আসুন নিজেকে দেখি নিজেরই আয়নায়

0

মাসুদা ভাট্টি:

নিজেকে নিয়ে আমি একটি পরীক্ষা সব সময় করি। যেমন ক্রমাগত নিজেকে প্রশ্ন করে যাই, কে? কি? কেন? কখন? কোথায়? কীভাবে? নিশ্চয়ই হাসছেন, এটুকু পড়ে, হয়তো ভাবছেন, সাংবাদিক বলেই এই ছয় ‘ক’ নিয়ে ভাবছি। যুক্তি হিসেবে হয়তো আপনার একথা ফেলনা নয়, সাংবাদিকতা পড়তে গিয়েই এই ষড়-ক’এর সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। কিন্তু নিজেকে এ প্রশ্ন কেন করি? সেকথাই আজকে বলতে চাই।

আমি কে? এই প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর হওয়ার কথা, আমি একজন মানুষ। এ পৃথিবীতে যেদিন জন্মেছি সেদিনই পৃথিবী আমাকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু সত্যিই দিয়েছে কি? একবার ভাবুন তো, বাংলাদেশের আর দশটি শিশুর, কি ছেলে কি মেয়ে, যে কোনো শিশুই যখন জন্মায় তখন পরিবারে হয়তো আনন্দ আসে ঠিকই, কিন্তু এই জনসংখ্যা-ভারাক্রান্ত গরীব দেশের জন্য এই শিশুটি কি সত্যিই আনন্দের খবর বয়ে আনে?

এই প্রশ্ন এ কারণে যে, এর উত্তর খুঁজতে গিয়েই দেখতে পাই যে, বিশ্বের অনেক দেশই বাংলাদেশের মতো দেশগুলির শিশুদের ঠিক মানুষ বলে মনে করে না, বিশেষ করে এই কিছুদিন আগ পর্যন্ত সেটা করেনি। তারা মনে করেছে যে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলিতে জন্ম নেয়া প্রতিটি শিশু আসলে তাদের ‘দয়ায়’ বেঁচে থাকে। সুতরাং ধনী ও উন্নত দেশের শিশুরাই কেবল মানুষের মর্যাদা পেতে পারে, বাংলাদেশের শিশুরা নয়।

এদেশের শাসকদেরও বিশেষ করে সামরিক শাসকদের আমলে দেশের এই বিশাল জনসংখ্যা ভারকে পুঁজি করে বিদেশি সাহায্যের জন্য হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো দেশের অর্থমন্ত্রীকে, আমাদের স্মরণ করতে হবে প্যারিস কনসোর্টিয়ামের সেই সময়টার কথা, যখন বাংলাদেশকে আসলে ভিক্ষুকের পাত্র হাতে নিয়ে দাঁড়াতে হতো বিদেশিদের সামনে।

অবস্থা এখন বদলেছে সত্য কিন্তু আমরা কি এখনও মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছি? সত্যিকার, আত্মমর্যাদাশীল মানুষ? ব্যাক্তি মানুষ? জাতীয় ভাবে সামগ্রিক মানুষ? আসুন প্রশ্ন করি নিজেকে।

এরপরের প্রশ্ন, আমি কি? প্রথমে মানুষ, তারপর একজন নারী। কিন্তু এদেশে নারী হিসেবে আমার অবস্থানটি আসলে কোথায়? স্বীকার্য যে, এদেশে রয়েছে দু’দু’জন নারী প্রধানমন্ত্রী, একজন বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা, কয়েকজন মন্ত্রী, স্পিকার এবং বর্তমান সরকার সর্বাত্মকভাবে একটি নারী-বান্ধব বা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী সরকার।

কিন্তু তারপরও একজন নারী হিসেবে আপনার অবস্থানের দিকে তাকান। আপনি একজন হোম-মেকার (গৃহকত্রী) হোন, আপনি একজন চাকুরিজীবী হোন, আপনি একজন সাংবাদিক হোন, কী আপনি একজন অভিনয় শিল্পী হোন, একেবারে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনি প্রাথমিক বিচারে কেবলই একজন ‘নারী’, তারপর আপনার পদ, কর্ম, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগের ক্ষমতা বিচার করা হয়ে থাকে। এটি কেবলমাত্র সমাজের নীচের দিককার বাস্তবতা নয়, বরং সমাজের উঁচুস্তরে এই প্রবণতা আরো ভয়াবহ। আপনি কাজ করবেন, আপনার কাজের মূল্যায়ন হবে না, হলেও আপনার নারী সহকর্মীটিই আপনার দিকে এমনভাবে তাকাবেন যেন আপনি নন, আপনার শরীরটি আপনাকে এই মর্যাদা দিচ্ছে, পুরুষ সহকর্মীর কথাটি নাহয় বাদই দিন।

