পুরুষের চরিত্রহীনতা, নাকি নারীর সন্দেহপ্রবণতা?

রোকসানা ইয়াসমিন রেশনা: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটাই তো এমন যে একজনের আচরণে কোনরকমের অস্বাভাবিকতা এলে অন্যজন তা বুঝতে পারে। আর কোনো অন্যায় কাজের সাথে জড়িয়ে গেলে আচরণে তা ফুটে উঠবে এটা আরও স্বাভাবিক, সে স্বামী হোক বা স্ত্রী।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটাই এমন যে, নারীরা কোনো অন্যায় করলে তাকে যতো খুশি শাসন করা যাবে। কিন্তু স্বামীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই যতো সমস্যা। বিশেষত: নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও স্বামীর চরিত্র স্খলনের বিষয়ে কথা বলতে গেলেই স্ত্রী হয়ে যায় সন্দেহবাতিকগ্রস্ত। আর এই আক্রমণের ক্ষেত্রে সমাজের পুরুষেরা যতোটা না এগিয়ে, তার থেকে অনেক বেশী এগিয়ে থাকে নারীরা। কারণ এখনও অধিকাংশ নারী মনে করে তাদের বেহেস্ত রয়ে গেছে স্বামীর পা এর নীচে এবং শরীরের যে অংশে স্বামীরা আঘাত করবে সেই অংশ সবার আগে বেহেস্তে যাবে।

রোকসানা ইয়াসমিন রেশনা

আমরা তখন চট্টগ্রামে থাকি। পাশের বাসার খালাম্মার সাথে তার হাজব্যান্ডের সবসময় ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি লেগে থাকতো। বিষয়- তার আপন ছোট বোন, যে কিনা তাদের বড় ছেলের থেকে একটু বড়ো, এক সময় তাদের বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো, তার সাথে তার হাজব্যান্ড একটা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। খালাম্মা আপত্তিকর অবস্থায় কয়েকবার ধরার পর বোনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রত্যেক উইকেন্ডে পতিধন কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়। খালাম্মার ধারণা, সে তার বোনের সাথে মিট করতে যায় এবং ফিরে এলেই ঝামেলাটা শুরু হয়। সেটা মাঝে মাঝে এমন অবস্থায় পৌঁছে যে বাড়িওয়ালাকে পর্যন্ত আসতে হয় সালিশ করতে।

মজার বিষয় হচ্ছে, অধিকাংশ দিন সালিশ শেষ হতো, খালাম্মা ভুল জানে, সন্দেহপ্রবণ, অযথা সংসারে অশান্তি করে, এই সব অপবাদ ঘাড়ে দিয়ে। সাথে শাসিয়ে দেয়া হতো, ভবিষ্যতে যেন এইসব নিয়ে আর কোন প্রকার অশান্তি না করে। বাড়ির সামনের খালি জায়গাতে অন্যসব খালাম্মারা মিলে যখন এই নিয়ে কথা বলতো, তখনও সবাই উনাকেই দোষারোপ করে বলতো, মহিলা সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত, মানসিক রোগী, অযথা স্বামীকে সন্দেহ করে, নরকেও জায়গা হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

কয়েক মাস পরে খালাম্মা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুই ছেলেসহ গ্রামের বাড়ি চলে গেলো। উনার হাজব্যান্ড বাসায় একা থাকে। একদিন শেষ রাতে চেঁচামেচিতে পুরো বাড়ির সবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। শব্দ বুঝে সবাই উনার বাসার সামনে হাজির হলো। একদিন আগে থেকে খালাম্মার বোন মিসিং। খালাম্মার ধারণা, তার হাজব্যান্ডই বোনকে নিয়ে এসেছে, যার জন্য বাবাকে সাথে নিয়েই খুঁজতে বের হয়েছে।

লোকটা চরিত্রহীন, কিন্তু হয় দু:সাহসী, না হয় বোকা, শালীকে নিয়ে এসে নিজের বাসায়ই উঠেছে। অথবা বাসায় খুঁজতে আসতে পারে এটা কল্পনাই করেনি। খালাম্মা এসে কলিং বেল বাজানোর পর উনাকে দেখে সেই যে দরজা লাগিয়েছে, আর খুলছে না।

