শিক্ষার পর এবার কি নারীর হেফাজত শুরু হবে?

চারু হক: বিগত এক দশকে প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা পাচার, ব্যাংক বীমা শেয়ার বাজারসহ নানাবিধ প্রাতিষ্ঠানিক কেলেংকারি, রাজনৈতিক অরাজকতা, এবং এরই পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে গড়ে ৬.৫ শতাংশ হারে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি। 

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি, যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। আর “তলাবিহীন ঝুড়ির” কুখ্যাতি থেকে বাংলাদেশকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে যে শিল্প, নিঃসন্দেহে সেটা তৈরিপোশাক শিল্প। এই শিল্পে বর্তমানে অন্যুন ৫০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে যাদের ৮০ ভাগই নারী। এদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও যুক্ত রয়েছে দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ। নারীশিক্ষা, বাল্যবিবাহ, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু, গড় আয়ুসহ যতগুলো সূচকে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অগ্রগতি এসেছে, সবগুলোর পেছনে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত এই নারীদের নূতন অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রভাব রেখেছে। কিন্তু কেমন হবে যদি হঠাৎ করে এই নারীদেরকে আবার অন্তঃপুরে ঠেলে দেয়া হয়, যদি দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারীদেরকে অর্থনীতি ও ক্ষমতায়নের সকল ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেয়া হয়! হ্যাঁ এই আশংকা এখন আর অমূলক নয়।

পিছনপথে এগিয়ে যাবার এই সম্ভাবনা সম্ভবে রূপ নিতে শুরু করেছে শিক্ষাখাত ধরে। পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণায় আবিষ্ট হেফাজতে ইসলাম, ওলামা লীগ, ইসলামী আন্দোলন ইত্যাদি এবং বিশেষত হেফাজতের ১৩ দফা দাবিদাওয়ার অংশ হিসাবেই সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকের সাথে যা ঘটানো হয়েছে তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আর ঘটেনি।

উল্লেখ প্রাসঙ্গিক, প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের অক্ষরজ্ঞান সূচিতে ৪-৫ বছরের শিশুকে ‘ও’ অক্ষর চেনাতে ‘ওড়না চাই’ বলার মতো অবিমৃশ্যকারী উচ্চারণ না হয় বাদ দিলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যাঁর জন্ম না হলে বাংলা সাহিত্যকে হয়তো এখনও স্রেফ একটি আঞ্চলিক সাহিত্যের সীমাবদ্ধ মর্যাদা নিয়েই তুষ্ট থাকতে হতো, সেই বিশ্বকবির ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ কবিতায় ‘মন্দির’ শব্দ আছে বলে পুরো কবিতাটিই বাদ দেয়া হয়েছে- ৭ম শ্রেণির বাংলা বইতে। এবং অন্যান্য শ্রেণির বাংলা বইতে হিন্দুত্ববাদী কোনো উপাদান না থাকা সত্ত্বেও শুধু হিন্দু হবার কারণে সুকুমার রায়, কালিদাস রায়, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভারতচন্দ্র, জ্ঞানদাস, লালন শাহ, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন সেন প্রমুখের গল্প-কবিতা বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ এঁদের রচনা বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য অসম্পূর্ণ এবং দরিদ্র! ঘটনা এখানেই শেষ নয়।

১লা জানুয়ারি দেশব্যাপী বিনামূল্যে সরবরাহকৃত বইগুলো যখন শিশুকিশোর ও তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে এবং তাতে যখন দেশব্যাপী তুমুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়; টেলিভিশন, পত্রিকা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কসহ নানান মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরা হেফাজতের প্ররোচনায় সরকারসৃষ্ট অপরাধনামা তুলে ধরে, এবং সেই অপরাধে হেফাজত গংদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে, তখন হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফি, ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমরা তর্জন-গর্জন করে ওঠেন। তারা এইসব কেলেংকারির খবর পরিবেশনকারীদের চিহ্নিত করে মাঠে নেমে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন (জানুয়ারি ০৭, ২০১৭)।

অন্যদিকে নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার নয়া সাম্প্রদায়িকীকরণ নিয়ে এককালের বামনেতা, বর্তমানের শিক্ষামন্ত্রীকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি ‘সাম্প্রদায়িকীকরণ’ নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন, হেফাজতে ইসলামের দাবি মেনে নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন ঘটাতেই পাঠ্যক্রমে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে!

