ক্যাপিটালিজমের মোড়কে নারী স্বাধীনতা

0

আননিসা রহমান:

নারী দিবস উপলক্ষে অ্যাপেল বক্স ফিল্ম যেই ভিডিওটা বের করেছে, আমিই কি একমাত্র যে এটা ঠিক বুঝিনি? বা যা বুঝেছি তা ভালো লাগে নাই? ভিডিওতে প্রায় ৬/৭ টা ফিমেল পারসোনা তৈরির চেষ্টা ছিল, তাই ধরে নিলাম ফিমেল এম্পাওয়ারমেন্টই এটার উদ্দেশ্য।

আননিসা রহমান

অসংগতিগুলো এবার তাহলে বলি, যাতে মনে হলো ক্যাপিটালিজম আর পরোক্ষ শোভিনিজম প্রকটভাবে উপস্থিত। আলু-মরিচ-পেঁয়াজের বাজারে রেগুলার কন্টেক্সটের বাইরের জামা-কাপড় পরে হাঁটার মধ্যে আমি এম্পাওয়ারমেন্টটা বুঝি নাই। এখানে বলে নেওয়া উচিত, আমি নিজেও দেশে আলু-পেঁয়াজ কিনতাম, নিউ ইয়র্কেও কিনে খাওয়া লাগে। কাঁচা বাজারে হিল পরে শোডাউন দিতে যাই নাই কোনদিন, কারণটা হিল-জামা না। রানিং শু আর একটা ট্রাউজার না পরে গেলে বাজারের ব্যাগ ঠেলতে গিয়ে আমার জিহ্বা বের হয়ে যায়।

কেন জানি মনে হলো, পুরো ভিডিওতে স্লিভলেস/ক্যাপ্রি/ব্লেজার, মোদ্দা কথা হইলো পোষাক আর টাকা-পয়সা এই ব্যাপারগুলাকে এম্পাওয়ারমেন্ট এর সাইন হিসেবে ধরা হইলো। এবং একটা স্পেসিফিক সোশ্যাল ক্লাস, যারা করপোরেট, যারা প্রোপার এথলেটিক এটায়ারে নিজ নিজ প্যাশন ইয়োগা/বাস্কেটবল নিয়ে ডেডিকেটেড, যারা ফ্যান্সি মেকাপ নিয়ে বহুতলা বিল্ডিং এর সিঁড়িতে বসে আছে, এদেরকেই পুরা সময় জুড়ে দেখলাম।

ইটভাটায় পিঠে বাচ্চা নিয়ে কাজ করা মেয়েটা, অথবা রাত ৮টায় ল্যাব শেষ করে টিউশনি পড়ায়ে তারপর বাড়ি ফেরা মেয়েটা, ম্যাথ অলিম্পিয়াড থেকে পুরষ্কার আনা মেয়েটা, বা ইউনিভার্সিটিতে পড়া অবস্থাতেই ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা সম্মাননা পাওয়া মেয়েটা, হুইল চেয়ারে বসে নিজে নিজে একটা নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন চালানো মেয়েটা, কিংবা লজ্জার ভয় মুছে নিজের রেপিস্টকে ধরিয়ে দিয়ে কোর্টে রেপের বর্ণনা দিতে দিতে মাথা সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা, বাঙালি সমাজের তোয়াক্কা না করে এবিউসিভ হাজবেন্ডকে ডিভোর্স দিয়ে সন্তানসহ বেঁচে থাকা চাকুরিজীবী মা’টা কিংবা গরীব বাপ-মায়ের সেই সার্ফার মেয়েটা, যার ১২ বছরের সার্ফিং ক্যারিয়ারে পোষাকের খোটা বেশি, সুনামের গল্প কম। এগুলোই কি এম্পাওয়ারমেন্টের চিহ্ন না?

আমার পয়সা নাই দেখে আমার সাকসেসটা তেমন গ্ল্যামারাস না, বুঝলাম, কিন্তু আমাকে ছাড়া নারী ক্ষমতায়নের গল্প বললে তা কি সম্পূর্ণ হয়?

ভিডিওটা বড় একপেশে এবং ছাঁচে ফেলানো সামাজিক এক্সপেকটেশনের একটা চিত্র মনে হলো আমার কাছে। Prove me wrong with reasons, I will be glad to see it the way you see it. কারণ ছেলেরা যদি দেখে আমাদের ক্ষমতায়ন এর গল্প এসব জিনিস দিয়েই মোটামুটি শেষ করে দেয়া যায়, মূর্খের মতো না জেনে ফেমিনিজম ইস্যুতে ঝগড়া বাঁধাইতে আসবে। The world is chaotic enough with people of little to no knowledge. Doesn’t matter how far you achieve in terms of life, career and education as a woman, you’re still not there yet. Cause…You’re not a man.

এইসব বিভ্রান্তিকর জিনিসপত্র দেখে এমনকি আমারো মনে হচ্ছে, না আছে একটা কালার পপ লিপ্সটিক, না আছে চার ইঞ্চি হিল, যেইটা পরে রুই মাছ-ওটমিল-ঢেঁড়শ এইসব কিনবো।

কী করলাম জীবনে? আমরা নিজেরাই ফেমিনিজম/ফিমেল এম্পাওয়ারমেন্ট, এইসব বুঝিতো ঠিকমতো?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

লেখাটি ১,০৬০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.