নারী এ বিশ্ব পরিবারে অনুন্নত সদস্য

সীমা কুণ্ডু: জানি এসব প্রশ্ন তোলা খুব গোলমেলে, কিন্তু জরুরী বলে মনে করি। এ বিষয়ক ভাবনা চিন্তা ও রীতিনীতি আমাদের সামাজিক ধ্যান ধারণা ও আচার ব্যবহারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাজারো বিধি নিষেধের চাপে আবদ্ধ নারী বিষয়ক পষ্টাপষ্টি আলোচনার সুযোগ নেই বললেই চলে।
এ প্রবণতা আদিমতম। সময়ের সাথে সাথে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা গেলেও আদতে যেখানকার সমস্যা সেখানেই বহাল। অবদমন ও গোপনীয়তার কারণই নারীর জীবন এবং জীবনমান অমানবিক নিষ্পেষণের যন্ত্ররুপে ব্যবহৃত হয়। নারীশরীর, মানসিকতা, প্রয়োজন, ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং অধিকার সমূহ সর্বজনীন আলোচনার বিষয়বস্তু বলে আগেও মনে করা হয়নি, অদ্যাবধি এত মিছিল মিটিং সেমিনার শ্লোগান প্রতিবাদেও মনে করা হচ্ছে না।
সমাজ সংস্কৃতিতে নারী বাণিজ্যিক পণ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেই সভ্যতার শুরু হতেই। এখনও এ অবস্থার পরিবর্তন আসেনি, যে পরিবর্তনের পায়ে দাঁড়িয়ে নারী নির্ধারণ করতে পারবে নিজের সঠিক বেঠিক, সে সমাজেই হোক কিংবা সংস্কৃতিতে। 
সীমা কুণ্ডু

এ না পারার সূচনা কিন্তু এখানেই নয়, সহস্র বছর ধরে চলে আসা নিয়মই এর সূতিকাগার। মানুষ যে লিঙ্গেরই হোকনা কেন তার মনোজগতের গঠন বুঝতে হলে তার শিশুমনের পরিকাঠামো বিশ্লেষণ জরুরী। শৈশবে মনের গঠনের উপরই নির্ভর করে পরবর্তীকালে তার ব্যক্তিত্ব, ভয়, ভীতি, আসক্তি এমনতর মনোজাগতিক প্রক্রিয়াগুলি।

শৈশবে অবচেতন মনের প্রেক্ষিত হতে উপাদান মানব মনে সঞ্চিত থাকে, সেসবই পরবর্তী সময়ে একত্রিত হয়ে সৃষ্টি করে পুর্নাঙ্গমনের পরিকাঠামো। এটাই সত্য, অতীত বর্তমানকে প্রভাবিত করে। তাই অতীতকে বর্তমানের সাথে মিলিয়ে নিয়েই কেবল বাস্তবিক অবস্থার সুষ্ঠু বিশ্লেষণ সম্ভব।

এ বিশ্লেষণ তত সহজ নয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসা নিরাপত্তাহীনতাই নারীর মনে জন্ম দেয় হীনমন্যতার, হীনমন্যতায় জন্ম নেয় ভয়, ভীতি, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, সুবিধা, অসুবিধা, নিজের প্রয়োজনকে জনসমক্ষে আনা এবং নিজেকে জানান দেয়ার অপারগতা। এসবের মূলেই রয়েছে অর্থনৈতিক পরাধীনতা, আর এই পরাধীনতার কারণ নিহিত আছে রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার হতে শুরু করে ব্যক্তিস্বার্থে। 
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী পাপের মূর্ত উপস্থিতি। সে দৃষ্টিভঙ্গি নারীর জীবনচক্রের কোন পর্যায়েই এখনও পরিবর্তন হয়নি। নারী এ বিশ্ব পরিবারে অনুন্নত সদস্য, এ সদস্যের আর্থিক, মানসিক, শারীরিক অধিকার সমূহ উন্নয়নে এবং মূল্যায়নে এ বিশ্বই সবচেয়ে অনাগ্রহী। এসব প্রতিকারের চিন্তা তখনই শুরু হবে যখন নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। অন্যথায় জো হুকুম জাঁহাপনা।
শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.