পূর্বপুরুষের স্পর্শের খোঁজে আন্দামানে

0

সরিতা আহমেদ:

বাঙালির মন ফেরারি হওয়ার জন্য কোনো কার্য কারণের ধার ধারে না। প্রকৃতি প্রেম হোক, মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম হোক আমরা বেরিয়ে পড়ি। কাছে হোক বা দূরে ,যখন  মন ফেরারি ডাক দেয়, তখন সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের বোহেমিয়ান অন্তর আত্মাকে তৃপ্ত করতে ঘর থেকে দুই পা ফেলে বেরোতেই হয়। আর যদি সে ডাক কালাপানির #আন্দামান থেকে আসে… যেখানে প্রকৃতি আর ইতিহাস মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে, সেখানে মনের উপর কোনো জোর চলে না।

২০১৩ তে এই অমোঘ ডাক পেয়েছিলাম। আমার আজন্মের স্বপ্ন আন্দামান ভ্রমণ সেবার সার্থক হয়। আন্দামানের নাম আমি প্রাইমারি পাশ করার আগেই জেনেছিলাম কল্যাণী মাসির কাছে, তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামী দাদা বিপ্লবী শ্রী নগেন দাশগুপ্তকে এই আন্দামানেই কালাপানির সাজা দেওয়া হয়েছিল কুখ্যাত সেলুলার জেলে। তাঁর বিপ্লবী জীবনের নানা রোমহর্ষক কাহিনী শুনে শুনে আন্দামান ও সেলুলার জেল দর্শনের খোয়াব সেই বাল্য বয়সেই হয়ে যায়।

আমরা যে কোনো জায়গায় যখন ভ্রমণে যাই তখন হয় প্রকৃতি প্রেম আমাদের চালিত করে নয় ইতিহাসের রাজকাহীনিরা হাতছানি দিয়ে ডাকে। কিন্তু আন্দামান এমন এক জায়গা যেখানে প্রকৃতির ভার্জিনিটি আর ইতিহাসের ওরিজিনালিটি দুইয়ের যুগপৎ মেলবন্ধন ঘটে।

গোটা আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭৪ টি দ্বীপ আছে। কিন্তু আন্দামানের ভ্রমণকারীদের জন্য মাত্র ৩৬ টা দ্বীপই প্রবেশযোগ্য। কিন্তু দুঃখের কথা কেউই এই ৩৬খানা দ্বীপ একবারের ট্রিপে দেখে আসতে পারে না।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন ধরনের উপজাতির মানুষের জীবনশৈলী ও প্রকৃতির মাঝে তাদের বসবাসের অভিনব ব্যবস্থাপনা, যা আমাদের তথাকথিত সভ্যতা থেকে যোজন মাইল দূরে । মূলত ছয়টি উপজাতির বাস আন্দামান-নিকোবর জুড়ে — ১। জারোয়া, ২। সেন্টিনেলি মঙ্গোলয়েড, ৩। ওঙ্গে, ৪। সাম্পেন , ৫। নিকোবরিস , ৬। গ্রেট আন্দামানিস । রিসেন্ট আদমশুমারি অনুযায়ী বর্তমানে ২৪০ জন জারোয়া , ৯৮ জন ওঙ্গে , ৩২ জন গ্রেট আন্দামানি, ২০০ সাম্পেন, ২৫০ সেন্টিনেলি মঙ্গোলয়েড এবং ৩০,০০০ নিকোবরিস রয়েছেন। ( তথ্যসুত্র: গাইডবুক এবং আন্দামানের সরকারি ডেটাবেস)
এখানে ৩টি স্বাদু জলের নদী বয়ে গেছে — কালোং , গাল্টিয়া এবং আলেকজান্দ্রিয়া। এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন কাঠচেরাই মিল (চ্যাথাম শ’মিল) এখানে অবস্থিত ‘চ্যাথাম আইল্যান্ডে’।

অক্টোবরের এক দুপুরে আমাদের নিয়ে স্পাইস জেট যখন পোর্ট ব্লেয়ার এ ‘বিনায়ক দামোদর সাভারকর এয়ারপোর্ট’ এর মাটি ছুঁলো তখন মেঘলা আবহাওয়ার খামখেয়ালি বাতাস বইছে। নির্দিষ্ট হোটেলে চেক ইন করে বিকেল ৪ টেয় আমরা গেলাম ‘ Corvyn Cove beach’ দেখতে । আন্দামানের জনপ্রিয় চার-পাঁচটি সৈকতের মধ্যে এটি একটি অসাধারণ সমুদ্রসৈকত। তখন গোধূলিবেলা, ক্যামেরার কারসাজি করার আদর্শ সময়।

