নারীদের জন্যও ব্রোথেল হোম থাকা দরকার

0

দিনা ফেরদৌস:

পুরুষদের মেসে আসা-যাওয়া করতে থাকা কোন মেয়ে দেখলে আশেপাশের বাসার, নারী-পুরুষ সকলেরই তা চোখে পড়ে। পুরুষদের মেসে বা একা কোনো পুরুষের বাসায়ই হোক, কোনো নারী আসা মানেই সে খারাপ মেয়ে। ধরে নিলাম সে খারাপ মেয়ে। কেনো খারাপ? বুঝতে হবে সেই মেয়েটি পুরুষের সাথে সেক্স করতে আসে। সেক্স তো সে আর একা করার বিষয় না, সেই পুরুষের সাথেই করে। যেই পুরুষের সাথে এক কাতারে মসজিদে নামাজ পড়তে অসুবিধা হয় না, বিকেলে সঙ্গে নিয়ে চা-চানাচুরও খাওয়া যায়, রাস্তায় দেখা হলে দাঁড়িয়ে কথা বলাও যায়, প্রতিবেশি বলে কথা।

শুধু মেয়েটিকে দেখলেই কেমন ঘেন্না লাগে, সমালোচনা করতে মন চায়। সুযোগ পেলে দু, চার কথা শুনিয়ে দিলে মনে হয় খুব ছওয়াব কামানো গেলো। সেক্সের মতো খারাপ কাজ যেসব মেয়েরা করে, তাদের শিক্ষা দেয়া দরকার।

দিনা ফেরদৌস

মেয়েদের সেক্স করার ইচ্ছে থাকতে নেই, এইসব পুরুষদের কাজ। সেক্স ভালো লাগার কোনো বিষয়ই যেন হতে পারে না। এটা হচ্ছে কাবিন করে বা মন্ত্র পড়ে করার বিষয়। আর সেই জন্যই “মুতা বিয়ে” নামক এক প্রকার হালাল বিয়েও আছে,যা কয়েকটি আয়াত পড়লেই বিবাহ সম্পন্ন হয়। এক ঘন্টা বা এক রাত্রির জন্যও এ বিয়ে করা যায়। কাজ শেষে এই বিয়ে এমনিতেই বাতিল হয়ে যায় (বিশেষ করে এটা শিয়া ধর্মাবলম্বীদের সিস্টেমে পড়ে)। পুরুষদের বিবাহের বাইরে সেক্স করার জন্য ধর্মীয় নিয়মও তৈরি করা আছে যা মেয়েদের নেই।

মুতা বিয়ে নিয়ে আলোচনা আমার উদ্দেশ্য নয়। কথা হচ্ছে পুরুষরা চাইলেই যেকোনোভাবে নিজেদের শারীরিক চাহিদা মেটাতে পারে।কোন পুরুষ ব্রোথেল হোমে যাক বা না যাক, তার জন্য সে ব্যবস্থা করে রাখা আছে। যাতে সে চাইলেই যেতে পারে। কিন্তু মেয়েদের জন্য সেই রকম কোন ব্যবস্থা নেই। তাই প্রেম করলেই সবাই তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে হয়।মেস বাড়িতে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলেই সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। তার বাসায় অপরিচিত কোন পুরুষ দেখলেও সন্দেহ হয়।সব কিছুর উত্তর একটাই ,মেয়েটি সেক্স করে। প্রাপ্তবয়স্ক দুজন নারী পুরুষের সেক্স করাটাকে এতো খারাপ দৃষ্টিতে যিনি দেখছেন, ঘরে তিনি নিজেও আরাম করে নিজের বউয়ের সাথে বা স্বামীর সাথে ওই কাজটিই করেন। বিয়ে মানেই যেখানে যৌন জীবনের সনদ,তাই ভাল  লাগুক না লাগুক তিনারা ওই কাজটিই করেন।

সামাজিকভাবে এক ঘরে থেকে সন্তান জন্ম দিবে,সেই সন্তানের পিতার পরিচয়ে যাতে সংকট না হয়, তাই এই বিয়ে।বিয়ে করলেই যে সবাই যৌন জীবনে সুখী হয়ে যাবেন, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। একজন মানুষের বহুভাবে ,বহু সময়ে বহুজনকেই সেক্স করার সঙ্গী হিসেবে ভালো লাগতেই পারে। দুজনের সম্মতি থাকলে তাদের মধ্যে সে সম্পর্ক স্থাপনও সম্ভব। সবাই সবার মনের মতো হয় না,হতে পারেনা। কেউ যদি নতুনভাবে নিজের সঙ্গী খুঁজে নিতে সক্ষম হয়, এতে দোষের কিছু নাই। কে কার সাথে ঘুমায় এই চিন্তায় নিজেদের ঘুম হারাম করতে পারে শুধু বাস্টার্ড সোসাইটি।

সুস্থ ,সুন্দরভাবে যেখানে নারী-পুরুষ নিজেদের শারীরিক চাহিদা পূর্ণ করবে, সেখানে আপত্তি।ফলে বেশিরভাগ নারীরাই অতৃপ্তি নিয়ে ভীতরে ভীতরে অসুস্থ হন। তাই পুরুষদের মতো নারীদের জন্যও ব্রোথেল হোম থাকা দরকার। যাতে অতৃপ্তি নিয়ে জীবন পাড় করতে না হয়।
সুস্থ-সুন্দর সেক্স করার অধিকার সব মানুষেরই আছে।

নিজেদের সম্মতিতে সেক্স করে লজ্জিত হবার কিছুই নেই। সব সেক্সে প্রেম থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু সব প্রেমই হয়, সেক্স করার জন্য। এটা খুবই স্বাভাবিক শারীরিক একটি চাহিদা। এর মধ্যে কোন পুরুষ যদি বেইমানি করেন তবে তার জন্যও কোন মেয়েকে লজ্জিত হবার কিছু নেই।লজ্জা হলে হয় দুজনেরই সমান হবে, নইলে কারো না। লোকজনের কথা শুনে যারা নিজেদের এই সুন্দর মুহূর্তকে চেপে রাখবেন,সময় গেলে বুঝতে পারবে তারা শুধু নিজেদের বঞ্চিতই করেছেন প্রাপ্য সুখ থেকে।

মানুষ বেঁচে থাকে প্রেমে ও কামে। কামহীন জীবন মরা গাছের মতোই। গাছের মরা ডাল দিয়ে বহু কাজই হয়, শুধু ফুল ফোটানো ছাড়া।
প্রতিদিন মানুষ কাজ-কর্ম করে পেট ভরিয়ে রাখতে। টয়লেট করে, পেট পরিষ্কার করতে। ঠিক তেমনি সেক্স করে শরীর বাঁচিয়ে রাখতে। যে সেক্স আনন্দ দেয়, তাতে লজ্জার কিছু নেই। অসম্মানেরও কিছু নেই।

 

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 995
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    995
    Shares

লেখাটি ২৩,১২৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.