প্রসঙ্গ নারীবাদ: চিন্তার সীমাবদ্ধতা এবং একটি সিগারেট

সুমু হক: নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে বলতে কথার পাহাড় জমে গেছে। সামাজিক মিডিয়ার সহজলভ্যতার বিপদজনক প্রভাব, সকলকেই সে অবলীলায় বিশেষজ্ঞ বানিয়ে দেয়, তা সে সত্যিকার অর্থে কোন বিষয়ে কারও পড়াশোনা, কিংবা অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থাকুক, বা না থাকুক।

স্বীকার করছি, আমার নিজের যে খুব বিদ্যাবুদ্ধি রয়েছে তা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাকে খুব বেশিদূর নিয়ে যাবার সৌভাগ্য হয়নি, আর নারীবাদ নিয়ে এ পর্যন্ত যতদূর লেখালেখি হয়েছে, তার খুব সামান্যই পড়বার সুযোগ হয়েছে। তবুও নিজের জীবন, নিজের এবং আশেপাশের মানুষগুলোর অভিজ্ঞতা এবং চোখের সামনে নিয়ত ঘটে চলা ঘটনাবলীর কারণে যেটুকু প্রায়োগিক জ্ঞান হয়েছে, সেটার কারণেই আর চুপ করে থাকতে পারা যাচ্ছে না। তাই লিখছি।

কোন আধুনিক প্রগতিশীল তত্ত্ব বা “বাদ”ই কিন্তু সার্বজনীন নয়। দেশ-কাল এবং ব্যক্তিবিশেষের প্রয়োজনে তাকে পরিবর্তিত হতে হয়, যেখানকার মানুষের কল্যাণে তাকে ব্যবহার করা হবে, সেই মানুষগুলোর প্রয়োজন এবং বিশেষ করে সময়ের প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, তা নইলে সে আর ঠিক “প্রগতিশীল” থাকে না, মুখ থুবড়ে পড়ে যায়।  

আমরা প্রায়ই ভুলে যায়, যে প্রগতিশীলতা কোন স্থবির চিন্তাধারার নাম নয়, এটা  এক ধরনের নিয়ত চলমান প্রক্রিয়ার নাম। নারীবাদ বিষয়টিও এর বাইরে নয়।

নারীবাদ প্রসঙ্গে কথা উঠলে যে বিশেষ দিকটি আমাকে ভীষণ ক্লান্ত এবং বিরক্ত করে সেটা হলো, ধরেই নেয়া হয় যে, নারীবাদ কেবল এক ধরনের ভাবনাকেই লালন করে, দেশ-কাল সমাজ ভেদে প্রতিটি নারীবাদীই একই ধরনের মুখস্থ করা গালভরা তত্ত্বে বিশ্বাসী। এবং কোটেশনে বিশ্বাসী হবেন (এই ধারণাটাও আবার করে দেন এমন কিছু সামাজিক পণ্ডিত এবং সমাজকর্তাদের প্রতিনিধিরা, নারীবাদের মৌলিক জায়গাটা যে নারী-পুরুষ, বায়োলজিক্যাল আইডেন্টিটি, যৌনতার ক্ষেত্রে পক্ষপাত, কিংবা জাতি-ধর্ম-মতবাদ এমনকি রাজনৈতিক মতবাদ নির্বিশেষে সকলের সমতা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা, সে বিষয়ে যাদের কোন ধারণাই নেই, অথবা থাকলেও কৌশলগত কারণে এটাকে তারা ভুলে থাকতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন।) এবং নারীবাদী মাত্রেই এই মতাদর্শে বিশ্বাসী হবেন।

দুঃখের বিষয়, এই সীমাবদ্ধ এবং স্থবির মানসিকতার দিক থেকে এমনকি অনেক নারীবাদীও পিছিয়ে নেই। এই দুই দলের জ্ঞাতার্থেই জানাই, নারীবাদ কখনোই শপিং মলে কিনতে পাওয়া “one size fits all ” পোশাক নয়। অন্য সব প্রগতিশীল চিন্তাধারার মতোই মানুষের কল্যাণেই যদি তাকে আসতে হয়, তবে দেশ কাল পরিবেশ ভেদে তাকে আলাদা করে চিন্তা করতেই হবে।

