প্রতিশোধ

বদরুন নাহার পলী:

সালিশ
– রশীদ কি হইছে ক? বিচার ডাকলি কেন?
– খাঁজু মোড়লের পোলা জসীম আমার মইয়ার সাথে কুকাম করছে।
– কি কুকাম করছে?
– ইস্কুল থাইক্যা ফিরার পথে জঙ্গলের পাশ দিয়া আসার সময় মাইয়ারে বাঁশঝাড়ের আড়ালে নিয়া গিয়া কুকাম করছে।
– তুই কেমনে জানলি?
– মাইয়া কান্তে কান্তে বাড়ী আইসা ওর মায়ের কাছে সব কইছে।
– এদ্দিন কইলি না কেন?
– কতজনরে কইছি, সবাই কয় চুপ থাক। জসীম কইছে সময় দেও বিয়া করুম। অহন মাইয়া তিন মাসের পোয়াতি।

– তুই ক কে তোর সাথে কুকাম করছে।
– (চুপ)
– কার সাথে পেট বাজাইছছ? আর কেউরে না পাইয়া জসীমরে বাজাইছছ কেন?
– (কিভাবে প্রমাণ করব জসীমের বাচ্চা আমার পেটে? কে সাক্ষী দেবে মোড়লের ছেলের বিরুদ্ধে? আমাকে তো গ্রাম ছাড়া করবেই, টু শব্দটি উচ্চারণ করলে পুরো পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করবে বলেছে।)
– কোন সাক্ষী আছে জসীম তোর বাচ্চার বাপ?
– (কই পাব চারজন সাক্ষী? চারজন দেখলে কি এই ঘটনা ঘটে?)
– কোন গ্রামের দোষ তুই এই গ্রামে আনলি?

খালার বাড়ী
– পেট নষ্ট কইরা দে। এই বাচ্চা নিয়া সমাজে চলন যাইবো না।
– (বাচ্চাটার কি দোষ? এই নিরীহ জানটা কেন শাস্তি পাবে?)
– সময় আর বেশী নেই, কালই চল খালাস করতে।

বদরুন নাহার পলী

জীবনযুদ্ধ
তিন বছর যাবত একটা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীতে চাকরী করছে আসমা। পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল। চাকরী করবে একটা ছোট্ট সংসার হবে, কত কি স্বপ্ন ছিল! মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক! বাবা মাঝে মাঝে দেখতে আসেন, আর কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যান। কি অসহায় সে কান্না।

আসমা এক রাতে লুকিয়ে গ্রামে ফিরে আসে। বাবা মা তো ওকে দেখে অস্থির হয়ে যান। কি করবেন ভেবে পান না। তিন বছরে মা’র বয়স যেন দশ বছর বেড়ে গেছে। ছোট ভাইবোনগুলি বড় হয়ে গেছে। কি মায়া কি মায়া!

রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আস্তে আস্তে ঘর থেকে বের হয়ে খাঁজু মোড়লের বাড়ী গেল আসমা।
– জসীম ও জসীম (ছেলেদের গলার মত করে ডাকে জসীমকে)
– কে রে?
– সোরাব (জসীমের বন্ধুর নাম)
– অত রাইতে কি হইলো?
– আসমা আইসে শুনলাম (আসমা বলে)
– (জসীম বাইরে এসে আসমাকে দেখে থ হয়ে যায়)

এক বিজাতিয় চিৎকারের পর জসীমের মাথাটা ছিটকে গিয়ে পড়ে কয়েক ফুট দূরে। বিকট শব্দে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে আসে। আসমা দাঁড়িয়ে, হাতে বটি। ওর চেহারায় এখন পরম পরিতৃপ্তির ছাপ।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.