মৃত্যুর আগে বাঁচিয়ে তোলো

ফারজানা নীলা:

আশেপাশে সবাই আত্মহত্যা বিষয়ক বিশারদ হয়ে উঠায় আমিও একটু জ্ঞান ঝাড়তে আসলাম। (সঙ্গ দোষে স্বভাব নষ্ট আর কী)  

১- আপনারা যারা কেউ আত্মহত্যা করলে বুক ভরা হতাশা নিয়ে বলে উঠেন, “ইশ সে সাহসী, আমি সাহসী না, আমি পারি না আত্মহত্যা করতে” তারা দয়া করে একটু ভেবে দেখবেন (যদি সময় পান আরকি) আপনাদের এমন হতাশা মার্কা আর আত্মহত্যা সাপোর্ট টাইপ কথাবার্তা অন্যদেরও হতাশাগ্রস্ত করছে কীনা! 

ফারজানা নীলা

২- আত্মহত্যাকারীকে গালাগালি দেওয়ার আগে ভাবিয়েন সবার সহ্য ক্ষমতা এক না। আপনার কাছে যেটা অতি ফালতু কারণ, অন্যদের কাছে সেটা ভয়ানক কারণও হতে পারে। পাখি ড্রেস না পেয়েও কিশোরী আত্মহত্যা করে, পরীক্ষায় ফেল করলেও করে, সিরিয়াল দেখতে না দিলেও করে, প্রেমে ছ্যাঁকা খাইলেও করে, চাকরি না পাইলেও করে, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার আপনার কাছে ব্যাপারটি সহ্যযোগ্য, মাগার অন্যের কাছে এটাই জীবন, এটা না পাইলে জীবন বৃথা টাইপ চিন্তা ভাবনা করে। কে কীভাবে যন্ত্রণা পায় কীভাবে সেটা ট্যাকেল করে সেটা মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়। সো গালাগালি বন্ধ। পিলিজ।

৩- কেউ মরলেই তার সাথে সম্পর্কিত মানুষদের দোষারোপ দেওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন। তারে আপনি চিনেন না, জানেন না খালি ফেসবুকে প্রেমে ছ্যাঁকা খাইছে টাইপ স্ট্যাটাস দেখেই তার প্রাক্তন-অপ্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা স্বামী-স্ত্রীকে দোষারোপ করা শুরু করলেন! যে মরছে সে হয়ত কারো নামই মেনশন করে যায় নাই মাগার আপনারা পাবলিকগন নিজ দায়িত্বে তার প্রেমিক প্রেমিকার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ফেললেন! 

ধরেন, প্রেম ছিল,  এরপর সম্পর্ক ভাঙছে, এই ভাঙার জ্বালা সে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলো। তাতে অপরপক্ষের দোষ কী? সম্পর্ক হওয়া যেমন স্বাভাবিক, ভাঙাটাও স্বাভাবিক। ভাঙলে কষ্ট হয় যন্ত্রণা হয় সেটাও স্বাভাবিক। এখন এর জন্য যদি নিজের ক্ষতি নিজেই করে তাতে অন্যজনের ঘাড়ে দায় চাপানো মানে তো তারে এখন আজীবনের জন্য গিল্টি ফিলিংসে ফেলে দিলেন। বনিবনা হচ্ছে না বা তার অন্য কাউকে ভাল লেগে গেল’ সে সড়ে আসতে চাইলো। যেটা দুইজনের জন্যই ভালো। কারণ ভালোবাসাই যদি না থাকে দুইপক্ষের যেকোনো এক পক্ষের তাহলে সে সম্পর্কে দুইজনের কেউ সুখী হতে পারে না। মিটমাট করে শেষ হলো সম্পর্ক এরপর কেউ যদি আত্মহত্যা করে তাহলে এর জন্য তার প্রাক্তনকে দায়ী করেন কোন যুক্তিতে? তাইলে তো জগতে তালাক ডিভোর্স ব্রেকআপ সব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ভালোবাসি না তাও থাকতে হবে কারণ নইলে পড়ে কিছু হইলে আমার দোষ! 

৪- মরে গেলে তো ফিরে আনার কোনো উপায় নাই তাই মরার পর হা হুতাশ না করে আপনার বন্ধুবান্ধবের খোঁজ খবর রাখুন। কেউ হতাশায় ভুগলে তাকে সময় দিন, ভালোবাসা দিন, তার মন ভালো রাখার চেষ্টা করুন, তাকে চোখে চোখে রাখুন। সে যেন একটা কাঁধ পায় মাথা রাখার। তাকে জীবনের প্রতি টেনে আনুন। তার হাত ধরে বলুন বয়স কম, কিন্তু জীবন অনেক বড়। একটা জীবন প্রেম টাকা জামা-কাপড় রেজাল্টের জন্য নষ্ট করার জন্য না। জীবনে খারাপ সময় যেমন আসবে ভাল সময়ও আসবে,এরজন্য চাই একটু ধৈর্য একটু অপেক্ষা। এই ধৈর্য ধরার সময়ে আমি আছি সাথে তোমার।  তোমার কষ্ট গুলো আসো ভাগ করি, হাতধরে পারি দেই এই কর্কশ সময়। দেখবে এরপর শান্তি আসবেই।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.