যাই হোক, মুক্তিযুদ্ধের ‘এই’ চেতনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে শিশুকিশোরদের পাঠ্যবই থেকে হিন্দু কবিসাহিত্যিকদের রচনাই শুধু নয়, ‘হিন্দু’ হওয়ার অপরাধেই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সকল বই থেকে বর্তমানের এনসিটিবি-র চেয়ারম্যানের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। উপরন্তু এইসব অভূতপূর্ব অপরাধসমূহের প্রতিবাদে অনলাইন, অফলাইন ও রাজপথে অজস্র মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রতিবাদ সত্ত্বেও সরকার সংশ্লিষ্ট মহলকে তুষ্ট রাখার তাগিদে পাঠ্যবইতে তাদের আদর্শ অক্ষুন্ন রাখার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে (১৬ জানুয়ারি, ২০১৭)। অথচ শিক্ষাখাতে এমত প্রয়াসের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর উচ্চারণ অতটা তীব্র ছিল না, যতটা ছিল নারী বিষয়ে।

এ প্রসঙ্গে ২০১৩ সালে হেফাজত কর্তৃক ১৩ দফা দাবিদাওয়ার ব্যাখ্যাসহ নারী বিষয়ক ৪নং ও ৫নং দফা, এবং পরবর্তী সময়ে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফির ওয়াজ নছীহতের কিয়দংশ উল্লেখ্য। ১৩ দফার ৪নং দফায় ‘প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ’ এ আপত্তি জানিয়ে সেটা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যদিও ‘অবাধ বিচরণ’ বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। তবে এই দফার ব্যাখ্যায় নারীদের হিজাব পালনে উদ্বুব্ধকরণের কথা বলা হয়েছে, যেজন্য ৪-৫-৬ বছরের শিশুদের বইতেই ও-তে ‘ওড়না চাই’ উল্লিখিত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, নারীদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য আলাদা বালিকা বিদ্যালয় বা মহিলা কলেজ থাকতে পারলে আলাদা কর্মক্ষেত্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে আপত্তি তোলার যুক্তি থাকতে পারে না অর্থাৎ, এখন যে ৪০ লাখ বা তারও অধিক নারী কেবল তৈরিপোশাক শিল্পে কর্মরত রয়েছে, তাদেরকে সেসব থেকে সরিয়ে দিয়ে নারী উদ্যোক্তা এবং নারী মিড-ম্যানদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানাদিতে প্রতিস্থাপিত করতে হবে। আর সেটা সম্ভব না হলে তাদের উক্ত কর্মক্ষেত্র থেকে বিরত রাখতে হবে, কারণ তারা সেখানে কর্ম সুবাদে নানাবিধ পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু তাই নয়, এই প্রয়াসের ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয় মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেমন কো-এডুকেশন উঠিয়ে দিতে হবে, তেমনি সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী-পুরুষ শিক্ষকদের আলাদা করতে হবে, মানুষের অধিকারের কোনো আন্দোলনে নারী-পুরুষ একসাথে মিছিল মিটিং করতে পারবে না, এবং ভোটাধিকার ও রাজনীতির অধিকার থাকলেও সংসদে তারা একসাথে বা পাশাপাশি বসতে পারবে না। কিন্তু এখনকার মতো নারী-পুরুষ একসাথে হজ্বে যেতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে হেফাজতীদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

