তথ্যপ্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে প্রান্তিক নারীদের জীবনমান

0

উইমেন চ্যাপ্টার: একটি স্মার্টফোন বদলে দিয়েছে প্রান্তিক নারীর ভাগ্যের চাকা। পরিবার ও সমাজের বাড়িয়েছে সম্মান আর মর্যাদা। নগদ অর্থের মুখও দেখছেন দরিদ্র অসহায় এসব নারীরা। সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে দেশের একেবারে দক্ষিণ জনপদে বসবাসরত প্রান্তিক নারীরা ভাগ্যের চাকা বদলাতে চেষ্টা করছে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম বড়কুপট। এটি শ্যামনগরে আরও কয়েকটি আইলা বিধ্বস্ত গ্রামের একটি। ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে হয়েছিল এই জনপদের মানুষের সাধারণ জীবন-জীবিকা ব্যবস্থা। এখানে যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। তবে এই পানি খাওয়া যায় না। চোখেমুখে লাগলে তীব্র জ্বালা করে। শরীরে তৈরি হয় নানারকম খুকসি ও ঘা। খোলপেটুয়া নদীর তীরে অবস্থিত বড়কুপট গ্রামের সংগ্রামী নারী অর্চনা রানি, সুনীতা রানী মৃধা, বীনা রানী, তাসলিমা খাতুনরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে এখন নিজের এবং পরিবারের চাকা ঘোরাচ্ছেন।

শ্যামনগরে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন সুশীলন ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফামের আর্থিক সহযোগিতায় সরকারের মৎস্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, প্রাণীসম্পদ বিভাগকে সম্পৃক্ত করে পিছিয়ে পড়া এসব প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে নারীর অগ্রগতি’ শিরোনামে ‘প্রতীক’ নামের প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

Participatory Research and Ownership with Technology Information and Change(PROTIC)  শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগরের বড়কুপট গ্রামের ১০০ নারীকে সংগঠিত করে ৭টি দলে ভাগ করে প্রথমে এসব নারীকে বিষয়ভিত্তিক সাতদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে স্মার্ট ফোন। হাতেকলমে এসব নারীকে স্মার্টফোনের ব্যবহারও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ১০০ নারী সদস্যের ফোনে কিছু পরিমাণ টাকা রিচার্জ করে দেয়া হয় প্রকল্প থেকে।  

নারীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে প্রান্তিক ফোন ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রশিক্ষিত এসব নারী বর্তমানে ছাগল পালন, কাঁকড়া মোটা তাজাকরণ, সবজি চাষ, বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন। নিজেদের উদ্যোগে পরিচালিত ছাগলের খামার, কাকড়া মোটাতাজাকরণ, সবজি চাষ, বাগদা চিংড়ির চাষসহ যেসব প্রকল্পে বা নিজেদের খামারে কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা সাথে সাথে প্রতীক কল সেন্টারে ফোন করেন। কল সেন্টার থেকে তাদের ফোন রিসিভ না করে সেখানে অবস্থানরত বিশেষজ্ঞ টিম তাদের কল ব্যাক করে এসব নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যার কথা শুনে কী পদক্ষেপ নিতে তা হবে ফোনেই বলে দেন। সে অনুযায়ী তারা সমস্যার সমাধান করেন।

কল সেন্টার ছাড়াও তারা মোবাইল ফোনে উপজেলা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান, গবাদিপশু, মাছ, কাঁকড়া ও সবজি খেতের সমস্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সুনীতা রানী মৃধা:

সুনীতা রানী মৃধা আট বছর পারিবারিকভাবে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিবছর তার খামারে কিছু পরিমাণ কাকড়া মারা যায়। এতে লাভের একটা অংশ ক্ষতি হয়। তিনি আগে থেকেই সুশীলনের সুবিধাভোগি দলের সদস্য ছিলেন। এক পর্যায়ে প্রতীক/ PROTIC প্রকল্পটি চালু হলে সেখানে তিনি সদস্য হন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি মৎস্য বিভাগের প্রশিক্ষণ পান। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন খামারের কাঁকড়া মারা গেলে বা কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে তিনি কল সেন্টার অথবা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে ফোন করে কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা জেনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে তার খামারে আগের মত কাঁকড়া মারা যায় না। বর্তমানে তার কাঁকড়ার খামার থেকে মাসে প্রায় চার হাজার টাকারও বেশি আয় হচ্ছে। খামারটি বসতবাড়ি সংলগ্ন হওয়ায় সুনীতা সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে খামারের কাঁকড়া দেখাশুনা করেন। স্থানীয় বাজারে সুনীতার স্বামীর একটি কাঁকড়া কেনাবেচার ডিপো থাকায় খামারে উৎপাদিত কাঁকড়া বিক্রি করতে তার সুবিধা হচ্ছে। সুনীতা রানী জানালেন, খামারটি বড় করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু পুঁজির অভাবে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সরকারি বা বেসকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে খামারটি বড় করতে পারবেন। আত্মবিশ্বাসের সাথেই সুনীতা জানালেন, আমি এখন নারী হিসেবে আর নিজেকে অসহায় মনে করি না।

অর্চনা রানী:

সরেজমিনে বড়কুপট গ্রামে যেয়ে দেখা মিললো সংগ্রামী নারী অর্চনা রানীর। অর্চনা রানী খামারের ৩৩টি ছাগল নিয়ে ব্যস্ত। সকালে ছাগলগুলোকে ছেড়ে দিচ্ছেন বাইরে খাওয়ার জন্য। ছাগল পালন তার পরিবারে একদিকে যেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছে, অপরদিকে নারী হিসেবে তাকে করে তুলছে স্বাবলম্বী। নিজের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য তাকে এখন আর ভাবতে হয় না। ছাগল পালনের লাভের টাকা দিয়েই এখন তার সন্তানদের স্কুলের পড়ালেখার সংকুলান হচ্ছে। ২০১৬ সালে নিজের খামারের ছাগল বিক্রি করে হাতে পেয়েছেন নগদ ৫৫ হাজার টাকা। ছাগল পালতে তাকে কোন খরচ করতে হয় না। তার খামারের সব ছাগল বাইরের উন্মুক্ত খাবার খেয়ে বড় হয়। খামারের কোন ছাগল অসুস্থ হলে সাথে সাথে অর্চনা প্রকল্পের প্রতীক কল সেন্টারে ফোন করে কী ওষুধ খাওয়াতে হবে বা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা জেনে নেন। প্রয়োজনে তিনি উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করেও তথ্য নেন। ভবিষ্যতে ছাগলের খামারটি অর্চনা রানী আরও বড় করতে চান।

বীণা রানী:

বীণা রানী বসতবাড়ি সংলগ্ন পারিবারিক ১৫ কাঠা জমিতে সবজি চাষ করছেন। সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় বিষয়টি তার মাথায়ই ছিল না। সুশীলনের সুবিধাভোগি দলের সদস্য হওয়ার ফলে তাকে প্রতীক প্রকল্পে প্রশিক্ষণার্থী দলের হিসেবে তাকে কিভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে হয় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এলাকাটি লবণাক্ত হওযায় এখানে সবজি চাষ করার চিন্তা সহজে কেউ করে না। বীণা রানী প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর শুরু করেন বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ। এখন তার সবজি খেত থেকে যে পরিমাণ সবজি উৎপাদিত হয় তা দিয়ে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে গত দুই বছরে তিনি কিছু টাকা সঞ্চয়ও করেছেন।

বছরের যে সময়টাতে লবণাক্ততা বেড়ে যায় সে সময় বস্তা পদ্ধতিতে ককশিট, টব ও বস্তায় সবজি চাষ করছেন। খেতে কোনো সমস্যা হলে সাথে সাথে ফোন করেন প্রতীক কল সেন্টারে। সেখান থেকে সঠিক সমাধান না পেলে ফোন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে। তাকে আরও সহযেগিতা করছে ইউনিয়ন তথ্য উদ্যোক্তা সেন্টারও। বীণা রানী সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সেচ দিতে একটি মটরও কিনেছেন। আরও টাকা সঞ্চয় করে তিনি জমি লীজ নিয়ে বড় আকারের সবজির খামার করতে চান।