কিছু খুব সহজ উদাহরণ দেই।

এই মুহূর্তে সৌদি আরবের নারীরা সোচ্চার হচ্ছেন নিজের অভিভাবকত্ব এবং গাড়ি চালানোর অধিকার আদায়ের জন্যে। উত্তর আমেরিকায় বসবাস করা আমার মতো একজন নারীর পক্ষে পুরো বিষয়টাই এটি অপরিচিত, যে আমি শিউরে উঠি এই ভেবে যে, পৃথিবীতে কোথাও এখনো এমন একটি দেশ, সমাজ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে একজন মানুষকে তার নিজের জীবনের মৌলিক সিদ্ধান্ত নেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। যে আমি আলসেমি করে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিইনি (তার কারণ এখানে রাত দুটোয় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলেও আমাকে না কোনো অশ্লীল মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়, না কৈফিয়ত দিতে হয় কাউকে! আর নিরাপত্তার অভাব অন্তত এই শহরে অনুভব করি না, তার কারণ আমি জানি, আমার রাষ্ট্র সেই দায়িত্বটুকু নিয়ে রেখেছে), তার পক্ষে কোনোভাবেই বুঝে ওঠা সম্ভব নয়, শুধুমাত্র ড্রাইভিং করাবার অনুমতি না থাকায় যে সৌদি মা, তাঁর অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছেন না, তাঁর  মানসিক যন্ত্রণাটার পরিমাণ ঠিক কতখানি।

আমার কাছে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিচ্ছে, সেগুলো হলো একজন নারী শরীর ঢাকবেন না খুলবেন, সেই বিষয়ে তার স্বাধীনতায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা (হ্যাঁ, একজন নারীর হিজাব পরবার অধিকারটিও তার মৌলিক অধিকার, যদি তিনি সজ্ঞানে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে হিজাবের কনসেপ্টটিকে না মানতে পারি এবং একে অপ্রয়োজনীয় মনে করতে পারি,  এবং এমনকি আমার নিজের জন্যে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে ভাবতেই পারি,  কিন্তু অন্য যারা এর প্রয়োজনীয়তা মানছেন এবং  হিজাব পরছেন, তাদের সেই অধিকারটুকু রক্ষা করাটাকেও আমি আমার মৌলিক দায়িত্ব বলে মনে করি), একজন নারী তার প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষায় কতখানি রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাবেন, তার সন্তান ধারণ এবং সেই সংক্রান্ত সবরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি কতখানি স্বাধীন এবং সক্ষম, সেই অধিকারটুকু নিশ্চিত করা।  

এমন নয় যে এই বিষয়গুলো একজন সৌদি নারীর কাছে প্রয়োজনীয় নয়, বা এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই তাদের কাছে। আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে তারা আজও মানুষ হিসেবে নিজেদের মৌলিক অধিকারগুলো থেকে এতোখানিই দূরে যে তাদের কাছে বেঁচে থাকাটাই  এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত প্রিভিলেজড শ্রেণীতে ততাধিক প্রিভিলেজড পরিবারে বড় হয়ে ওঠার কারণে একজন নারী হয়েও আমার যতখানি স্বাধীনতা এবং সুযোগ-সুবিধে ছিল, আজও  আছে, আমার বাড়িতে গৃহকৰ্মী হিসেবে কাজ করা তরুণ পুরুষটির হয়তো সেটা নেই।

সেই স্বাধীনতা নেই একজন শ্রমিকের,  রিকশা চালকেরও। আবার একটি গার্মেন্টস এ কাজ করা কিশোরী শুধুমাত্র আর্থিক স্বাবলম্বিতার কারণে যে স্বাধীনতা এবং মানসিক পরিণত-মনষ্কতার অধিকারী হয়ে ওঠে, অঢেল প্রাচুর্যে বসবাস করা একজন নারীও হয়তো বা তার থেকে বঞ্চিত শুধুমাত্র পারিপার্শ্বিকতার চাপে। এই দুই মেরুর কারোর লড়াইটাই একজন নারীবাদীর কাছে হালকা বিষয় হওয়া উচিত নয়।

কানাডায় রাষ্ট্রের দেয়া অজস্র সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, এখানে একজন শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ নারীর জীবনযাত্রার মানে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। যে সুযোগগুলো একটি মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গ পরিবারের জন্যে জীবনযাত্রার সহজ স্বাভাবিক অংশ, একটি ক্যারিবীয়, ল্যাটিনো কিংবা বাংলাদেশী অভিবাসী পরিবারের জন্যে হয়তো সেগুলো এখনো বিলাসের পর্যায়ে পড়ে। এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা দুজন আলাদা মানুষের কাছে নারীবাদের সংজ্ঞা কী এক হবে কখনো!