১৩ দফার ৫ নং দফায় জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্বব্যাপী সর্বমান্য নারীনীতি ‘সিডও সনদ’ বাতিলের দাবি তুলতে গিয়ে তারা এর বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান যাজকদের আপত্তির প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন। অথচ ধর্ম, মত, পথ ইত্যাদি কোনো বিষয়েই উভয়ের মধ্যে কোনো মিল না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নারীদের বিরুদ্ধে উভয়ের স্বার্থ ‘এক’ হয়ে যায়, সেটা ভেবে বিস্মিত হতে হয়।

সম্ভবত এজন্যই আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে বেগম রোকেয়া বলেছেন, ‘আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করিয়াছেন। এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষ রচিত বিধিব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে’।

এজন্যই নারীদের অধিকার প্রসঙ্গ আসলেই ইসলাম খ্রিষ্টান এমনকি ইহুদি হিন্দু ধর্মও আপত্তিতে একাকার হয়ে যায়! এদের কাছে নারী স্রেফ প্রয়োজনীয় এক শরীরযন্ত্র, লোভনীয় এক ভোগ্যবস্তু, যেজন্য সাঈদীর ওয়াজে যেমন অবধারিত হিসাবে নারীদের প্রসঙ্গ আসে এবং নারীদেরকে সেখানে ছিলা কলার সাথে তুল্যজ্ঞান করা হয়, তেমনি হেফাজতের আমির আহমদ শফির ওয়াজে নারী তেঁতুলতুল্য হয়ে যায়। এই লোকগুলোর ওয়াজ নছীয়ত বয়ান বাহাস শুরু হয় নারী দিয়ে, শেষ হয় নারী দিয়ে; শয়নে স্বপনে ঘুমে জাগরণে সজ্ঞানে অজ্ঞানে সবখানে এদের মাথায় শুধু নারী আর নারী ঘুরপাক করে, তাই তারা মনে করেন কেবল নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই জগতের সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এজন্য নারী বিষয়েই তাদের দাবিদাওয়ার সর্বপ্রাধান্য থাকে।

মনে মগজের সেই মোটিফ তাই অবধারিতভাবে মাওলানা শফির মুখনিঃসৃত হয়ে বেরিয়ে আসে :  

আপনারা মহিলারা মার্কেট করতে যাবেন না। স্বামী আছে সন্তান আছে তাদের যাইতে বলবেন। আপনি কেন যাবেন? আপনি স্বামীর ঘরের মধ্যে থাইকা উনার আসবাব পত্র এগুলার হেফাজত করবেন। ছেলে সন্তান লালন পালন করবেন। এগুলা আপনার কাজ। আপনি বাইরে কেন যাবেন? …গার্মেন্টসে কেন দিচ্ছেন আপনার মেয়েকে? সকাল / টায় যায়, রাত ১০/১২ টায়ও আসে না। কোন পুরুষের সাথে ঘোরাফেরা করে তুমি তো জান না। কতজনের সাথে মত্তলা হচ্ছে আপনার মেয়ে তা তো জানেন না। জেনা কইরা টাকা কামাই করতেসে, বরকত থাকবে কেমনে? আপনারা মেয়েদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করাইতেসেন। কেন করাইতেসেন? তাদের ক্লাস ফোর ফাইভ পর্যন্ত পড়াইবেন যাতে বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা পয়সার হিসাব রাখতে পারে।…মহিলাদের ক্লাসের সামনে বসানো হয়। পুরুষরা কি লেখাপড়া করবে? মেয়ে মানুষ হচ্ছে তেঁতুলের মত। ছোট্ট একটা ছেলে তেতুল খাইতেসে, তা দেখলে আপনার মুখ দিয়া লালা ঝরবে। দিনরাত মেয়েদের সাথে পড়ালেখা করতেসেন, আপনারা দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। রাস্তাঘাটে মেয়েদের সাথে চলাফেরা করতেসেন, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। যতই বুজুর্গ হন আপনার মনের মাঝে কু খেয়াল আইসা যাবে। (উইমেন চ্যাপ্টার, জুলাই , ২০১৩)

