ভালোবাসো তোমার অনন্যতাকে

সীমা কুণ্ডু:

জেগে ওঠো ভালোবাসা, জেগে তোল ভালোবাসা। কেবল নিজের জন্য একবার ভালোবাসা জাগাও নারী।

জীবন কেমন?? এটা একটা উত্তরহীন প্রশ্ন কিংবা বহুমাত্রিক উত্তরযুক্ত প্রশ্ন। যে যেভাবে আছে, থাকতে শিখেছে, থাকতে বাধ্য হচ্ছে, কিংবা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার কাছে জীবন তেমন। যার যেমন চলছে তার জীবন তেমন। একবার জীবনকে নিকষ ভালোবেসে দেখ, তোমার ভালোবাসার ফুলে ফলে রূপে রসে গন্ধে ঝলমল করবে তোমারই পৃথিবী। তুমি তো তাই চাও, বল চাও কিনা?

সীমা কুণ্ডু

তুমিই তো চাও তোমার সুপ্ততা জেগে উঠুক, তোমার ইচ্ছা প্রকাশ হোক, প্রকাশ খুঁজে পাক পূর্ণতাকে। তোমার ইচ্ছে পূরণের দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে। তোমার ইচ্ছে পূরণে তোমার সঙ্গী কেবল নিঃসঙ্গতা এবং নিঃসঙ্গতা বোধ। এই বোধও প্রকৃতির দান। এই বোধই তোমার ভেতর জাগ্রত করে মাতৃত্ব। যার অতলান্ত মায়ার বন্ধনে তুমি তোমার বুকে জমানো ভালোবাসায় বিগলিত করো শিশুপ্রাণ, শাদা করে তোল নতুন জীবন। তোমার হাতে প্রাণ পায় মানবসভ্যতা, তুমি ধংসের নও, ধারণের।   

সব প্রাণী কিংবা সমস্ত জীবই চলমান জীবনে আসে কোন না কোন মাতৃজঠর হতে। মাতৃত্ব প্রজনন ছাড়া সংঘটিত হয় না। তবে প্রজননের তীব্র আকাঙ্ক্ষার চারপাশে একটা নিরাপদ জাল থাকা দরকার, এটা অনস্বীকার্য। আর্থসামাজিক,  আর্থসাংস্কৃতিক বিবর্তনের ক্ষেত্রে এই সত্য স্বীকার করেই নর নারীর নান্দনিক সম্পর্ক হবার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। নর নারীর সম্পর্ক চকিত নদী। কখন কোনদিকে বাঁক ফেরাবে, কেন ফুঁসে উঠবে, কার পানে ধেয়ে যাবে কিংবা কখন মহা অরণ্যের আদিম ঐকতানে মিশে যাবে কে আগে হতে বলতে পারে যে বাঁধ দিয়ে তার গতি রোধ করবে! বাঁধ দিয়ে কি ফুঁসে উঠাকে পোষ মানানো যায়? এতো কেবল প্লাবন নয় অতিপ্লাবন। অতিপ্লাবন দিগ্বিদিক ভাসিয়ে নিবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। নারীই এই প্রাকৃতিক নিয়মের ধারক বাহক।   

তোমার অনুভূতিকে সম্মান কর, তার মূল্য তোমাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তোমার অনুভুতি ছুঁতে পারে এমন কাউকে তুমি পাশে পাবে এ আশা দুরাশা। তোমার সাথে চলমান মানুষের চেহারা আদতে মানুষরূপী হলেও সুযোগে তার হায়েনার রূপ প্রকাশে বিন্দুমাত্র দ্বিধা শঙ্কা দেখতে পাবেনা। তোমার অনুভবকে নখরাঘাতে ছিন্নভিন্ন করার জাল মেলে আছে আশপাশ। নিজেকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখ, তোমার অনুভূতি ছুঁতে জানা মানুষ একটাও পেয়েছো?

অনুভূতি ছুঁতে জানা মানুষগুলো অন্যরকম! আর সবার মতো তাদেরও হাত থাকে, হাতে পাঁচটা করে আঙ্গুল থাকে, রক্ত মাংস চামড়া নখ সবই থাকে। তবে তাদের নখের নিচে টলটল অনুভব থাকে, যা সবার থাকেনা। মানুষ অন্যের প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত অনুভূতিশীল হয়না যতক্ষণ না তার অনুভব সুখ দুঃখ কষ্ট এসব অন্যের সাথে মিল পায়। একজন আরেকজনের মনের কাছাকাছি তখনই আসে যখন মন বলে যাও, সে তোমাকে ছুঁতে জানে।

সবাই জানে না, পারেও না। বেশিরভাগ নখমানুষ, তাদের অনুভব বিলীন হয় নখাগ্রে, তোমাকে আঁচড়ে রক্তাক্ত করে। ছুঁতে জানা মানুষ খুব কম!এক জীবনে মানুষ এতো এতো মানুষ দেখেছ, আঁচড় দেখেছ, কামড় দেখেছ। ছোঁয়া দেখেছ কি??

মানুষের মূখ্য ইচ্ছা কী? জীবনকে, এবং এই জীবনের তাগিদে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখা। বাঁচিয়ে রাখতে হলে মাতৃত্বকে অন্তর্বীজ ধরে নেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। নিজেকে নিয়ে গর্বিত হতে পারো এই বলে, ওহে জীবন ওহে সভ্যতা আমারই গর্ভে তোমার জন্ম এবং জন্মান্তর। আত্মহত্যা করোনা, ধ্বংস করোনা নিজেকে

ভালোবাসো তোমার অনন্যতাকে, তোমার একমাত্রতাকে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.