টরন্টোর অভিবাসী সমাজে ঘটে যাওয়া ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে কাজ করবার দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্য হয়েছিল একবার। রাষ্ট্রের সহযোগিতা এবং অন্য সামাজিক সুযোগ এখানে অনেক। ঘর থেকে বের হলেই চারদিকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য সংস্হা, যারা নির্যাতনের শিকার হওয়া একজন নারীকে নিরাপদে, সম্মানের সাথে, মাথা উঁচু করে বাঁচবার ব্যবস্থা করে দিতে সক্ষম। প্রয়োজন শুধু একবার ৯১১ এ একটা ফোন করা।  জেনে অবাক হবেন যে, কত হাজার হাজার অভিবাসী নারী এই তথ্যটুকু জানেন না, কিংবা জানলেও শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসের অভাবে নাম্বারটি ডায়াল করতে ভয় পান! এদের কাছে নারীবাদের সংজ্ঞা কী হবে বন্ধুরা!

তাই বলছিলাম, নারীবাদ কোন বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ করে বমি করে দিয়ে আসবার মত বিষয় নয়, এটি একটি জীবনদর্শন, জীবনচর্চার বিষয়।  

নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে গেলে অবধারিতভাবে কিছু আক্রমণের শিকার হতে হয়, কিছু অশ্লীল মন্তব্য, ইনবক্সে উঠে আসা অশ্লীল ইঙ্গিত, গালাগালি এবং তারই সাথে অপরিমেয় অদম্য কৌতূহল! এগুলো থেকেও বুঝতে পারি, যারা এগুলো করছেন, তারা একইসাথে হয় নিরাপত্তাহীনতা এবং আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন।

বলা বাহুল্য, এদের দলে নারী এবং পুরুষ দুইই আছে। প্রাণিজগতের অন্তর্গত জীব মাত্রই আগ্রাসী হয়ে ওঠে, যখন তারা নিজেদেরকে বিপদের সম্মুখীন মনে করে, কিংবা তাদের স্বার্থে আঘাত আসে। এরাও তাই করছেন। তাই আর রাগ হয় না, খানিকটা করুণা হয় মাত্র।  

(২)

গত এক দশকে যে গালিগালাজগুলো শুনেছি, তার ভেতর পুরুষবিদ্বেষী, বেশ্যা,  চরিত্রহীন, ফ্রিজিড, বিয়ে হয়নি বলে তিক্ততায় ভোগা পিসিমা থেকে শুরু করে আরো অনেক অনেক কিছু রয়েছে। বলা বাহুল্য, এই জেনারালাইজেশনের ধরনই বলে দিচ্ছে, ব্যক্তি হিসেবে আমার সম্পর্কে তাদের ধারণা কতদূর। আমার ভাবনা চিন্তা তো অনেক দূরের কথা।  আমি নিশ্চিত, আজকের সমাজে যে কোন ধরণের আন্দোলনে পথে নামা নারীদের নিয়ে হওয়া সমালোচনার মূল সুর এবং পেছনের কারণ কিন্তু একটাই। আমার ভাইয়া একটা কথা বলতেন, “তোর বিরুদ্ধে মানুষ কথা বলছে, সমালোচনা করছে তার মানেই তুই ঠিক রাস্তায় আছিস। এবং কাজের কাজ কিছু করছিস।” খুব সত্যি কথা, একমাত্র মৃত মানুষ এবং দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা ছবির মানুষগুলোরই সমালোচনা হয় না।

আজ যারা নারীবাদ নিয়ে লেখালেখি করা নারীদের পেছনে লাগছে তাদের মোটিভেশনও এটাই। স্বার্থে ঘা  লাগাতে তারা আগ্রাসী হয়ে উঠছে, এর সাথে নারীবাদ মানা  না মানার কোন সম্পর্ক নেই। আর এইসব স্বার্থান্বেষীদের বাতাস দিয়ে চলেছে সেই শ্রেণীর নারীবান্ধবেরা, যারা বলে থাকেন, “আমি নারীর অধিকারে বিশ্বাস করি, কিন্তু ভাই আমি নারীবাদী নই!”

প্রথম কথা, নারীবাদ অত ঠুনকো বিষয় নয়,  এর সাথে পুরুষ তথা মানবাধিকারের কোন বিদ্বেষ নেই,  নারীবাদী হওয়া  মানেই পুরুষের প্রতি আক্রমণাত্মক হওয়া নয়। নারীবাদ আপামর মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। নারীর প্রতি ঘটে চলা অন্যান্যের প্রতিবাদে যদি একজন পুরুষ হিসেবে নিজেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আক্রান্ত মনে করে থাকেন কেউ, তবে তার নিজেরই ভেবে দেখা উচিত, সেটা  কি তিনি নিছক পুরুষ বলেই হচ্ছেন, নাকি সামন্ত মানসিকতা পুষে রাখা, নারীর অধিকার হরণ করে চলা একটি বিশেষ শ্রেণীর প্রতিনিধি বলেই হচ্ছেন?

