রাত পোহালো…

0

শৌনক দত্ত:

কয়েকদিন ধরেই সবার মুখে একটাই কথা। ধীরুর চায়ের দোকান হোক কিংবা ক্লাব, সবখানেই আড্ডার কথা একটাই পাড়ার নতুন ভাড়াটিয়া। তিতলি’দি বিয়ে থা করেনি। বহুবছর রিটায়ার্ড করেছে জেলা কলেজ থেকে। দোতলা বাড়িতে একাই থাকতো এতোকাল। গত মাসে কলকাতার একজনকে ভাড়ায় দিয়েছে নিচ তলাটা।

মফস্বল শহর এর আগে এমন ভাড়াটিয়া দেখেনি স্মার্ট, গলায় উল্কি,পরনে জিন্স তাও ছেঁড়া ফাড়া। গটগট করে হাঁটে। কানে সবসময় হেডফোন, চোখে সানগ্লাস। আজ পাড়ায় বেশ বড় গুঞ্জন। তিতলি’দির ভাড়াটিয়া নাকি রোজ শহরের নিষিদ্ধ পল্লীতে যায়। আমিও তাকে দেখেছি কয়েকদিন ভাটিখানার মোড় ধরে ফিরতে। আজ ভাটিখানার মোড়ে এম.এল.এ কেষ্টবাবুর ছোট ভাই বিল্টুদা কী নাকি বলেছিলো তিতলিদির ভাড়াটিয়াকে। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে তিতলিদির ভাড়াটিয়া নাকি বিল্টুদাকে সবার সামনে সপাটে চড় মেরেছে। পাড়া তাই আজ বেশ থমথমে।

একটা মেয়ে ন্যুড ফটোগ্রাফি করে, বেপাড়ায় যায় রোজ, ছাইপাশ খায়, কীসব পোষাক পড়ে হাঁটে। বড় ছোটোর আদব কায়দা নেই। এটা কি ঠিক দিদি? এমন ভাড়াটিয়া পাড়ায় থাকলে ছেলেমেয়েরা তো নষ্ট হয়ে যাবে। আপনি তো এ পাড়ার আদি বাসিন্দা। আপনার তো একটা সম্মান আছে দিদি। একটা নষ্ট মেয়ের জন্য আপনার সম্মান যেতে দিতে পারি না, শত হোক আমি আপনার ছাত্র, তাই বিল্টুকে বলে কয়ে শান্ত করেছি। এখন আপনিই বলুন কী করা!

তিতলিদি কেষ্টবাবুর কথা চুপচাপ শুনছিলো। ক্লাব জুড়ে মানুষ, কিন্তু টুঁ শব্দ নেই। বিল্টুদা গালে হাত দিয়ে কেষ্ট বাবুর লোকজনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য একপাশে একা দাঁড়িয়ে তিতলিদির ভাড়াটিয়া মেয়েটি। আমি বলছিলাম কী কেষ্ট, ধীর ও ভারী গলায় বলে তিতলিদি, এপাড়ার অনেক পুরুষই কমবেশি এগুলো করে। বিল্টুও করে, শুনি প্রায়ই বিল্টুর অসভ্যতার কথা, তার ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য পাড়ার মেয়েরা চলাফেরা করতে ভয় পায়, তার বেলায় এতো বড় সালিশ বসেনি পাড়ায় কোনদিন।

আজ বসেছে কেন? কেননা আমার ভাড়াটিয়াটি একজন মেয়ে! সে পুরুষকে মেরেছে, তাই? আর বলছিলে ন্যুড ফটোগ্রাফির কথা, সেটা তার পেশা। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার পেশা বেছে নেবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পেশাটা একজন নারীর বলেই কি সমস্যা? তোমার ছেলেও তো তাই করে শুনেছি দিল্লিতে। মেয়েদের মধ্যে ফিসফাস কাল যেটা হলো, সেটা এর আগে এ পাড়ায় হয়নি। অথচ অনেক আগেই তা হওয়া উচিত ছিলো।

তর্কবিতর্ক চলছে, আমি দেখি ভিড় ঠেলে কখন যেন মনিদিরা এসে দাঁড়িয়েছে মেয়েটির পাশে, চোখে-মুখে তাদের ভোরের মতো আলো…..।

মেঘলা বিকাল, কালীবাড়ী ঘাট, ২০।০৩।২০১৭

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

লেখাটি ৯৪৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.