তাসলিমা খাতুন:

তাসলিমা খাতুন খুবই দরিদ্র একজন নারী। খোলপেটুয়া নদীর তীরে ছোট্ট ছাপড়া ঘরে তার বসবাস। স্বামীর আয়ে সন্তানদের নিয়ে তাকে প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন সাঝে উপোস থাকতে হয়। তার উপর ২০০৯ সালে ঘটে যাওয়া ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তার সংসার। সন্তানদের নিয়ে তিনি চোখে অন্ধকার দেখতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে তার সাথে পরিচয় হয় উন্নয়ন সংগঠন সুশীলনের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর ইয়াসমিন সুলতানার। সে সময় ইয়াসিমনের পরামর্শে তিনি যোগ দেন সুশীলনের প্রাথমিক সুবিধাভোগি দলে। সেখান থেকে তিনি প্রতীক প্রকল্পে তিনি সপ্তাহব্যাপী সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর বাড়ির আঙিনায় সামান্য জমিতে শুরু করে সবজি চাষ। এই সবজি খেত থেকে উৎপাদিত সবজি পরিবারের খাওয়ার চাহিদা মিটিয়েও কিছু পরিমাণ তিনি বিক্রি করতে পারছেন। এর থেকে সামান্য পরিমাণ টাকাও তার হাতে এখন জমা হয়েছে। তাসলিমার এখন পরিকল্পনা আগামীতে তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে বড় আকারে সবজির চাষ করবেন। এলাকাটি লবণাক্ত হওয়ায় তিনি কৃষি বিভাগ থেকে আরও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চান। সাথে চান কিছু আর্থিক সহযোগিতা।

প্রভাতী রানী বৈদ্য:

প্রভাতী রানী বৈদ্য তিনি একটি চিংড়ি ঘেরের মালিক। একসময় যে পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো সেই সংসারে এখন আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির নারী সদস্য প্রভাতী বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে ভোগ করেছেন অভাবের যন্ত্রণা। মনে মনে সারাক্ষণ চিন্তা করতেন কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পাওয়া যায়। এরই মধ্যে তিনি হলেন সুশীলনের প্রাথমিক সুবিধাভোগি দলের সদস্য। এক পর্যায়ে বিগত ২০১৫ সালে সংস্থার প্রতীক প্রকল্পের ১০০ নারী সদস্যের মধ্যে তিনিও যুক্ত হতে পারলেন। তার পর প্রশিক্ষণ গ্রহণের সময় তিনি সবজি চাষের পাশাপাশি মাছ চাষের প্রশিক্ষণও গ্রহণ করলেন।

প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর প্রভাতী স্বামীর ছোট্ট বাগদা চিংড়ির ঘেরে নিয়মিত দেখাশুনা শুরু করেন। চিংড়ি ঘেরে বছরের বিভিন্ন সময় ভাইরাসে মাছ মারা যায়। এখন ঘেরে চিংড়ি বা অন্য কোন মাছ মারা যাওয়া বা কোন খারাপ লক্ষণ দেখলে সাথে সাথে প্রভাতী রানী প্রকল্পের প্রতীক কল সেন্টারে ফোন করা শুরু করেন। সেখান থেকে সমস্যার সমাধানে কি করতে হবে বা কি ওষুধ-সার প্রয়োগ করতে হবে জেনে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করা করেন। কখনও কখনও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে ফোন করেন চিংড়ি চাষের বিভিন্ন বিষয় জানতে। এখন তিনি হয়ে উঠেছেন সফল চিংড়ি চাষি। মাছের শরীরে ক্ষত হলে সাথে সাথে ছবি তুলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রতীক কল সেন্টার বা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তা পাঠিয়ে দেন তাৎক্ষণিক কি পদক্ষেপ নিতে হবে তা জানতে। এভাবেই তিনি এখন আট বিঘা জমির চিংড়ি ঘেরের মালিক। প্রভাতীর স্বামী এখন তাকে অনেক ভালবাসেন। হাতে এখন নগদ টাকাও আছে প্রভাতীর। পরিবার আর পাবাড়ার মানুষ সদস্যরা এখন তাকে সম্মানের চোখে দেখে। গ্রামের অনেকেই প্রভাতীর কাছে পরামর্শ নিতে আসে কিভাবে চিংড়ি চাষে সফল হওয়া যায়। প্রভাতীর ইচ্ছা আগামীতে বড় আকারের চিংড়ির খামার করবেন। এজন্য তার দরকার আর্থিক সহযোগিতা, যেখান থেকে তিনি পাবেন বড় আকারের পুঁজি।