বেশ কিছুক্ষণ পর উনার বাবার চেষ্টায় যখন দরজা খোলানো গেল এবং মেয়েটিকেও পাওয়া গেল, তখন খালাম্মাকে যারা সন্দেহবাতিকগ্রস্ত বলতো, তাদের মুখটা সেই রকম দেখার মতো ছিল।

অনার্স পরীক্ষার পরে একটা চাকরি নিয়েছিলাম। খুব মিষ্টভাষী এক বিবাহিত বড় ভাইয়াকে দেখতাম সারাদিন বিভিন্ন মেয়ের সাথে ফোনে আড্ডা দিতো। মাঝে মাঝে আউটিং এও যেতো। আবার অফিসের গাড়িতে একসাথে যেতে আসতে দেখতাম, বউ এর সাথে কী সুন্দর করে কথা বলছে। আমার সাথে কবিতা নিয়ে বেশ আলাপ হতো। তার এক ভাই আমাদের অফিসে আসতো মাঝে মাঝে। কথা প্রসঙ্গে একদিন বললো, ও এতো ভালো, ভাবীর প্রতি এতো কেয়ারিং, অথচ কারণে-অকারণে শুধু সন্দেহ করে। সংসারে এই নিয়ে অশান্তি লেগে থাকে।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কী রকম? বললো, ভাইয়া নাকি মেয়েদের সাথে আড্ডা দেয়। ফ্যাক্টরি ভিজিটের নামে মেয়েদের নিয়ে আউটিংয়ে যায়। উনাকে সেদিন আমি কিছু বলিনি। বেশ কিছুদিন পর একদিন লাঞ্চ টেবিলে ঐ বড় ভাইকে বললাম, বউকে যতো যত্নই করেন না কেন, আপনার কী ধারণা ভাবী কিছু বুঝতে পারে না?

তার নির্লজ্জ  উত্তর, আসলে কী জানেন ম্যাডাম, যে ছেলেরা যতো বেশি রোমান্টিক ও মিষ্টভাষী, তাদের বার বার প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা ততো বেশি। সে বিয়ের পরে কী, আর আগেই বা কী! আমিও তার ব্যতিক্রম না। দেখেন, অফিসে এতো মানুষ থাকতে আপনিও আমার সাথেই বেশি কথা বলেন। কারণ আমি আপনার সাথে সুন্দর ব্যবহার করি।

এর প্রায় দশ বছর পর আমার সেই কলিগের ভাই এর সাথে দেখা। বললো, ওর ভাগ্যটা খারাপ। সন্দেহ করতে করতে শেষ পর্যন্ত ভাবী আধা পাগল হয়ে গেছে। এখন থেরাপি দিতে হচ্ছে। খুব ইচ্ছা হচ্ছিল বলি, ভাবী যেটা জানতো, সেটা সত্যি। কিন্তু স্বামীকে পুরোপুরি অবিশ্বাস করতে পারেনি বলে হয়তো মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগতে ভুগতে মেন্টালি ডিসওর্ডার হয়ে গেছে। কিন্তু কেন যেন বলা হয়নি।

মাস্টার্স, বিয়ে ও সরকারি চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে জেলা পর্যায়ের একটা এনজিওতে, খুব ছোট একটা পোস্টে আমি মাত্র জয়েন করেছিলাম। যে আপার আন্ডারে আমাকে ট্রেনিং করতে দেয়া হলো, উনি বেশ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও খানিকটা মাতবর কিসিমের। অফিসের প্রথম দিন থেকেই দেখি উনার কাছে বিভিন্ন প্রকার বিচার সালিশ আসছে। অফিসের, আবার অফিসের বাইরেরও। পরে বুঝলাম, উনি স্থানীয়ভাবে এই কাজগুলো করে থাকেন। একদিন একটা কথা আমার ভীষণ ভালো লাগলো। অফিসের এক অফিস এ্যাসিস্ট্যান্ট তার ছেলেকে কোনো একটা অপরাধের কারণে লেখাপড়া করাবে না। তার বউ এসেছে, আপা যেন তাকে একটু বুঝিয়ে বলে যাতে ছেলেটার লেখাপড়া বন্ধ না করে।

খুব ধৈর্য্যের সাথে দুই পক্ষের কথা শুনে, আপা পিয়নটাকে বললেন, দেখ, সন্তানেরা কিন্তু নিজ ইচ্ছাতে পৃথিবীতে আসে না। মা-বাবা ডাক শুনবো বলে আমরা ওদেরকে পৃথিবীতে আনি। যার জন্য শত অন্যায় করলেও ক্ষমা করে দিয়ে ওদের মানুষ করে তোলা আমাদের দায়িত্ব।

