ট্রাম্পের প্রতি এক সিরিয় শিশুর টুইট

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: বানা আলাবেদ, ছোট্ট একটি শিশু, সিরিয়ান শিশু, বয়স মাত্র সাত বছর। সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে ছিল এই কিছুদিন আগেও। তার একটি টুইট বার্তা বিশ্বের লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে টুইট বার্তা এবং হাতে লেখা চিঠিতে সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের সহায়তায় কিছু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। 

Bana Alabed

বানা লিখেছে, ‘আমি জানি তুমিই হবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, কাজেই তুমি কি সিরিয়ার জনগণ এবং শিশুদের রক্ষা করতে পারবে? সিরিয়ার শিশুদের জন্য তোমাকে অবশ্যই কিছু করতে হবে, কারণ তারা তোমার শিশুদের মতোনই এবং তোমার মতোনই শান্তিতে থাকার অধিকার রাখে।” সে আরও লিখে, “আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, যদি তুমি সিরিয়ার শিশুদের জন্য কিছু করো, তবে আমি তোমার বন্ধু”।

হাতে লেখা এই চিঠিটি লেখা হয়, ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার অল্প কিছু আগে। বানা গত ডিসেম্বরেই পূর্ব আলেপ্পো থেকে পালিয়ে এসে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে পরিবারের সাথে। সে জানায়, তার সিরিয়ার স্কুলটি এরই মধ্যে বোমায় বিধ্বস্ত এবং তার বেশকিছু বন্ধুও মারা গেছে। ” তাদের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে, ওরা যদি আজ আমার সাথে থাকতো, তবে একসাথে খেলতাম আমরা। আলেপ্পোতে আমরা খেলতে পারিনি, ওটা ছিল মৃত শহর”, বানা জানায়। তুরস্কে সে এখন শান্তিতে আছে, নতুন স্কুলে যাচ্ছে। কিন্তু বানা চিঠিতে লিখেছে, লাখ লাখ সিরিয়ান শিশু এখন অনিবার্য মৃত্যুর মুখে, তাদের সাহায্য দরকার।

বুধবার বানা তার পুরো চিঠিটির একটি ছবি টুইটারে তুলে ধরে। যেখানে সে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লিখে যে, “আমি তোমার কাছে অনুরোধ করছি, কিছু একটা করো সিরিয়ার শিশুদের জন্য। যদি পারো, তবে আমিই হবো তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ধন্যবাদ”।

সে আরও লিখে, ‘প্রিয় ট্রাম্প, শরণার্থীদের নিষিদ্ধ করা খুবই খারাপ। যদি এটা ভালোই হয়, তবে আমার একটি প্রস্তাব আছে তোমার প্রতি। অন্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ করে তোলো’।

বানার মা ফাতেমাহ আলাবেদ সহায়তা করেছেন মেয়েকে অ্যাকাউন্টটি খুলতে এবং তা ম্যানেজ করতে। আর এটা তিনি করেছেন যখন আলেপ্পো শহরে তারা বিদ্রোহীদের দ্বারা আটকা পড়েছিলেন। মুহূর্তেই তাদের হাজার হাজার ফলোয়ার (বুধবার পর্যন্ত তিন লাখ ৬২ হাজার) জুটে যায়। এখানে তারা তাদের প্রতিদিনের বিভীষিকার কথা তুলে ধরতেন। 

অনুসারীরা প্রতিদিন দেখেছে সাত বছরের বানা তার ভাইবোনদের সাথে খেলছে, ঞ্যারি পটার পড়ছে। আবার বোমা হামলারও শিকার হচ্ছে। বানা ক্রমেই আন্তর্জাতিক সিম্বলে পরিণত হয়। অনেকে বানার এই টুইটগুলোকে আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরির সাথেও তুলনা করেন। যে কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসীদের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ডায়েরিতে সব লিপিবদ্ধ করে গেছিল। 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.