‘তনু’ হত্যার এক বছর আজ, হত্যাকারী কোথায়?

নাসরীন রহমান:

আজ ২০ মার্চ, তনু হত্যাকাণ্ডের একবছর পূর্ণ হলো; গতবছর এইদিনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের একবছর পূর্ণ হলেও আজ পর্যন্ত তনুর হত্যাকারী পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি! দীর্ঘ এক বছরেও এই মামলার কোনও কিনারা করতে পারেননি সিআইডি।

উপরন্তু জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলছে সময় ক্ষেপন! এ পর্যন্ত এ মামলায় শতাধিক সামরিক ও বেসামরিক লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং তনুর বাবা-মা-ভাইসহ সবাই এখনও প্রিয়জন হারানোর চাইতেও আতংকিত জীবনযাপন করছেন। অনবরত হুমকির মুখে তারা তনু হত্যার বিচারের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।

সোহাগী জাহান তনু

গত বছরের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে কালভার্টের ২০ থেকে ৩০ গজ পশ্চিমে ঝোঁপ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়; মুখে, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল তার, রক্তাক্ত ছিল দেহ। স্পষ্ট প্রমাণ ছিল, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

তনুর বাবা কুমিল্লা সেনানিবাসের বেসামরিক কর্মচারী বলে সেনানিবাসের কোয়ার্টারেই পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ভিক্টোরিয়া কলেজে ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী তনু৷ লেখাপড়ার পাশাপাশি কলেজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন।

সেদিন বিকেলেও বাড়ির কাছেই গিয়েছিলেন ছাত্র পড়াতে৷ কিন্তু রাত ১০টাতেও বাসায় ফিরে না আসায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের ভিতরেই এক কালভার্টের নিচে পাওয়া যায় সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ৷

সেনানিবাসের মতো জায়গায় তনুর লাশ উদ্ধারের পর এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে তখন দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় আজ অনেকটাই ভাটা পড়েছে তাতে। উপরন্তু তনু হত্যা মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখে, তনুর হত্যাকারী চিহ্নিত, গ্রেপ্তার কিংবা ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তনু হত্যার বিষয়টি নিয়ে তখন নানা রকমের প্রশ্ন উঠে এসেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল; সেনানিবাসের ভেতরে কিভাবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সম্ভব! ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত!

শুরু থেকেই ঘটনাটি আড়াল কিংবা গোপন করার এক ধরনের অপচেষ্টা অভিযোগ ও শোনা গেছে সংবাদমাধ্যমে। তনুর মা আনোয়ারা বেগম সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেছেন, “আমার মেয়েকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কথা শোনেন না। কয়েক দিন আগে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাদের কথা বলতে নিষেধ করেছেন। তারা নাকি চেষ্টা করছেন।”

আর আগেও তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনার ডিএন টেস্ট বিভিন্ন জনের সাথে মিলিয়ে দেখা হলেও , তনুর মা সুনির্দ্দিষ্টভাবে যে দুজন সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন অজ্ঞাত কারণে তাঁদের সাথে ডিএনএর নমুনা মিলিয়ে দেখা হয়নি! একটি পরিবারের সদস্যরা যারা হারিয়েছেন তাদের প্রিয় বোনকে, প্রিয় সন্তানকে; কি করে মেনে নেওয়া সম্ভব খুনিরা চিহ্নিত পর্যন্ত হচ্ছেন না এখন পর্যন্ত!! তনুর মা, তনুর বাবা, তনুর ভাইয়ের, বন্ধুদের দীর্ঘশ্বাস ভারী থেকে ভারী

হয়ে একটাই প্রশ্ন তুলছে সর্বত্র; তনু হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়া কি আদৌ সম্ভব হবে এদেশে? আর কত অপেক্ষা করতে হবে একজন মাকে তাঁর প্রিয় সন্তানের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে?

শেয়ার করুন:
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.