আত্মপ্রত্যয় ছেড়ে কেন আত্মহনন বেছে নেওয়া?

ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী:

আত্মহত্যা বা আত্মহনন (Suicide) যার আভিধানিক অর্থ আত্মনাশ, আত্মঘাত, স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশ। উইকিপিডিয়া বলছে আত্মহত্যা হলো একজন নর কিংবা নারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়া বিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় সুই সেইডেয়ার থেকে আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা।

ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী

আত্মহত্যার অর্থ তো মোটামুটি এই দাঁড়ায়। কিন্তু জীবন সম্পর্কে কতোটা বীতশ্রদ্ধ হলে, ঠিক কতখানি বিতৃষ্ণা এলে একজন মানুষ নিজেকে হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনা এই প্রশ্ন মাথায় নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছি সারাদিনমান। উত্তর খুঁজে পাবো কী তার আগেই আত্মহননের তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জলি, মডেল সাবিরা , জয়া ( জ্যাকুলিন ) এবং সর্বশেষ যুক্ত হলো শান্তার নাম।

কেউ উচ্চশিক্ষিত, কেউ প্রতিভাবান, কেউ কবিতা লিখতে ভালোবাসতো – সবারই নিজস্ব একটা জগৎ ছিলো তারপরও শেষরক্ষা হয়নি। প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেবার পরিবর্তে নিজের প্রাণটাই যে শেষ করে দিয়েছে তারা! অদ্ভুত ব্যাপার হলো প্রত্যেকেই আত্মহত্যা করেছে প্রেমিক বা স্বামী নামের লোকটার কাছ থেকে পাওয়া মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ।
জীবনকে এতোটা ঘৃণা কখন করা যায় যখন বাঁচার শেষ ইচ্ছেটুকু পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে না?

কেন অন্যের ওপর অভিমান করে নিজেকে শেষ করা? যেখানে শান্তাদের আত্মহত্যায় প্রেমিক পুরুষদের জীবনে কিছুই এসে যায় না। বরং হাঁফ ছেড়ে বাঁচে তারা। এই চরম সত্যটা কবে অনুধাবন করতে পারবে মেয়েগুলো ?

 ” আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী ” পরিচয়টা ধুয়েমুছে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনা। বরং আবারো প্রেমিকরূপে , মুখ মুছে ভদ্রলোক সেজে টুপ করে পরের বাসটাতে চড়ে বসে। ( সেদিন কোন একটা সিনেমাতে বলতে শুনেছিলাম মেয়েরা নাকি বাসের মতো, একটা মিস করলে আরেকটা আসবে!! )

নারীমুক্তির এই যুগে স্বপ্নের অভিযাত্রায় যখন প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের দৃপ্ত পদচারণায় তৈরি হচ্ছে একেকটি যুগান্তকারী মাইল ফলক – সেসময় তথাকথিত প্রেমিক বা স্বামীদের জন্য মেয়েগুলো অকালে ঝরে যাবে, এক বুক অভিমান নিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেবে – এ বড্ড বেমানান, বড্ড দুশ্চিন্তারও বটে।

মানসিক অবসাদ, ব্যর্থতা, হতাশা কার জীবনে না হানা দেয়? হাসিমুখে চলেফিরে বেড়ানো মানুষগুলোর ভেতরের কথা জানতে চেষ্টা করলে দেখা যাবে বেদনার নীল পাহাড় জমে আছে সেখানে। তবুও তো লড়াই। তবুও তো বেঁচে থাকা। এই ক্ষুদ্র জীবনে ক্ষুদ্র আশা নিয়ে বেঁচে থাকা।

অভিধানে যখন ” আত্মহত্যা ” শব্দের মানে খুঁজে বেড়াচ্ছি তখন আশেপাশে অনেকগুলো শব্দ আমাকে আলোড়িত করে –

১। আত্মবিশ্বাস
২। আত্মপ্রত্যয়
৩। আত্মসম্মান
৪। আত্ম অন্বেষণ
৫। আত্ম মূল্যায়ন।

মনে হয়, নিজের প্রাণটা নিজে শেষ করার আগে শান্তারা যদি একবার এই শব্দগুলোর প্রতি আস্থা রাখতে পারতো! আহা! এগুলোর মাঝেই তো জীবন খুঁজে পেতে পারতো !

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.