হয়তো সর্বাংশে এই অভিযোগটি সত্য নয়, কিন্তু আপনাকে মূলতঃ বিচার করা হবে আপনার নারী হওয়ার ‘অভিশাপ’-কে দিয়ে।

কেন অভিশাপ বলছি? এ কারণেই যে, আপনি আপনার চলার পথে প্রতিটি বাঁকে কখনও না কখনও নিশ্চিতভাবেই নারী-জন্মের জন্য মূল্য দেবেন, সে আপনার কর্মক্ষেত্রে হোক, বাড়িতে হোক, নিদেন পথচারী হিসেবেও কেবলমাত্র নারী বলেই আপনি একজন পুরুষের দ্বারা নিগৃহীত হতে পারেন। জীবনের কোনো না কোনো একদিন আপনার মনে হবেই যে, এ নারী-জন্ম আসলে ভয়ঙ্কর এক ‘অভিশাপ’। দুঃখিত, এই নেতিবাচক কথা বলার জন্য। দাঁড়ান, ইতিবাচক কথায় যাচ্ছি একটু পরেই।

এবার আসি, কেন-র উত্তর খুঁজতে। আমি নিজেকেই এ প্রশ্ন করি যে, এ জীবন আসলে কেন? ধরুন, সার্বিক ভাবে যদি এ প্রশ্ন তুলি আমরা, এই মানব জীবনই বা কেন? হ্যাঁ ব্যক্তিগত সুখলাভ, মোক্ষলাভ, স্বার্থলাভ সব কিছুকে বাদ দিয়েও যদি ভাবি এ জীবন আসলে কেন, তাহলে একজন নারী হিসেবে আপনার মনে হবে যে, আমাদের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে, একটি নতুন জীবনের জন্ম দেয়া। তর্ক করা যেতেই পারে যে, সেতো পুরুষও দাবী করতে পারে যে, তার সহযোগিতা ছাড়া সন্তান উৎপাদন সম্ভব নয়।

হ্যাঁ, সে তর্ক মেনে নিয়েও একজন নারী দাবি করতেই পারেন যে, একটি মাত্র কোষকে নিজের শরীরে ধারণ করে একটি পূর্ণ মানুষ হিসেবে জন্ম দেয়ার কৃতিত্ব কেবল তারই। তারপর যদি প্রশ্ন করেন, কেন এই নারী-জীবন? তাহলে নিশ্চিত ভাবেই একটু আগের আলোচনায় ফিরে যেতে হয়, প্রথমে তো এ প্রশ্ন ওঠানো জরুরি যে, কেন এই মানুষ-জীবন? পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া? মানব-সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া? নাকি কেবল নিজের জীবনটাকেই সুখে-শান্তিতে রাখা, নিজের স্বামী-সন্তান-স্বজনকে নিয়ে অনন্ত সুখবাস? লালন ফকির থেকে রামপ্রসাদ কিংবা হাসন রাজা থেকে কাঙালিনী সুফিয়া সকলেই এই মানব-জনম আসলেই কেন, তার উত্তর খুঁজেছেন, বা খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর আসলে সৃষ্টিতত্ত্বের মধ্যেই নিহিত রয়েছে, তারপরও কেউ সত্যিকারভাবে এর উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বলে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃতি পায়নি।

তারপর একটু ভাবি আসুন, একজন মানুষ আসলে কখন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠে?

এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনও উত্তর নেই, কিন্তু অতি সরলার্থে যদি ভাবি তাহলে একথা বলাই যায় যে, পৃথিবীর আর দশটি প্রাণীর যেমন পৃথিবীর জল-হাওয়া-মাটি’তে যতোটুকু অধিকার রয়েছে, প্রতিটি মানুষেরও তাই-ই থাকা উচিত।