একটু ভাবুন, উত্তরটা নিজেরাই পেয়ে যাবেন।

দ্বিতীয়ত, আমাদের সমাজ মানবিকতার চাইতেও অনেক ওপরে জায়গা দিয়ে থাকে চরিত্রের মতন একটি বায়বীয় ধারণাকে। যেকোনো আন্দোলন বানচাল করতে চাইলে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই। শুধু যেকোনো একটি ছুতো নিয়ে একটা দোষ দেখিয়ে দিতে পারলেই হলো। এর আগে পরে ওই “চরিত্রহীন” মানুষটির কোন কাজ বা বক্তব্যকে নিয়ে আর ভাববেই না মানুষ।

সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে অংশ নেয়া নারীদের বিরুদ্ধে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি, যেন এই কাজটি করে তারা কোন ভয়ংকর অন্যায় করে ফেলেছেন।

আপনাদের মনে থাকতে পারে, এই একই ঘটনা শাহবাগের আন্দোলনের সময়ও উঠেছিল। অশ্লীল আচরণ ও “অনৈতিক” কাজের অপরাধে হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন পথে নামা নারীরা। উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়,  মূল আন্দোলনের থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়া। এই কৌশলটি নতুন কিছু নয়, যুগে যুগে পৃথিবী জুড়ে এর ব্যবহার হয়েছে। তা সে আমরা মধ্যযুগে য়ুরোপে ডাইনি অপবাদে নারীদের পুড়িয়ে মারার কথাই  ভাবি, কী সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরব স্প্রিঙের সময় হওয়া নারীদের ওপর আক্রমণ। মূল সুর এবং উদ্দেশ্যও ছিল একটাই।

সুমু হক

এবার আসি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে।

আমি নিজে সিগারেট খাই না, সেটা চরিত্রদোষ বলে নয়, খাইনা গন্ধ সহ্য করতে পারি না বলে। আমার ভাই খান, বোন খান, পুরুষ এবং নারী বন্ধুদেরও অনেকেই খান। আমি আজীবন তাদেরকে জ্বালিয়ে এসেছি খাওয়া বন্ধ করতে, প্রথমত তাদের শারীরিক সুস্থতার কথা ভেবে, দ্বিতীয়ত, গন্ধের কারণে।

আর পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে বইকি!

কিন্তু বিষয়টা হলো, আমি সিগারেট খাওয়াকে ঠিক একইভাবে বিচার করি, যেভাবে করি একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের রসমালাই খাওয়াকে।

অন্য কোন আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

যারা এই সিগারেট খাওয়ার বিষয়টিকে হাইলাইট করে সমালোচনা করছেন, তারা সেটা জেনে এবং বুঝেই করছেন, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনের মূল বিষয়টি থেকে মনোযোগ সরাবার উদ্দেশ্যেই। আলোচনাটিকে জিইয়ে রেখে আমরা বরং তাদের কাজটাকেই সহজ করে দিচ্ছি। মানুষ হিসেবে কেউই নির্ভুল নন, আন্দোলনকারীরাও নন, কিন্তু সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি যদি অন্যায় হয়, তবে সেই অন্যায়টা কেবল নারীর বেলায় কেন?  পুরুষের বেলায় কেন নয়? আলোচনা যদি হয়, বিতর্ক যদি হয়, তবে বরং এই দিক থেকেই হোক,  আমরা বরং কথা বলি পরিবেশ কী স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে। কিন্তু এটা কখনোই ভুললে চলবে না, যে দিনশেষে আমি সিগারেট খাবো, না মদ, না রসমালাই, সেটা আমার ব্যক্তিগত অধিকার এবং সিদ্ধান্ত।

রাষ্ট্র কি সমাজের কোন অধিকার নেই এখানে হস্তক্ষেপ করবার।

আর পথে নামা সংগ্রামী বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ, যারা এইভাবে আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে অজস্র ছোট বড় এবং কখনো খুব অবান্তর এবং অপ্রাসঙ্গিক সব বিষয় নিয়ে তর্ক করে আমাদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতে চাইছে, তাদেরকে অনুগ্রহ করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবেন না।  এটাই কিন্তু ওদের কৌশল। এদের আলোচনা সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে মাথায় তোলার কোনোই মানে নেই। যতোক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলনের পথটা ঠিক আছে, আর বাকি সবকিছু অবান্তর।

সংহতি!                                                                                                                                                                                                                                                                             

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.