এরপর সন্ধ্যে ৭টায় সেলুলার জেলের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখতে গেলাম। সেলুলার জেলের সামনে পৌঁছাতে আমার শৈশবের স্মৃতিরা যেন ঝাঁপি খুলে বসলো। যেন এখানে আসার জন্যই এবারের ট্রিপ। তখন টিকিটের জন্য ভিড় উপচে পড়ছে, মারাত্মক ধাক্কাধাক্কি। আমাদের ট্যুর ম্যানেজার সব আয়োজন করে রেখেছিলেন। শো শুরু হতে যখন লাইন করে আমরা জেলে প্রবেশ করলাম, হুড়মুড় করে মনে পড়ল এই সেই গেট যেখান দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার মুক্তিযুদ্ধে বন্দী হয়ে অসহ্য সাজা ভোগ করতে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের হাতে পায়ে বেড়ি দিয়ে এই সিংহদুয়ার দিয়েই ভেতরে আনা হতো, এই সেই পথ যেখানে নেতাজী এসেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে তৎকালীন বন্দীদের মুক্ত করতে, এই সেই পথ যেখান দিয়ে আমার জাতীয়তাবাদের প্রথম পাঠ পড়ানো নগেন মামা তার তরুণ জীবনে কারাবাস বরণ করতে প্রবেশ করেছিলেন… বিশ্বাস কর বন্ধুরা, সেই মূহুর্তে আমার সারা গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল, আজ যখন লিখছি এই লেখা ঠিক তখনও একইরকম রোমাঞ্চিত হচ্ছি।

 

 

 

 

সেলুলার জেলের প্রবেশ পথের সামনেই খাড়া রয়েছে ঐতিহাসিক এক অশ্বত্থ গাছ , যেসময় সেলুলার জেল নির্মাণ করা হয় তখন থেকেই সে রয়েছে। মাঝে অনেক ঝড়ঝাপটা এবং সুনামির মত আঘাত সয়েও সে অনড় থেকেছে একইভাবে। কেন জান ? আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে পরাধীন ভারতের বীর সন্তানদের গল্প বলবে বলে। লাইট অ্যাণ্ড সাউন্ড শো-এর ‘গল্পদাদু’ হলো এই সর্বংসহা অশ্বত্থগাছ।

সেলুলার জেল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৯৬ সালে, শেষ হয় ১৯১০ সালে । কিন্তু আধা নির্মিত ওই জেলে ১৮৯৭ সাল থেকেই রাজবন্দীদের কয়েদ করতে শুরু করে বৃটিশ সরকার যা চলে ১৯৩৩ সাল অবধি। ” এখানেই ইংরেজ শাস্কেরা নির্মম ও নৃশংসভাবে বহু রাজবন্দীকে হত্যা করে ভাসিয়ে দিয়েছে বঙ্গপোসাগরের সুনীল জলরাশিতে। এই জেলের প্রত্যেক খানি ইঁট অগনিত রাজবন্দীর অবর্ণনীয় দুঃখ যন্ত্রণার নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে।”
(কমরেড গণেশ ঘোষ: ‘মুক্তিতীর্থ আন্দামান’ )

জেলবন্দীদের গাথা যখন এক এক করে বুড়ো অশ্বত্থ বর্ননা করে চলে তখন স্টার-শেপ এই বিশাল সেলুলার জেলের মধ্যবর্ত্তি স্থলে উপবিষ্ট আমরা কয়েক শ’ শ্রোতা পিছিয়ে যাই সুদূর অতীতে । যখন দেশের প্রতিটি ঘরে জন্মেছিল এক একটা ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী চেতনা। একের পর এক কাহিনী আর জেলার বেরী সাহেবের অকথ্য অত্যাচারের নিদর্শনগুলো যখন ছবির মতো ফুটে ওঠে ,তখন আপনা থেকেই বুকের ভেতর মোচড় দেয়, চোখের লোনা জল বাঁধ ভাঙ্গে। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে জীবন্ত হয়ে উঠলো ইতিহাসের কালো দলিল- কালাপানির অসহ্য নৃশংসতা।

