‘বদরুল’ এর এই উদ্ধত উক্তির উৎস কী

নাসরীন রহমান:

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত, দিনটি ছিল ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। মামলার রায়ে আসামি বদরুল এর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলাটি ছিল একটি আলোচিত মামলা। আমরা জানি গত বছর ৩ অক্টোবর পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এমসি কলেজ প্রাঙ্গনে খাদিজাকে নৃশংসভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছিলেন বদরুল।

এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও ক্লিপ তখন ভাইরাল হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরেছে, অনেকেই সেই ভিডিও দেখেছেন। আমার মতো যারা দুর্বলচিত্তের মানুষ তাঁরা হয়তো একবারে দেখতে পারেননি ভিডিওটি, অনেক সাহস সঞ্চয় করতে হয়েছে দেখতে।

খাদিজার উপর সেই হামলা এতো নৃশংস ও বর্বরোচিত ছিল যে, শিউরে উঠতে হয়েছিল, খাদিজা বেঁচে গেছেন এটা কাকতালীয়, কারণ শতকরা মাত্র পাঁচ ভাগ বাঁচার সম্ভাবনা নিয়ে খাদিজার বাঁচার আশা ছিল ক্ষীণ। প্রচণ্ড প্রাণশক্তির জোরেই খাদিজা বেঁচে গেছেন। সেই সাথে ছিল দেশবাসীর দোয়া বা কল্যাণ কামনা এবং  চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম।

কিন্তু খাদিজার এভাবে বাঁচা কি আদৌ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা? দুর্বিষহ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে যাওয়া খাদিজাকে এখন প্রতিমুহূর্তে লড়তে হবে বাস্তবতার সাথে। খাদিজা নিজেই বলেছেন, ‘বদরুল আমাকে প্রতিবন্ধী করে দিয়েছে’।

বদরুলকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন, যদিও তাতে স্বস্তি

পাওয়ার কারণ নেই, কারণ আসামি চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন, অনেকসময় দেখা যায় বিচারিক আদালতের রায়, আপিল পর্যায়ে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। বুশরা হত্যা মামলা, শাজনীন হত্যা মামলায় আমরা যেমন দেখেছি বছরের পর বছর মামলা ঝুলে ছিল! এবং শেষপর্যন্ত সেই রায়ের যে কী দশা হয়েছে, তাও আমরা জানি। বুশরার মা তো সন্তান হত্যার বিচারই পেলেন না। আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি, বুশরা নামে আদতে কেউ ছিলোই না।

আবার অনেক সময় মূল আসামি পার পেয়ে যাওয়া বা খুনের যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত

আসামির ক্ষমা পাওয়ার ঘটনাও বিরল নয় আমাদের দেশে! খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলার রায় তাই আমাদের আশ্বস্ত করলেও শঙ্কা দূর করে না; বিশেষত মামলার রায় ঘোষণার পর ‘বদরুল’ যখন সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলেন, ‘এখানেই শেষ নয়, আমার কিছুই হবে না’।

নাসরীন রহমান

তখন এই বক্তব্যের মাধ্যমে বদরুল এর সেই হিংস্র রূপটিই প্রকাশ হয়ে পড়ে;  জানতে ইচ্ছে করে বদরুল এর এই উদ্ধত উক্তি করার পেছনের শক্তি কী? কারা তার পিছনে এতো শক্তিশালী?

আমরা তাই আশা করবো অপরাধী বদরুল যেন কোনো ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে না যেতে পারে, যত দ্রুততার সাথে বিচারিক কার্যক্রম হয়েছে, আশা করবো, সেই শাস্তি কার্যকরেও তেমনই আন্তরিক থাকবে দেশের বিচার ব্যবস্থা, এবং সর্বোপরি রাষ্ট্র।

সেইসাথে আমরা আশা করবো, খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলার মতো অন্যান্য নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নারীর পথচলা হোক নির্বিঘ্ন।

কলাম লেখক

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.