এই রকম আরো অনেক ছোট ছোট বিচার সালিশের সফল সমাধান করতে দেখতাম প্রায়ই। একদিন সকালে অফিসে ইন করে দেখি উনার টেবিলের সামনে বসে এক ভদ্রমহিলা কান্নাকাটি করছে। আপা সব কিছু শুনছে, কিন্তু উনার পক্ষে বা বিপক্ষে কোন কথাই বলছে না। আরও কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করে চলে যাওয়ার পর আমাকে বললো, সাইকো। হাজব্যান্ডকে খালি সন্দেহ করে। ফিল্ড ওয়ার্কার ও সমিতির একাধিক মেয়ের সাথে নাকি অলি (ছদ্মনাম) ভাইয়ের খারাপ সম্পর্ক। কারা নাকি তারে বলেছে। আবার উনিও প্রমাণ পেয়েছে।

আমার সেই ফ্যাক্টরি ভিজিটকারী ভাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল। বললাম, হতেও তো পারে। কেউ কী ইচ্ছা করে নিজের হাজব্যান্ডের নামে মিথ্যা কথা বলবে? আপা বললো, উনার মতো সাইকোর দ্বারা সবই সম্ভব। একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, তাকে অনেকগুলো বিষয় মাথায় রেখে ফিল্ডওয়ার্ক করতে হয়। তাছাড়া উনার ব্যবহার দেখেই তো বোঝা যায় কীরকম ভালো মানুষ।

সেদিন আমি আর আপার সাথে কথা বাড়াইনি। এর বছর খানেক পরে আমি ঢাকায় জোনাল অফিসে আর ওই ম্যানেজার একই জোনের আন্ডারে এক ব্রাঞ্চে বদলী হয়। সেবার এ্যানুয়াল মিটিং কল করা হয়েছিল আগারগাঁও একটা কনফারেন্স সেন্টারে। মিটিং শেষে আমার জোনাল ম্যানেজার বললো, আমি একটু কাজে এমপি হোস্টেলে যাবো। উত্তরাতে রাতের বেলা একা যাবেন কিভাবে, আপনি অলির সাথে বেবী ট্যাক্সিতে (তখন সিএনজি ছিল না) চলে যান। বাসে ওঠার দরকার নেই।

কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ হাতের একটা স্পর্শে আমি চমকে গেলাম। এতো ভদ্র, একই অফিসে জব করা একজন কলিগের এই ধরনের আচরণে আমি সত্যিই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। খুব মনে আছে, খিলখেত ও এয়ারপোর্টের মাঝখানে সেই রাতের বেলায় বেবী থামিয়ে আমি নেমে গিয়েছিলাম।

আপা আমার এফবি লিস্টে নেই। এখন উনি মাঝে মাঝে বিভিন্ন নারী বিষয়ক অনুষ্ঠানে দেখি আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনার পর উনার সাথে আমার আর দেখা হয়নি। সেদিন মনে মনে বলেছিলাম, আপা অলি ভাই এর বউ সাইকো না, অলি ভাই জঘণ্য। আর জঘণ্য মানুষগুলোকে আপনারা চিনতে ভুল করার কারণেই বউগুলোকে সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত অপবাদ নিতে হয়। একজন স্ত্রী তার হাজব্যান্ডের দেহ-মনের এতোটা কাছে থাকে যে, তার চাল-চলন সে বাদে আর কারও পক্ষেই সেইভাবে বোঝা সম্ভব না।

আমি যখন এমবিএ করি, তখন আমার হাজব্যান্ড ঢাকার বাইরে। আমি সেই সময়টাতে বুঝেছি, একজন অবিবাহিত বা ডিভোর্সি নারীর থেকেও বিবাহিত, কিন্তু হাজব্যান্ড দূরে (হতে পারে দেশে বা বিদেশে) থাকা নারীদের সমস্যা অনেক প্রকট।

চারপাশে উৎপাত অনেক বেশী থাকে। বিপরীত জেন্ডারের কারোর সাথে বন্ধুত্বটা হয়েও কেমন যেন হয় না। একদিন ক্লাস শেষে বাসায় যাবো, গাড়িওয়ালা এক ছেলে এসে বললো, আপা আমি তো আপনার বাসার সামনে দিয়ে যাবো, চলেন, আপনাকে ড্রপ করে যাই। রাত হয়ে গেছিল এবং রিক্সা পেতে প্রবলেম হচ্ছিল দেখে উঠে পড়লাম।