পরদিন সকালে যখন সেলুলার জেল পরিদর্শনে গেলাম, তখন গাইডের কাছে জানলাম অনেক অজানা কথা । প্রবেশপথের দু’ধারে যেখানে আগে বৃটিশ অফিসারদের কুঠুরি ছিল সেটা এখন জেল-মিউজিয়াম। এখানে আছে তৎকালীন সময়ের বন্দীদের ব্যবহৃত নানা দ্রব্য, তাদের জেল পোষাক , খাওয়ার পাত্র , নানা মুদ্রা এবং সাল অনুযায়ী বন্দীদের ছবি , জেল জীবনে তাদের হাতে আঁকা অনেক ছবি যা কালের নিয়মে হলুদ হয়ে গেছে।

মিউজিয়াম দেখার পরে মূল জেল ক্যাম্পাসে প্রবেশ, এই বিশাল জেল star shaped. সাতখানা wings দিয়ে গঠিত, এখন দেখার মধ্যে মাত্র তিনটে wing ঠিকঠাক আছে ,দুটি শাখা সুনামীতে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বাকি দুটি মিলে গড়ে উঠেছে এখানকার সবচেয়ে বড় হাস্পাতাল ‘গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাস্পাতাল’। সাতটা wing যুক্ত ছিল একটা মিডিল টাওয়ারের সাথে যেখানে ২৪ X ৭ পাহারা থাকতো।

তিন তলা এই বিশাল জেলের কুঠুরিগুলো বেশ ছোট , একজন প্রমান সাইজের মানুষের ঠিকমত শোয়ার জন্য কোনাকুনি ভাবে জায়গা লাগবে এমন। প্রতিটা তলায় দু’জন করে অর্থাৎ প্রতিটা wing এ ৬জন প্রহরী = একসাথে গোটা জেলে ৪২ জন প্রহরী ২৪x৭ পাহারায় থাকতো। জেলের কুঠুরি গুলো আজও একইরকম অক্ষত আছে, গারদের রডগুলো স্পর্শ করলে শিহরিত হতে হয়, মধ্যবর্ত্তি টাওয়ারের মধ্যে আছে বন্দীদের নামাঙ্কিত ফলক, সাল ও রেজিমেন্ট অনুযায়ী। সেখানে নগেন দাশগুপ্তের নাম খুঁজে পেয়ে ও তাকে স্পর্শ করে আমি কান্না আটকাতে পারিনি। ৬৯২ জন বন্দীদের নামের মধ্যে তাঁর নাম ছিল ২০৩ নাম্বারে।

গাইডের মুখে জেলের নানা কাহিনী শুনে মাথা ঝিমঝিম করছিল, দেখলাম সেই স্থান যেখানে একসাথে তিন জনকে ফাঁসি দেওয়া হতো খোলা ময়দানে, বিনায়ক দামোদর সাভারকারের কুঠুরির ঠিক সামনে। সেই ফাঁসির মঞ্চ আজও একইভাবে মজুত, শুধু সংরক্ষণের জন্য ঘেরা দেওয়া হয়েছে। সেই লিভার যা দিয়ে একসাথে তিনটে ফাঁস টানা যেত, একই ভাবে দণ্ডায়মান ইতিহাসের নির্মম দলিল বুকে নিয়ে। বড় অসহনীয় ছিল সেই দৃশ্য, হোক না কল্পনার আঁধারে, তাতে কী!

সেলুলার জেল নিয়ে এতগুলো শব্দ খরচা করলাম বলে প্লিজ রাগ করো না। আসলে একটা সময় ছিল যখন আন্দামান আর কালাপানির সাজা আর সেলুলার জেল সমার্থক ছিল, আন্দামানের ডায়েরি অসম্পূর্ণ থাকবে এই বর্ণনা ছাড়া।

যাই হোক, এরপর আমরা গেলাম #বারাটাং দ্বীপে, যা জারোয়া ল্যান্ড নামে খ্যাত। জিরকাটাং নামে চেক পোস্টে আমাদের তল্লাশি নেওয়া হয় ও পারমিট জোগাড় করে আমরা ৫১ কিমি এলাকা বিস্তৃত জারোয়া ভূমিতে প্রবেশাধিকার পাই । গভীর গহন রেন ফরেস্ট এরিয়ায় টানা ৫১ কিমি গাড়িতে যাওয়া এক রূদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা ছিল। এখানে ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ , গাড়ির কাঁচ নামানো নিষিদ্ধ , মোবাইল নেটওয়ার্ক মেলে না এবং কোনো অবস্থাতেই গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ। পুরো এরিয়া সিসিটিভি ক্যাম ও জ্যামার দিয়ে সুরক্ষিত। কারণ সভ্য সমাজ সভ্যতার নামে এর আগে বহু অসভ্যতামি করেছে নিরীহ জারোয়াদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে। তাই কেন্দ্রসরকার থেকেই পুরো আন্দামানে সুরক্ষা ব্যবস্থা এমনই শক্ত ।

