শফীর বক্তব্য নোংরা ও জঘণ্য বললেন প্রধানমন্ত্রী

PMউইমেন চ্যাপ্টার (১৩ জুলাই): নারীদের নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফীর বক্তব্যকে ‘নোংরা ও জঘণ্য’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আল্লামা শফীর একটা কথা/দুই একদিন ধরে টেলিভিশনে দেখছি। আল্লামা শফী যা বলেছেন, তা অত্যন্ত জঘণ্য বলে আমি মনে করি। উনি মেয়েদের সম্পর্কে অত্যন্ত নোংরা ও জঘণ্য কথা বলেছেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “উনার কি মা নেই? উনি কি মায়ের পেট থেকে জন্মাননি? উনার কি বোন-স্ত্রী নেই? আমাদের মা-বোন-স্ত্রীদের সম্মান তো আমাদের রক্ষা করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্ম প্রথম যিনি গ্রহণ করেছিলেন- তিনি একজন মহিলাই ছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রথম গ্রহণ করেন বিবি খাদিজা। আর কেউ সাহস করে তা করেনি। এটা ওনার (শফী) মনে রাখা উচিত ছিল।
“ইসলাম ধর্মে যে জেহাদ হয়। সেই জেহাদে প্রথম যে শহীদ হন- তিনি বিবি সুমাইয়া।”

হেফাজতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “চৌঠা মে বিরোধীদলীয় নেতা একটা সমাবেশ করলেন। আমাকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেন; বললেন যে, আমি পালানোরও পথ পাব না।”

“আর, ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ করল। তারা এক জায়গায় বসতে চাইল; আমরা কিন্তু, আপত্তি করিনি। তারা শাপলা চত্বরে বসল। এরপর, বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে আগুন দেয়া হল। জায়নামাজ পোড়ানো হল।”
“এরপর, প্রতিবাদ কিন্তু উনি (খালেদা জিয়া) করেননি। কেউই করেননি।”
বায়তুল মোকাররমে হামলার সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

“পাঁচ তারিখ বায়তুল মোকাররমের সামনে শত শত কোরআন শরিফ পোড়ানো হয়েছে। আমি জানি না, ইসলামের ইতিহাসে এত কোরআন শরিফ এভাবে পোড়ানো হয়েছে কি না।”
“কারা পুড়িয়েছে? হেফাজতের আর জামাত-শিবিরের ক্যাডাররা। সব টেলিভিশনে লাইভ দেখানো হচ্ছিল। তাদের হাত-পা ধরে হকাররা কাঁদছিল। বলছিল, আমাদের রুটি-রুজির পেটে লাথি দিয়েন না।”
“যারা হেফাজতের আর ইসলামের নাম নিয়ে কোরআন শরিফ পোড়ালো- তারা ইসলামের কী হেফাজত করবে?”
“তারা ধর্মের এত বড় অবমাননা করে- কীভাবে ধর্মকে রক্ষা করবে?”

মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে অরাজকতার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সব ঘটনা ঘটিয়ে মহিলাদের সম্পর্কে এখন নোংরা কথা বলছে। উনি কী মায়ের পেট থেকে জন্মাননি? মায়ের সম্মানটুকু রাখবেন না? ওনার কি স্ত্রী নেই? তাদের সম্মান রাখবেন না?”
হেফাজত আমিরের এই ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দেশের নারীরা সোচ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
“আর নেতৃত্বে কে থাকবে, না থাকবে তা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। যদি জনগণ সিদ্ধান্ত নেয়- সেখানে তাদের কী বলার আছে?
আওয়ামী লীগের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা শালীনভাবে চলাফেরা করার পক্ষে। পোশাক পরিধেয় কিন্তু দেশ কাল পাত্র হিসাবে। জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে পোশাক-পরিচ্ছদ।
“সব দেশের পোশাক তো এক না। আমি যদি শীতের দেশের পোশাক এখন পরি, আর গরমের পোশাক শীতের দেশে পরি- তাহলে তো হবে না। যেখানে বালুর ঝড়, সেখানে মুখ ঢাকার ব্যবস্থা রাখতেই হয়।”
“আমি বহুবার হজ করেছি। মাথার ওপর একটা ওড়না দিয়ে রাখতেই হয়। শালীনতার সঙ্গে সকলে চলবে- এটা আমরা চাই।”
জামায়াতে ইসলাম অপপ্রচার চালাতে তাদের নারীকর্মীদের ব্যবহার করে বলেও শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.