আমার অবজেকশন্স

সাদিয়া রহমান: প্রতিটা মুহুর্তে মনে হয় আমি এখনকার পৃথিবীতে সবচে মিসম্যাচ একটা প্রাণী। যা কিছু ট্রেন্ড, যা কিছু সবাই স্বাভাবিক বলে মেনে চলে বেশিরভাগেই আমার অবজেকশন। আশেপাশে ঘটনা কম ঘটেনা অতএব অবজেকশনও আমার কম বিষয় নিয়ে নাই। যেহেতু এখন ভার্সিটিতে পড়ছি তাই মূলত আশেপাশে যা দেখি প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে যা এক্সপেরিয়েন্স করি সেগুলো বলি। “বিশ্ববিদ্যালয়” এর মতন এক বিশাল জায়গায় পড়তে নিয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করি প্রতি মুহুর্তে যে আমরা গোড়ায় কতখানি বাধা!

সাদিয়া রহমান

আশেপাশের পরিবেশ থেকে অদ্ভুতভাবে আবিষ্কার করেছি বিয়ের আগে মেয়েরা দুইভাবে ভালো হয়। এক বাবা মায়ের কথা শুনে লক্ষী হয়ে চললে এবং বয়ফ্রেন্ড না থাকলে, দুই বয়ফ্রেন্ড থাকলে বাবা মা এবং বয়ফ্রেন্ডের কথা শুনে লক্ষী হয়ে চললে। এই প্রকারভেদে কিন্ত শুধু ছেলেরা না, মেয়েরাও বিশ্বাস করে। যেখানে একটা ছেলের গার্ল্ফ্রেন্ড থাকা খুবই স্বাভাবিক সেইখানে একটা মেয়েকে যখন এমনকি ক্লাসের বান্ধবীদের থেকেও বয়ফ্রেন্ড লুকিয়ে রাখতে হয় খারাপ হওয়ার ভয়ে আমার “অবজেকশন” সেইখানেই। এই শতাব্দিতেও কি প্রেম রিলেশন বিষয়টা মেয়েদের জন্য স্বাভাবিক হয় নাই?  এখানে একটা বিষয় বলে রাখি অবশ্যই সবাই (ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে) এইরকম চিন্তা ধারণ করে না। তবে যারা করে, তাদের চোপা বেশি চলে বলেই সংকট তৈরি হয়।

আবার গার্ল্ফ্রেন্ডের কথা শুনলে, তার ভালো লাগা খারাপ লাগাকে প্রশ্রয় দিয়ে চললে একটা ছেলেকে প্রতিমুহুর্তে বন্ধু মহলে হাসির পাত্র হতে হয়। অথচ আমি দেখেছি যেইসব মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের প্রতিটা পছন্দ-অপছন্দকে মাথায় রেখে নিজের সব বিসর্জন দেয়, তাকে ছেলেরাও সমীহ করে চলে। ভালোবাসার মানুষের চাওয়া পাওয়াকে বড় করে দেখাটা বা সেটা প্রশ্রয় দেয়া একটা স্বর্গীয় আনন্দের বিষয়। দুইজনই করলে দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু আমার “অবজেকশন” সেইখানে যেখানে কিছু মানুষ সেইটাকে মেয়েদের “কর্তব্য” এবং ছেলেদের “পৌরুষহীনতা” বানিয়ে দেয়। সেইসব মানুষের মূর্খ চোপার মুখরতার কারণে অনেক সময় সুন্দর সাজানো সম্পর্কও তিক্ত হয়ে যায়।
আবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেকের একসাথে অনেকগুলো করে প্রেমের মানুষ থাকে। আমার আশেপাশে অনেকের আছে। ম্যাক্সিমাম ছেলেকে দেখেছি গর্ব করে তাদের সব দ্বয়িতাদের গল্প করে। তারা হয় “ইউ নো… ছেলেটা প্লেবয়”। গার্ল্ফ্রেন্ড থাকতেও অন্য মেয়েদের সাথে দিব্যি ফ্লার্ট করে। সবাই মজা পায়। সেগুলো হয় “হেলদি ফ্লার্টিং”। একই কাজ কোনো মেয়ে করলে “মাগী”, “নষ্টা”, চরিত্রহীন খেতাব পেতে দেরি হয় না একটুও। না,আমি একইসাথে অনেকগুলো প্রেম বা সম্পর্কের বাইরে ফ্লার্টিং কোনোটাই ভালো সাপোর্ট করি না, কিন্তু অবজেকশন তখনই আসে যখন ছেলেটা “ক্যুল ডুড” টাইপ আর মেয়েটা “চরিত্রহীনা” হয়ে যায়।
প্রচলিত আছে মেয়েরা বিয়ের সময় প্রতিষ্ঠিত ছেলে খোঁজে। আমি অনেক ছেলে/বন্ধু/ভাই/বড়ভাই দেখেছি যারা বিয়ে/প্রেম করার জন্য ছোটমেয়ে খোঁজে শুধুমাত্র তাদের প্রতি অনুগত থাকবে সেইজন্য। তাতেও সমস্যা নাই। সেটা যে যার ব্যক্তিগত জীবনে বুঝে নিবে। “অবজেকশন” তখনই আমার, যখন মেম পেজগুলো ভর্তি হয়ে যায় “There is a woman behind every successful man because Woman doesn’t go after unsuccessful ones”.
যাহোক আমার এই অবজেকশনগুলো একটি চলমান ধারায় চলছে বলা যায়। চলবে। প্রত্যেকদিন ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত অনেক অবজেকশন মাথার মধ্যে, মনের মাঝে হানা দেয়। মনে হয় ভালো হওয়াটা সমাজ মেয়েদের ওপর একটা অবশ্যম্ভাবী কর্তব্য হিসেবে চাপিয়ে দিয়েছে। এইখানেই অবজেকশন। ছেলেরাও ভালো হতে পারে। সমাজকে শুধু তাদের আশ্বাস দিতে হবে যে তাতে তাদের “পৌরুষ” কমবে না।
শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.