ঠিক আগে। এতোটুকু ভয় নেই। হাস্যময়ী মেয়েটির  অফুরন্ত প্রাণশক্তি  আর সাহস বিশ্বের দরবারে মেয়েদের সুপ্রতিষ্ঠিত রোল মডেলের সারিতে বসিয়েছে  মালাউই এর এই অগ্নি কন্যা মেমোরিকে। 
শেয়ার করুন:
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

লেখাটি ৬৭৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.