পরে একদিন গ্রুপের সবাই চা খাচ্ছি, আমাকে ওই ছেলে বললো, ভাইয়া থাকে না। আপনার লোনলি ফিল হয় না? আমি স্বাভাবিকভাবে বললাম, স্কোপ নেই রে ভাইয়া। গিয়ে রান্না করবো, মেয়ের হোমওয়ার্ক দেখবো। শাশুড়িও বাসায় আছে।

এরপরের ঘটনা। একদিন ক্লাস হয়নি। বললো, চলেন এই দুই-তিন ঘন্টা ঘুরে আসি। বললাম, ঘোরার সাথে ক্লাস না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। আমার ঘুরতে ইচ্ছা করলে, হাজব্যান্ডকে ও মেয়েকে ফোন দিয়ে আমি এমনিতেই যেতে পারবো।

অন্য একদিন স্ট্যাডিতে বসে গ্রুপওয়ার্ক করছি। শুরু হলো বউদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা। আমি অবাক হলাম দেখে যে অলমোস্ট সবার একটা বৈশিষ্ট কমন পড়লো, সন্দেহবাতিকগ্রস্ত। ‘বাসায় ফিমেল কলিগরা ফোন দিলে বউ সন্দেহ করে, এমনকি কাজের মেয়ে নিয়ে সন্দেহ করে বলে বাসায় কাজের মেয়ে রাখে না। আমাদের বাচ্চাকে তার মার কাছে রেখে অফিসে যায়’।

গ্রুপের মেয়ে সদস্যরা তর্ক শুরু করে দিল। আমি উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, সত্যি করে বলেন তো, সেটা কি খুব বেশী অমূলক? বউরা কী অযথাই সন্দেহ করে, নাকি আপনাদের কাজকর্ম বিশ্লেষণ করে সন্দেহ করে? উনি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। অন্য সবাই কেন যেন চুপ করে গেল।

অন্যভাবে বললে বলতে হয়, হাজব্যান্ড এর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি একেকজনের একেক রকম। কেউ হয়তো হাজব্যান্ডকে অন্য নারীর বিছানা থেকে তুলে এনে মার্বেল পাথরের ঝকঝকে বাথরুমে সুগন্ধি সাবান মাখিয়ে গোসল করিয়ে দিব্যি সংসার করতে পারে। কেউ প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়া হোম সহকারীকে ওয়াশ করে নিয়ে আসে। কেউ কেউ ছেড়ে যায়। কেউ হয়তো যথেষ্ট স্বাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মনে জোর নেই বলে ছেড়ে যেতে পারে না। কারোর হয়তো যাওয়ার জায়গা নেই। কারোর বা নুতন করে শুরু করার মানসিকতাই মরে গেছে।

তবে একটা কথা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যে লোকটার সাথে সারাজীবন থাকার মন-মানসিকতা নিয়ে একজন নারী সংসার শুরু করে, সে কোনো অবস্থাতেই চাইবে না, তাকে সন্দেহ করে অযথা অশান্তির সংসার করতে।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটাই তো গড়ে ওঠে বিশ্বাসের উপর। দিনের পর দিন সেই বিশ্বাস ভঙ্গ হতে দেখতে দেখতেই একজন নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে ওঠে। বিশেষত: যাদের ক্রাইসিসে মানসিক সাপোর্ট পাওয়ার মতো কেউ থাকে না, বা একান্ত আপনজনের চরিত্রহীনতার কথা কাউকে বলতে পারে না বা আপন ভাইবোনকে বলতে গেলেও হাসির পাত্র হয়ে ওঠে, তারা সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হলেও হতে পারে। এর জন্য মূলত: দায়ী পুরুষের চরিত্রহীনতা। প্রবাদ আছে না(?), দেখা আগুন চক্ষুশূল। চোখে দেখে সহ্য করা সত্যিই অনেক কঠিন।

এর ভিন্ন দিকও যে নেই, তা বলা যাবে না। সেটা নিয়ে হয়তো কোন একদিন লিখবো।

 

শেয়ার করুন:
  • 657
  •  
  •  
  •  
  •  
    657
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.