তবে পুরুষদেরকেও বলুন ওড়না পরতে

0

মাহরীন ফেরদৌস: 

আসুন রঙ মাখি… হোলি উপলক্ষ্যে নয়। রঙ মাখি নিজেদের ভেতরকার বিকৃত চেহারা লুকাতে। লোক ঠকাতে। ভণ্ডামি করতে। রঙের আড়ালে থেকে রাস্তার মাঝখান থেকে মেয়েদেরকে নোংরাভাবে ছুঁয়ে দিতে। একদিন নয়, দুই দিন নয়, আসুন সারা বছর রঙ মাখি। ভদ্রতার মুখোশ তো আমরা বরাবরই পরে থাকি, এবার সে মুখোশ না হয় রঙিন করি। 

মাহরীন ফেরদৌস

আমাদের তো প্রায়ই উৎসবের বাহানা লাগে মেয়েদের শরীরে, বুকে, নানা জায়গায় হাত দেওয়ার জন্য। সেটা নিউ ইয়ার, পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখ, হোলি যেই দিনই হোক না কেন। উৎসব উদযাপনের নামে লাঞ্ছিত করার লাইসেন্স পাওয়া যায় এখানে। আর কেউ কিছু বলতে আসলে তো ঢালাও ভাবে মেয়েদেরকে দোষারোপ করাই যায়। তা তাদের পোশাক নিয়ে হোক কিংবা আধুনিকতা নিয়ে। কোথাও একটু বেশি মানুষের ভিড় দেখলে হাত নিশপিশ করে ওঠে। যদি এই ভিড়ের মাঝে কোন নারীকে খপ করে ছুঁয়ে দেওয়া যায়, আহ! ১০ সেকেন্ডের সুখ। আত্মতৃপ্তি। অর্থাভাব, রাস্তার জ্যাম, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়া, প্রাক্তন প্রেমিকার স্মৃতি, চাকরির অভাব, ফেসবুকের স্ট্যাটাসে অল্প লাইক, কম সিজিপিএ, স্মার্ট ফোনের অভাব, বাবার পকেটে কম টাকা থাকা, মামার হোটেলে না খেতে পারা, পকেটে সিগারেট নেই, রিকশা ভাড়া বেশি কেন, আজকে এত গরম কেন এইসব কিছুর প্রতি বিতৃষ্ণা আর ক্ষোভ থেকে যেন নারীদেরকে লাঞ্ছিত করা যায়। লাঞ্ছিত করে মনে মনে আমোদ অনুভব করা যায়। বন্ধু মহলে ‘প্লেয়ার’ সাজা যায়। বছরে ৩৬৪ দিন চোখ দিয়ে, মন দিয়ে, কথা দিয়ে, চিন্তা দিয়ে, স্পর্শ দিয়ে, কল্পনা দিয়ে, হাত দিয়ে, পুরুষাঙ্গ দিয়ে অনবরত ধর্ষণ করে বিশ্ব নারী দিবসে কিছু সুন্দর আর মুখস্ত বুলি নারীদের বললেই নিজেদেরকে সেরা মানুষ বলে মনে হয় আমাদের। 

সাধারণ মানুষ তো বাদই দিলাম এখানে তো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও মনে করেন, ইভটিজিং এ উস্কানি দেওয়ার জন্য দায়ী নারীদের পোশাক। যেন পোশাক তো নয় কোন সাইনবোর্ড যেখানে অদৃশ্য কালিতে লেখা থাকে, “আমি উস্কানি দিচ্ছি, আমাকে ইভটিজিং এর শিকার করুন, আমাকে লাঞ্ছিত করুন”। নারীরা জন্ম তো নেয় নারী হিসেবে কিন্তু জন্ম নেওয়া মাত্রই যেন তাদের কপালে লেখা হয়ে যায় তারা কী করবে, কোথায় যাবে, কী পরবে, ক’টার সময় বাড়ি ফিরবে তার সিদ্ধান্ত সমাজ নিবে, পরিবার নিবে, পৃথিবী নিবে, অন্যরা নিবে, শুধু স্বয়ং নারী নিবে না। 

আহা! এত কপাল নিয়ে নারীরা যাবে কোথায়? 

খুব সম্ভবত সেই বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভেতরের ইয়ে জেগে উঠে কোন মেয়ের শরীরের ওড়না সরে গেলে বা কোন মেয়েকে ওড়না ছাড়া দেখলে। খুব সম্ভবত তিনিও মুখোশ পরা মানুষ। শুধু মুখোশটাকে রঙিন করা বাকি… 

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষা ও মুক্তচিন্তার চর্চা করতে যায়। সেখানে কার পোশাক কী হবে তা নির্ধারন করে দেওয়ার দায়িত্ব তো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হওয়ার কথা নয়। আর “পুরুষদের ক্ষেত্রে শুধু শালীন পোশাক, আর নারীদের ক্ষেত্রে ওড়না বাধ্যতামূলক কেন” এই প্রশ্ন আজও মস্তিষ্ক খুঁজে ফিরে। আর ওড়নাই যদি শালীনতার বর্ম হয় তবে শুধু নারীদের কেন, পুরুষদেরকেও বলুন না ‘ও” তে ওড়না পরে ঘর থেকে বের হতে।

মাহরীন ফেরদৌস 

ক্যানসাস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে।  

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

লেখাটি ১,০৭২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.