জয় ধর্ষকদের জয়…!!

শাফিনেওয়াজ শিপু:

আমাদের দেশে ধর্ষণ ও বাল্যবিবাহের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে দিনের পর দিন, সেটি কি আমাদের সরকার চোখে দেখছে না, না বুঝতে পারছে না, কোনটা? উল্টো তাঁর এই আইনের মাধ্যমে সমাজে ধর্ষণের হার তো বাড়বেই এবং সেই সাথে ধর্ষকেরও বিচার চাওয়াটাও কমে যাবে। ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ের বিধান, এইটা কী ধরনের পদক্ষেপ নিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপা, বুঝতে পারলাম না।

আমার তো মনে হয়, তিনি ধর্ষককে আরো সুযোগ করে দিয়েছেন তার পেশাটা দিব্যি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। হয়তো আপনি সমাজের কথা চিন্তা করে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। হুম এটা মানলাম, কিন্তু আপনি কি বুঝতে পারছেন না, কেউ কোনোদিন তার ধর্ষককে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারে? এর থেকে তো বরং মরে যাওয়াই ভালো।

হতে পারে আপনি হয়তো ঐভাবে চিন্তা করছেন যে, ধর্ষণ করার পর যদি বাচ্চা হয়, তাহলে সেই বাচ্চা সমাজে কী পরিচয় নিয়ে বড় হবে। আরে ম্যাডাম, আপনার তো আগে উচিত ধর্ষণকারীদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া, যাতে করে পুনরায় সে এই ধরনের জঘণ্য কাজ আর না করতে পারে। তা না করে উল্টো আপনি ধর্ষণকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন চুপিসারে নিজের বউকে ধর্ষণ করার জন্য।

শাফিনেওয়াজ শিপু

আপা, কুত্তার লেজ সবসময় বাঁকাই থাকে, এটা কখনো সোজা হয় না। তাছাড়া আপনি আরো বলেছেন যে, ইউরোপ ও আমেরিকাতে তো বিয়ে ছাড়াই বাচ্চা হচ্ছে এবং সেই বাচ্চাকে সমাজও মেনে নিচ্ছে, তাহলে আমরা কি পারি না এই ধরনের আইন প্রণয়ন করতে?

স্যরি আপা! আপনি একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে কীভাবে এই ধরনের ব্যবস্থা নিতে চাইলেন? আমার মনে হয় আপনি ভুলে গিয়েছেন যে, আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ ইউরোপ ও আমেরিকাতে বিয়ের আগে বাচ্চার জন্ম হয় এবং তাদের সমাজ এই বাচ্চাদেরকে মেনেও নেয়। বিয়ের আগে বাচ্চা নেওয়াটা যে আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না, এই নিয়মটি যে আমাদের ইসলাম ধর্মেও নিষিদ্ধ আছে, সেটি আমাদের ভালো করে জানা। তাহলে এটি জানা সত্ত্বেও কীভাবে আপনি ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে তুলনা করছেন?      

বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর মাধ্যমে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কী বুঝাতে চেয়েছেন আমাদের পক্ষে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ তিনি এই আইনটি কী আদৌ বাল্যবিবাহ রোধের জন্য করেছেন, না বাল্যবিবাহ করার জন্য উৎসাহিত করছেন ঠিক বোধগম্য হল না। আগে মেয়েদের জন্য বিয়ের বয়স নূন্যতম ছিল ১৮ বছর, কিন্তু বর্তমানে সেটিও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধোঁয়াশাবস্থায় আছে। তাহলে আপনারাই বলুন, এই আইনের মাধ্যমে দেশ কি এগিয়ে যাবে না পিছিয়ে যাবে? এমনিতেই দেশে মাতৃ ও শিশু-মৃত্যুহার কমানো যাচ্ছে না, তার উপর যদি বিয়ের জন্য বয়সেরও কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকে তাহলে তো কথাই নেই। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েই অনেক অধম চাইবে যেকোনো বয়সের শিশুদের ভোগ করতে। শুধু কী তাই, সেই সাথে ধর্ষিতাকে্ বিয়ে করার মোক্ষম সুযোগ দেয়া হচ্ছে ধর্ষকদের হাতে।

ছি: ছি:!! দিনের পর দিন আমাদের যে বিবেক ও বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে, তা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি এবং আরও বুঝতে পারছি যে, দেশ কোনদিকে যাচ্ছে! আমরা উল্টো চাচ্ছি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে, যাতে করে মাতৃমৃত্যুর হার কমে, মেয়েরা রেখাপড়া শিখে কর্মক্ষম হয়, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, ক্ষমতায়িত হয়। উল্টো তিনি এমন আইন প্রণয়ন করলেন যে, যেখানে বিয়ের বয়স ১৮ এর নিচে বৈধ করা হলো এবং ধর্ষণও বৈধতা পেল।

যাই হোক, আমার মতে সরকারের এখনও সময় আছে এই আইনটি বাতিল করার। তা না হলে খুব শিঘ্রই আমাদের দেশের শিশু, কিশোর ও নারীদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠবে। বলতে গেলে এক কথায় ধর্ষকেরই জয় হবে!

বড় আফসোস লাগে এই ভেবে যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি এই আইনের মাধ্যমে নারীদেরকে আগুনের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষার জন্য এতো কিছু করলেন তিনি, কিন্তু নারীদের স্বাস্থ্যের কথা ভাবলেন না।  সংশয় জাগে, তিনি কি সত্যি সত্যিই ধর্মোন্মাদদের কাছে নতি স্বীকার করলেন? আর তার ভিকটিম হলাম আমরা মেয়েরা?

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.