বদরুলদের বিচার হওয়াটা খুব জরুরি

নাসরীন রহমান: ‘তুমি সুখী হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক’ কথাগুলো শুনতে খুব সিনেমাটিক হলেও আসলে তা কোনো সিনেমার নায়কের ডায়ালগ নয়; কথাগুলো খদিজাকে হত্যাচেষ্টাকারী বদরুলের! কথাগুলো শুনলে মনে হতে পারে আহা না জানি বদরুল কী ভালমানুষ! আদতে তা নয়, এ বদরুলের ভড়ং! ভড়ং ভালোমানুষি সাজার! ভড়ং সকলকে, বিশেষত খাদিজাকে স্নায়বিক চাপে রাখার।

এ আর অজানা নয় কারও যে, বদরুল এক ঘৃণ্য হত্যাচেষ্টাকারী, সে তাঁর লোভ চরিতার্থ করতে না পেরে খাদিজাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে কুপিয়ে জখম করে; সেইসময় সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরেছে; যারা ভিডিওটি দেখে থাকবেন, দেখেছেন কী নৃশংসভাবে বদরুল কুপিয়েছিল খাদিজাকে। বদরুল যদি প্রেমিক ই হবেন তবে শুনেছেন কেউ কখনো, একজন প্রেমিক তাঁর প্রিয়তমাকে এভাবে কোপাতে পারে?

আসলে বদরুল একজন মানুষরূপী দানব! আর সবচাইতে দুঃখজনক যে ব্যাপার তা হচ্ছে আমাদের সমাজে এই ‘বদরুল’ দের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে! যারা তাঁদের কু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে না পেরে হত্যা করে বা হত্যাচেষ্টা করে নারীকে। এই ‘বদরুল’ দের জিঘাংসার বলী হন খাদিজা, রিশা, তনু, আরও কতোজন!

আমরা সংবাদমাধ্যম এর দিকে নজর দিলে দেখবো, ২৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় নবম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে কুপিয়েছে ঘাতক জাহেদুল! ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সে ক্ষত-বিক্ষত করে মেয়েটির মাথা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে। সৌভাগ্যক্রমে মেয়েটি বেঁচে আছে; কিন্তু এভাবে বাঁচার নাম জীবন?

হয়তো শ্বাস – প্রশ্বাস নেওয়া কিন্তু বাঁচার মতো বাঁচা নয়, তাইতো স্মৃতিশক্তি ফেরার পর খাদিজা বলতে পারেন প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরে, ‘সে আমাকে প্রতিবন্ধী করেছে, আমি বদরুলের বিচার চাই’। আমরাও সমাজে ভালোমানুষ সেজে থাকা বদরুলদের বিচার চাই; না হয় খাদিজাদের পথ চলা নিরাপদ হবে কী করে?

নাসরীন রহমান

প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ যদি হয় এমন সহিংস এবং একটি দুটি ঘটনা নয় অধিকহারে ঘটতে থাকে এমন, তবে বুঝতে হবে সেই সমাজে উচ্চমাত্রায় নৈতিকতা বিসর্জিত হয়েছে এবং সেখানে চলছে ‘দুর্বৃত্তের দৌরাত্ম্য!

কিন্তু এই অবস্থা তো একদিনে হয়নি, আমাদের তরুণেরা আজ কেন এতো হিংসাত্মক? এই যে অপরাধী মানসিকতা বা হিংসাত্মক মনোবৃত্তি এর পেছনে কারণ কি? সমাজ বিরাজমান কোন অব্যবস্থা তরুণদের এমন মারমুখী করে তুলছে?

আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যদি তাকাই দেখবো অনেক তরুণদের ভাষার ব্যবহার , অস্বস্তি লাগে তাঁদের কথোপকথন পড়তে, সামান্য কারণে উদ্ধত আচরণের প্রকাশিত রূপটি দেখাতে দ্বিধা করে না তারা! কিশোরদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেখে শুনে মনে হয় এরা বুঝি মানবিক গুণগুলি সম্পর্কে অজ্ঞ !

তাহলে কি পরিবারে সঠিক মূল্যবোধের চর্চা হচ্ছে না? কী কারণ তরুণদের এমন হিংস্র আচরণের? এই কারণ এবং এই সমস্যা সমাধানে এখনই যদি আমরা গুরুত্ব না দিই তবে কিন্তু সময় গেলে সমাধানের পথ হয়ে উঠবে আরও দুরূহ …।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.