কিন্তু লক্ষ্যণীয় সত্য হলো, মানুষ তার নিজের সুবিধার্থে অন্য প্রাণীর ওপর, আকাশের ওপর, হাওয়ার ওপর, জলের ওপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব কব্জা করেছে। দুঃখজনক সত্যটি হলো, এই শ্রেষ্ঠত্বের কব্জা করতে গিয়ে মানুষের ভেতর দু’টি ধারা মানুষ নিজেই তৈরি করলো, এবং পুরুষ-ধারাটি নারী-ধারার ওপরও কেবল পেশীশক্তির জোরেই ক্ষমতা দেখানো শুরু করলো।

শুরুতেই বলেছি যে, যেহেতু আমি বাংলাদেশে জন্মেছি, সেহেতু আমি ধরুন একজন ব্রিটিশ বা আমেরিকান নাগরিকের তুলনায় খানিকটা ‘কম মানুষ’ হিসেবে পরিগণিত, অন্ততঃ পশ্চিমের চোখে। কিন্তু এদেশেও যে আমি আসলে একজন নারী হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মানুষতো নই-ই এবং মানুষ হিসেবে আমার জন্মগত অধিকারও আমার সম্পূর্ণ নয়। এবং সেই দুঃখজনক সত্যের প্রমাণ দেখি যে, কেবলমাত্র পেশীশক্তি দিয়ে এদেশেও নারীদের দ্বিতীয় কিংবা আরো নিম্নস্তরের ‘না-মানুষ’ করে রাখা হয়েছে। বিশ্বময় চিত্র একটু একটু করে বদলাচ্ছে ঠিকই, এদেশেও বদলাচ্ছে একটু একটু করে, কিন্তু কেন যেন মনে হয়, আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে, কাঙ্খিত ও সমস্ত মানবীয় অধিকার নিয়ে আমার ‘মানুষ’ হয়ে ওঠা হবে না।

এর পরের প্রশ্ন কোথায়? আসলে এ প্রশ্ন দিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, শান্তি কোথায়? ধরুন, আপনি একজন গৃহকত্রী, মনে হয় না, আহারে যদি চাকরি করতে পারতাম? একজন চাকুরীজীবী নারীকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তার মনে হবে যে, আহা যদি গৃহকত্রী হতে পারতাম? এই দশটা পাঁচটা অফিস না সামলাতে হতো? তাহলে অন্ততঃ একটা অফিস মানে ‘হোম অফিস’ সামলালেই হোতো।

কে জানে, হয়তো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’ও মনে করেন, আহা যদি প্রধানমন্ত্রী না হতাম তাহলে হয়তো শান্তি পেতাম। কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তরতো কারোরই জানা নেই যে, শান্তি আসলে কীসে আসে, কোথায় পাওয়া যায়! ফলে আমরা সারা জীবন ধরেই এই শান্তির অন্বেষণে থাকি, যারা বুঝে ফেলেন যে, তার শান্তির ‘ট্রিগার’ কিসে বা কোথায়, তারা আসলে ভাগ্যবান। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এখনও জানি না কোথায় আমার শান্তি, কিসে আমার শান্তি, অতএব, এই অন্বেষণ চলছে নিরন্তর। যেদিন জানতে পারবো, সেদিন নিশ্চিত ভাবে লিখবো, কোথায় আমি শান্তি পেয়েছি।

বাকি থাকলো একটি প্রশ্নের উত্তর, সেটা হলো, কীভাবে? এই কীভাবে আসলে ওপরের সবগুলো প্রশ্নের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মোদ্দা কথা হলো, কীভাবে এই মানবজনমকে সর্বাত্মকভাবে স্বার্থক করে তোলা যায়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে প্রথম প্রশ্নই তো হলো, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, বা বিশ্ব আমাকে কতোটা ‘মানুষ’ মনে করে? যদি না মনে করে থাকে, তাহলে কী ভাবে আমাকে বা আপনাকে বা একজন নারীকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তাদেরকে বাধ্য করা যায়?

আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশে বা অন্য যে কোনো দেশের একটি পুরুষকেও বৃহত্তর সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, অর্থাৎ তাকেও অনেক সময় ঠিক পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে মানা হচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন তাকে তাড়িত করে। আর সে কারণেইতো দেশে দেশে সংঘাত, সংঘর্ষ, রক্তপাত আর হানাহানির সূত্রপাত ঘটে। একের ওপর আরেকের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করাইতো যতো নষ্টের গোড়া।

