রুবেল দিয়ে শুরু, সানিতেই যেন শেষ হয়

সেবিকা দেবনাথ: বুঝতে পারছি না, রুবেল আর সানিকে নিয়ে এতো কেন কথা হচ্ছে? ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, আজাহার উদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলীর (আরও অনেকেই আছেন) মতো বাঘা বাঘা ক্রিকেটারেরও নারীঘটিত স্ক্যান্ডাল আছে। তাতে কি তাদের মানহানি হয়েছে? হয় নাই তো।

রুবেল, সানিরও হবে না। এমন একটু-আধটু স্ক্যান্ডাল না থাকলে বড় হওয়া যায় না। এখানেই শেষ নয়, বিপিএলের চতুর্থ আসরে জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেন ও সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ। এজন্য দুজনকে জরিমানাও করা হয়।

শাহাদাতের কথা বাদই দিলাম। পেটের দায়ে কাজ করতে আসা গৃহকর্মি ছোট মেয়েটিকে হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছে শাহাদাতের স্ত্রী নিত্য। ভুল-চুক হলে একটু-আধটু শাসন করতেই পারে। এবং সে তাই করেছে। তাতে দোষের কী আছে? এগুলো নিয়ে মিডিয়া বাড়াবাড়ি করেছে। মিডিয়ার লোকজনের তো রসালো জিনিস দিতে না পারলে পেটের ভাত হজমই হয় না।

দোষটা কিন্তু হ্যাপি এবং নাসরিনেরই। মেয়েরা নাকি ছেলেদের চেয়ে অনেক আগেই পরিপক্ক হয়। তাই যদি হয়, তবে মেয়ে দু’টির পরিস্থিতি বোঝা উচিত ছিলো। ওরা যে সময় রুবেল আর সানির সঙ্গে মিশেছে, তখন ওরা ছিলো সাধারণ। এখন একটু নাম ডাক হয়েছে। রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। নজর এখন উপরের দিকেই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া বাচ্চা বাচ্চা পোলাপান ওরা। অত কিছু ভেবে তো আর কিছু করেনি। একটু-আধটু ভুল না হয় হয়েই গেছে। তাই বলে থানা-পুলিশ কেন করতে হবে? নামী মানুষের নামে কুৎসা রটিয়ে মেয়ে দু’টি লাইম লাইটে আসতে চাইছে।

ঝুড়ি ঝুড়ি এমন অনেক কথা আকাশে-বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। শুনছি। হজম করছি। আমাদের দেশের সোনার ছেলেদের অবস্থা দেখে সত্যিই হতাশ হচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে সিনেমার নায়কদের জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে ক্রিকেটাররা। এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটারদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের মডেল ও অ্যাম্বাসেডর করছে কোম্পানিগুলো। তাদের এই অধঃপতন দেখে সত্যিই আহত হই।

যে ছেলেগুলো ভালো খেলে দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনে, ব্যক্তিগত জীবনে তাদের কেন এতো অধঃপতন? তারকাখ্যাতি বা হঠাৎ টাকার অহমই কি তাদের নিম্নগামী করছে?

প্রেম এবং বিয়ে করাটা অপরাধ নয়। কিন্তু অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে এতো কাঁদা ছোড়াছুড়ি কেন? নাসরিন-সানির ছবিগুলো এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়নি। ভাইরাল হোক, তা চাইও না। নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে দেয়ার মধ্যে বাহাদুরি নেই। বরং তা নিজের কুরুচি এবং নিম্নগামিতারই প্রমাণ দেয়।

সানির মা নার্গিস আক্তার নাসরিন সম্পর্কে যা বলছেন তা আরও বেশি কদর্যপূর্ণ। নিজের ছেলেকে নির্দোষ দাবি তিনি করতেই পারেন। কিন্তু এতোটা কদর্যপূর্ণভাবে কেন?

সেবিকা দেবনাথ

তিনি বলছেন, পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে ও ঘুষ দিয়ে টাকার লোভে নাসরিন সানিকে ফাঁসিয়েছে।

ইউটিউব এবং ফেসবুকের বদৌলতে রুবেল-হ্যাপির কথোপকথন শুনেছি। ঘেন্নায় গা গুলিয়েছে। তখন বলা হয়েছিলো হ্যাপির মতো অখ্যাত মডেল রুবেলকে ওপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ক্রিকেট বোর্ড দৌঁড়-ঝাঁপ করে রুবেলকে ছাড়িয়ে আনলেন। জামিন পেয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যান রুবেল। হ্যাপি শেষ পর্যন্ত মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। (বা নিতে বাধ্য হোন, কে জানে!)

যতদূর জানি রুবেল বর্তমানে নিউজিল্যান্ড সফরে আছেন। এই সফরে স্থান পাননি সানি। শাহাদাত ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারে কাছে নেই। সাব্বির নিউজিল্যান্ড সফরে থাকলেও আল-আমিনকে স্কোয়াডেই নেওয়া হয়নি।

আর এই ঘটনার পর সানির ক্ষেত্রে কী হয় তা সময়ই বলবে। তবে সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমি চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অপরাধী যে বা যত বড় তারকাই হোক না কেন তার শাস্তি হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে রুবেলকে দিয়ে শুরু হয়েছিলো এই নোংরামি। সানিতেই যেন এই কদর্যপূর্ণ ঘটনার শেষ হয়। আর কিছু বলার নেই। সেইসাথে এই নাসরীন-হ্যাপিরাও যেন সতর্ক থাকে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.