অর্থাৎ নারীর অভিগম্যতা কেবল অন্তঃপুরে, নারীর দায়িত্ব কেবল সন্তান লালন পালনে, নারীর পড়াশোনা শুধু ক্লাস ফোর পর্যন্ত স্বামীর টাকা-পয়সার হিসাব রাখার জন্য, নারী পুরুষের সঙ্গে একত্রে শিক্ষা গ্রহণ ও চলাফেরায় অনুপোযুক্ত। এবং আরও সাংঘাতিক, যে উচ্চারণ হেফাজতের আমির করেছেন সেটা হচ্ছে, দেশের যে অর্ধকোটি নারী গার্মেন্টস খাতে দিনরাত্রি শ্রম বিক্রি করে বাংলাদেশকে কুখ্যাত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে বৈশ্বিক অগ্রগতির এক ঈর্ষণীয় অবস্থানে তুলে এনেছে, সেটা সম্ভব হয়েছে সেইসব নারীদের নিত্যকর্ম জেনা ও ব্যভিচারের মাধ্যমে!       

উল্লেখ অবান্তর, হেফাজতে ইসলাম একান্তই শাহ আহমদ শফির মানসজাত একটি প্লাটফর্ম, এবং আহমদ শফির মুখনিঃসৃত বাণী ও বয়ানই এই প্লাটফর্মের দাবিদাওয়া বিধিবিধান। হেফাজত গংদের এই উচ্চারণগুলো তাই মজলিশ জমানো মন্তব্যের মতো ছুঁড়ে দেয়া তাৎক্ষণিক কিছু নয়, দেশের উন্নয়নে বিতৃষ্ণ হয়ে বা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোনো কূটকৌশলী আচরণ নয়, বরং তারা মনেপ্রাণে এই চিন্তাধারাকে ধারণ করে এবং আন্তরিকভাবেই এসবের বাস্তবায়ন চায়।

যেজন্য শফি বলেছেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আন্দোলন চলবে’। এবং তার/তাদের সেই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়ন করা হবে’ (চট্টগ্রাম, ১৭ নভেম্বর ২০১৩)।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘১৩ দফার অনেকগুলোই বাস্তবায়ন করা আছে। আরও কিছু বাস্তবায়নের পথে। বাকি যেগুলো যৌক্তিক সেগুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে। সুতরাং, নিয়ে আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন নেই’ (সমকাল, ০৪ মে ২০১৩)।

হ্যাঁ, ভয়টা সেখানেই। শিশু-কিশোরদের পাঠ্যপুস্তকে নির্বিচারে ছুরি চালানোর জন্য হেফাজত গংদের কোনো আন্দোলন করতে হয়নি, সামান্য আহবানেই তাদের দাবি-দাওয়ার বাস্তবায়ন ঘটেছে। এতে করে অতি অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। আর সেই প্রত্যাশার পথ ধরে শীঘ্রই হয়তো তারা নারী বিষয়ক উপরিল্লিখিত ভাব-ভাবনাকে বাস্তবায়ন করার আহবান জানাবে। সেই আহবানে সহজশর্তে সাড়া না দিলে আন্দোলনের ঘোষণা দিবে, ৫ই মে’র মতো ঢাকা অচল করে দেয়ার হুমকি দিবে, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সামাজিক অরাজকতার সহজ বিস্তারণের ভয় দেখাবে, পাশাপাশি হয়তো আগামীতে কোনো ভোটের নির্বাচন হলে সেখানে ক্রমবর্ধমান মৌলবাদী ভোট প্রাপ্তির লোভও দেখানো হবে; সবকিছু মিলিয়ে তাদের পক্ষে হয়ত সরকারকে রাজি করানোও সম্ভব হয়ে যাবে। এরপর নিকট অতীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আশ্রয় করে যুদ্ধজয়ী বাংলাদেশ ফের পিছনপথে যতদূর যায় যাক, স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষার মতো নারীদেরও হেফাজত শুরু হয়ে যাবে!   

চারু হক : গদ্যকার

[email protected]

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.