জারোয়াদের নিয়ে নানা মিথ্যের মিথ মুখে মুখে তৈরি হয় আমাদের মত মেইনল্যান্ডের বাসিন্দাদের কাছে । আসলে কিন্তু এরা এখন যথেষ্ট সভ্যতার আলোকপ্রাপ্ত । কিছু জন হিন্দিভাষাও বোঝে । এরা থাকে নিজস্ব কুঁড়ে ঘরে , এই বিশাল ৫১ কিমি রেন ফরেস্টের সুরক্ষিত দ্বীপে এরা মর্জির মালিক । যদি খাদ্য সন্ধানে এরা বেরোয় তবেই মিলবে দেখা । কিন্তু ফটোগ্রাফি নৈব নৈব চ !

সৌভাগ্যক্রমে আমরা আসা -যাওয়ার পথ মিলিয়ে মোট ৭ জন তীর ধনুকধারী জারোয়া পরিবার দেখেছি। বারাটাং এর জারোয়া ল্যান্ড থেকে আমাদের গাড়ি সোজা বেরিয়ে গেল লাইমস্টোন কেভ দেখতে , ম্যানগ্রোভ অরণ্যের পিছল ভূমি পেরিয়ে যখন একটা খাঁড়িতে থামল আমাদের স্পিড বোট তখন আমরা রেন ফরেস্টের উঁচুনিচু বন্ধুর পথ দিয়ে অজস্র সরীসৃপ ও পোকামাকড়ের কামড় বাঁচিয়ে লাইন করে এগোলাম লাইমস্টোন কেভের দিকে। পায়ে হাঁটা ছাড়া প্রায় ৩ কিমি-র এই বিপদ সঙ্কুল পথ পাড়ি দেওয়ার অন্য কোনো মাধ্যম নেই। এই চুনাপাথরের গুহায় প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে নির্মান করেছে অজস্র ডিজাইনের মূর্তি – হাতির মাথা, শঙ্খ , চক্র , ইত্যাদি অনেক রকমের ডিজাইন নির্মিত হয়েছে মানুষের অবদান ছাড়াই । গুহাটি বেশ গভীর ও অন্ধকার ( টর্চ নিয়েই যেতে হয়েছিল ) ।

পরদিন গেলাম #হ্যাভলক দ্বীপে , M.V Coastal Cruize Ship এ চড়ে । এককথায় অসাধারণ এই সমুদ্রযাত্রা । ফ্লাইং ফিশ ও ডলফিনের মধ্য দিয়ে যখন আমাদের জাহাজ এগোচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল স্বর্গ যদি সত্যি কোথাও থাকে তো সেটা এখানেই । #রাধানগর বীচ এখানকার সবচেয়ে সুন্দর বীচ , সান বাথের জন্য আদর্শ । এখান থেকে আমরা পরে গেছিলাম #নীল আইল্যান্ডে । প্রকৃতির সবটুকু মণিমাণিক্য বোধহয় এই সৈকতে সাজানো রয়েছে । প্রবালের যে এত বৈচিত্র্য হয় , এত রূপ হয় তা এখানে না এলে জানাই হবে না । নীল দ্বীপে একরাত থেকেছিলাম , প্রাপ্তি ছিল অতুল্য । নীল দ্বীপের #ভরতপুর_বীচ সূর্যাস্ত দেখার এক আদর্শ স্থান । গ্লাস বোটিং ,snorkeling এর সুযোগ ছাড়া যায় না । জীবন্ত প্রবালের ওপর দাঁড়িয়ে পায়ের নিচে তাকে ফীল করার যে কী আনন্দ আছে তা এখানে না এলে অনুভুত হত না ।

