হুজুর হুমকি দিসেন, ভয় পাইসি

0

শাশ্বতী বিপ্লব: হুজুর হুমকি দিসেন, ভয় পাইসি।

ভয় না পাইয়া কই যাই বলেন? ঘাড়ে সর্বসাকুল্যে একটাই মোটে মাথা। মুসলমানের বাচ্চা, রাবনের বংশ তো আর না। তাই, সিলেবাস পরিবর্তন নিয়া আমার কোন কথা নাই। আপনেরা যা ভালো মনে করসেন, তাই করসেন। আপনেরা আমাদের মা-বাপ। সবই আপনাদের দয়া হুজুর।

কিন্তু অজস্র বানান ভুল আর হাস্যকর ট্রান্সলেশন, তার কী হবে হুজুর? এইগুলান তো সাধারণ প্রুফ রিডিং এর ব্যাপার। নাকি আপনে গো বিবেচনায় সেইটাও নাস্তিক্যবাদ মতাদর্শ? একটু জানাইয়েন হুজুর। নাইলে ভুলে আবার সমালোচনা কইরা ফেলতে পারি।

আমরা বেবুদ জনগণ, না বুইঝা কত কথা বইলা ফেলি। আমাদের পথ দেখান হুজুুর, সামনে আলো (!) ধরেন। আমরাও সাচ্চা মুমীন হই। আর জগতের সকল প্রুফ রিডাররাও তাইলে একটু সাবধান হইতে পারে, মুমীন হওনের সুযোগ পায়।

তয় হুজুর, ছাগলের গাছ থিকা আম খাওনের ব্যাপারটা কিন্তু দারুণ হইসে। এক্কেবারে অভিনব। ছাগল বইলা কি তেনারা মানুষ না? মুর্খ জনতা খালি ভুল ধইরাই খালাস। এর পিছনে কত সুক্ষ্ম চিন্তা আছে সেইটা বুঝে না হুজুর। আম অতি মিষ্ট ফল, তা থেইকা ছাগলদের বঞ্চিত করা মহাপাপ।

কাউকে আঘাত করা উচিত নয় হুজুর, Do not heart anybody – সেইটা এরা বুঝে না। ছাগলও anybody-র মধ্যেই পরে। তাই ছাগলের কোমল হৃদয়ে heart করা অবশ্যই নাস্তিক্যবাদ, সন্দেহ নাই।

মহামান্য ছাগলদের আর কী কী খাওয়াইতে হবে কষ্ট কইরা একটু জানান দিয়েন হুজুর। আমরা আমজনতা জান কোরবান কইরা দিবো। ছাগলের মতোন একখান কিউট জানোয়ার থাকতে বাংলার মানুষজন কিনা বাঘ লইয়া লাফালাফি করে? আস্পর্ধা দেখছেন হুজুর!

আপনারা বলেন হুজুর, আমরা শুনতেসি। যাহা বলিবেন, তাহাই শুনিবো। একচুলও এইদিক ওইদিক হবে না। আর ওলামা লীগ ভাইয়েরা তো আছেনই আমাদের লাইনে রাখার জন্য, চিন্তা কইরেন না।

আর মেয়েদের ছোটবেলা থিকাই পর্দা পুষিদার চর্চা করা উচিত। চারদিকে যে হারে তিন বছরের, পাঁচ বছরের মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হইতেসে, তার থেইকা মুক্তি পাইতে হইলে পর্দা না করলে চলবে ক্যান? বেপর্দা থাকে দেইখাই না সমাজটার এই অবস্থা। নাস্তিক লোকজন কিচ্ছু বুঝে না, খালি ফাল পারে। ঈমানের বড়ই অভাব।

আপনারা যার যার জায়গায় থাকেন হুজুর। ময়দানে আইসেন না। ময়দানে বড় কষ্ট। ধুলাবালি, রোদ। চেহারার চার্ম নষ্ট হইয়া যাইতে পারে। সব সহ্য হবে হুজুর। খালি দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতার কষ্ট সহ্য হবে না। আপনারা বহাল তবিয়তে নিজগৃহে অবস্থান করেন, ময়দানে আসার কষ্ট কইরা আমাদের লজ্জা দিবেন না।

প্রসঙ্গত, নতুন পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী গণমাধ্যমের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। এসব পরিবর্তন ও ভুলের বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে তিনি ‘নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রতিরোধে অচিরেই রাজপথে নেমে আসার হুমকি দিয়েছেন। শনিবার  লটির প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ূম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চরমোনাই পীর।

লেখাটি ১,৪৬১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.