শামনগর উপজেলা কৃষি, প্রাণিম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে তারা জানালেন, সুশীলন বা¯Íবায়িত প্রতীক প্রকল্পটিতে আমরা সরকারি দপ্তর হিসেবে সম্পৃক্ত আছি এবং এসব প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। আমাদের আশা এই নারীরা প্রযুক্তির ব্যবহারে আগামীতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে আরও ভূমিকা রাখবেন এবং নিজেরা স্বাবলম্বী হবেন।

প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আমি বর্তমানে এই ১০০ নারীর সাথে কাজ করছি। প্রতীক প্রকল্পের ১০০ নারীকে নিয়ে গঠিত কয়েকটি দলের প্রত্যেকটি দলে সকল সদস্য মাসে একবার সভায় অংশগ্রহণ করে। তখন তারা নিজেদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। সেখান থেকে তারা সমস্যা উত্তরণের জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা ঠিক করেন। তিনি নারীদের এই নয়টি দলের সাথে প্রতি মাসে একবার সভা করেন। এছাড়া প্রতিদিন তিনি কোন কোন সদস্যের বাড়িতে যান তাদের খামার দেখতে। বিভিন্ন সময় সদস্য নারীরা তার কাছে ফোন করেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। তিনি তখন তাদেরকে যোগাযোগ করিয়ে দেন বিভিন্ন দপ্তরে।

তিনি আরও জানালেন, নিভৃত পল্লীর এসব নারীরা প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এখন তারা মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও তথ্য সংগ্রহ করতে শিখেছে। তারা আত্মবিশ্বাসী হতে শিখেছে। এখন এসব নারী আর নিজেদেরকে অবলা মনে করে না। তারা সঞ্চয় করে নিজ নিজ সংসারে অবদান রাখছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য একটি মডেল হতে পারে।

Participatory Research and Ownership with Technology Information and Change – PROTIC শীর্ষক প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার তাপস কুমার মিত্র বলেন, সুশীলন এই প্রকল্পটি বড়কুপট গ্রামে বাস্তবায়ন করার ফলে প্রকল্পের ১০০ জন নারী এখন স্বপ্ন দেখছেন আগামীতে তারা এক একজন বড় উদ্যোক্তা হওয়ার। এই কাজে তাদেরকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে প্রকল্পের প্রতীক কল সেন্টার, ইউনিয়ন তথ্য উদ্যোক্তা, স্থানীয় উপজেলা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, বিভাগ।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে যে নারীরা একসময় অনভ্যস্ত ছিল তারা এখন আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোটে ইন্টারনেটের ব্যবহার করে নিজেদের সমস্যরার সমাধান করছে। এই গ্রামের ১০০ নারী বাংলাদেশে রোল মডেল হয়ে উঠবে। ১০০ নারীকে নয়টি গ্রুপে/দলে ভাগ করে দল গঠন করা হয়েছে। প্রতি মাসে তারা একবার সভায় মিলিত হয় এবং প্রতি মাসে দলের মাধ্যমে সঞ্চয় করছে, যা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। একসময় এটি একটি সমবায় ভিত্তিক সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলাকায় সিবিও আকারে প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রকল্পের কার্যক্রম এভাবেই এগিয়ে চলছে। আমরা আশা করি প্রকল্পটির শেষে এসব নারীরা এলাকায় এক একজন বড় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা

 

 

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.