নীল আইল্যান্ড থেকে কোস্টাল ক্রুজে ফিরে আসার পথে দেখলাম #নর্থ_বে দ্বীপ যার লাইট হাউজের ছবি আমাদের 20 টাকার নোটে দেখা যায়। এই দ্বীপেই আছে মাউন্ট হ্যারিয়েট যা আন্দামানের ২য় উচ্চতম শৃঙ্গ ( প্রথমটি হল স্যাডেল পিক)।

এর পরদিন আমরা গেলাম #রস_আইল্যান্ড । এখানে যেতে হলে ‘রাজীব গান্ধী ওয়াটার কমপ্লেক্স জেটি’ থেকে জাহাজ ধরতে হয় । বৃটিশ রাজের সময় এই রস আইল্যান্ড ছিল আন্দামানে বৃটিশদের প্রথম প্রশাসনিক অফিস। এখানে আজও বৃটিশ কলোনীর ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো গীর্জা , জল পরিশুদ্ধ করার মেশিন, জাপানি ট্যাঙ্কার, সিমেট্রি ইত্যাদি আছে কালের প্রাচীন শিকড়ে আষ্টপৃষ্টে বাঁধা অবস্থায়। আর আছে একটি মিউজিয়াম। এখানে সবচেয়ে সুন্দর হল খোলামেলা প্রকৃতি ও তার মধ্যে খেলা করা হরিণ, ময়ুর, খরগোশ ইত্যাদি বহু প্রাণী।

এরপরের গন্তব্য ছিল #জলি_বয় এবং #রেড_স্কীন আইল্যান্ড। এই দুই দ্বীপ মূলত খ্যাত দুস্প্রাপ্য হলুদ ও লাল প্রবালের আকর হিসেবে । সেখানে আমাদের গ্লাস বোটিং এর দ্বারা এদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। জ্যান্ত নীল ঝিনুক ও হলুদ প্রবাল হাতে নেওয়ার অভিজ্ঞতা কোনো দিন ভুলবো না।
এরপর একে একে মাড আইল্যান্ড , চ্যাথাম শ’মিল , ভলক্যানিক আইল্যান্ড ইত্যাদি দেখা হল , সবগুলোয় নামতে পারমিশান পাইনি ।

আসলে আন্দামান ট্যুর ঠিকমত করতে হলে মিনিমান এক মাস সময় দরকার , যদি খুব গভীরভাবে দেখার চোখ থাকে তাহলে । নইলে মাত্র এক সপ্তাহ -দশ দিনের প্যাকেজেও যাওয়া যায় । কিন্তু আমার মত ভ্রমণ পাগলদের এইটুকু সময়ে মন ভরবে না । নানা দ্বীপ ভ্রমণ ছাড়াও এখানে পোর্ট ব্লেয়ার টাউনে দ্রষ্টব্য হিসেবে রয়েছে #সামুদ্রিকা_মিউজিয়াম , #এন্থ্রোপোলজি_মিউজিয়াম#সাগরিকা_মার্কেট

বি.দ্র — এখান থেকে কোনো সামুদ্রিক জিনিস আনা যায় না। কুড়ানো ঝিনুক, প্রবাল বা যেকোনো সামুদ্রিক পদার্থ নিষিদ্ধ। ফেরার দিন এক বাচ্চার ব্যাগে কিছু ঝিনুক পাওয়া যায়, এয়ারপোর্টে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার সময় সিকিউরিটির অমায়িক গলাটা আজো পাই — ” দেখুন আপনারা এখানে এই বিচিত্র জিনিসগুলো দেখতেই তো আসেন , প্রতিবছর লাখ লাখ ভ্রমণ যাত্রী এখানে আসে, তারা যদি একটা করে প্রবাল টুকরো তুলে নিয়ে যায় স্মারক হিসেবে তাহলে কি আর এই সৌন্দর্য বেশিদিন অক্ষত থাকবে ? আপনারা কি আর এখানে আসার ইন্টারেস্ট পাবেন ?” খুব সীমিত কিন্তু খুব দামী কথা গুলো বলেছিলেন উনি ।

ফিরে আসার দিন মন মানতে চাইছিল না মোটে । সুযোগ পেলে আবার আসব কথা দিয়েছি সেলুলার জেলের ওই লোহার ফটকের কাছে , রক্তপ্রবালের লালীমা আর সূর্যাস্তের হলদে পেলবতার কাছে ।
Its a land that is cordially connected with our independence history, our biological forefathers , the human evolution (Tribals) and marine beauty of colourful corals.
..To me, Visiting Andaman is a Bliss of Solitude !

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

লেখাটি ৭০৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.