একজন মানুষ আরেকজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চায়; একটি ধর্ম আরেকটি ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চায়; একটি রাষ্ট্র আরেকটি রাষ্ট্রের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চায়; একটি মহাদেশ আরেকটি মহাদেশের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চায় – আর এসব করতে গিয়ে সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্ন ‘আমি মানুষ হিসেবে কতোটা গ্রাহ্য’, তার উত্তরই আমরা হারিয়ে ফেলতে বসেছি, অর্থাৎ সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে এই সামান্য প্রশ্নের উত্তরকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে।

মাঝে মাঝেই এসব প্রশ্ন ও প্রশ্ন থেকে উৎসরিত দুঃখ আমাকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। কিন্তু কখনও কখনও সামান্য আনন্দও আমাকে উদ্বেলিত করে যেমন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনন্দ হয় যখন ফ্রান্সিস ফুকুয়ামার মতো তাত্ত্বিকের লেখা পাঠ করি। বলাই বাহুল্য, ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা আমার অন্যতম প্রিয় রাজনৈতিক-তাত্ত্বিক, আমাদের কালে তিনি মূলতঃ কাজ করছেন যুদ্ধ, শান্তি এবং পৃথিবীর বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে।

ফুকুয়ামা মনে করেন যে, যদি পৃথিবী নারীদের দ্বারা শাসিত হতো, তাহলে হয়তো এতো যুুদ্ধ, হত্যাকাণ্ড, রক্তপাতের ঘটনা ঘটতো না। নেদারল্যান্ডের একটি চিড়িয়াখানায় কয়েকটি শিম্পাঞ্জির ওপর চালানো পরীক্ষা শেষে ফুকুয়ামা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, মূলতঃ জন্মগতভাবেই পুরুষদের মধ্যে হিংসাত্মক প্রবণতা নারীর তুলনায় বেশি রয়েছে। মূলতঃ নারীকে বশে রাখতেই শিম্পাঞ্জি-সমাজে পুরুষ শিম্পাঞ্জির অপর শিম্পাঞ্জির প্রতি এহেন হিংসা-দ্বেষ-আক্রমণ।

কিন্তু ফুকুয়ামা এই পরীক্ষা থেকে এরকম সিদ্ধান্তে আসতে চান যে, পৃথিবীময় যে সংঘাত এই মুহূর্তে সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে তা হয়তো এতোটা ভয়ঙ্কর হতো না যদি দেশে দেশে নারীর হাতে ক্ষমতা যেতো। নব্বইয়ের  দশকের শেষ দিকে ফরেইন পলিসি নামক আন্তর্জাতিক মানের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের পত্রিকায় ফুকুয়ামার এ বিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাডেমিক, রাজনীতিবিদ এবং সমালোচকগণ ‘একচোখা’ অপবাদ নিয়ে নানা রকম তত্ত্ব হাজির করে চলেছেন। কিন্তু ফুকুয়ামা তার এই মতবাদ থেকে সরে এসেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না।

আমি জানি, আমার মতো অনেকেই ফ্রান্সিসের এই মতবাদে যারপরনাই আনন্দ পান। সত্যিইতো, যুদ্ধবাজ নারী-শাসক আমরা তুলনামূলকভাবে কম দেখি কিংবা এও হয়তো সত্য যে, নারী শাসকের চারপাশে থাকা পুরুষরাই হয়তো যুদ্ধংদেহী হতে নারীকে বাধ্য করে? না, এও সর্বাংশে সত্য নয়, ধারণা মাত্র। তাহলে সমাধান কীসে? কী ভাবে? এক কথায় এর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। হয়তো নারী-পুরুষ, দেশ-বিদেশ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করাতেই সকল প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে। যতোক্ষণ না আমরা সে সুযোগ দিচ্ছি বা পাচ্ছি, ততোক্ষণ আমি বা আমার মতো অনেকেই জোর গলায় একথাই বলে যাবো যে, শক্তি দিয়ে, ক্ষমতা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠায় নয়, বরং মানুষকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করাতেই সভ্যতার ‘ভালো’ নিহিত, তখন বাকি সমস্যাদি আপনি-আপ সমাধান হয়ে যেতে বাধ্য। এরপরও যদি সমস্যা কিছু থেকেই যায়, তা হবে মানবজন্মের ‘আদি পাপ’।

সবাইকে নারী-দিবসের শুভেচ্ছা, নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে অর্থাৎ এ শুভেচ্ছা সকল মানুষকে।

ঢাকা, ৮ই মার্চ, বুধবার, ২০১৭

[email protected]

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১,২১৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.