চক্রাকার জীবন

0

মায়মুনা লীনা

: আর বইলেন না ভাবী। ছেলের দাদী এসেছে বাসায়। দেড় সপ্তাহ হয়ে গেছে, এখনো যাওয়ার নাম নেই। সারাদিন ঝামেলা লেগেই আছে বাসায়। নিজের ছেলেকে একটা ডিম সিদ্ধ খাওয়ালে বুড়িকেও দিতে হয়। বাইরে থেকে ছেলের বাপে কিছু নিয়ে আসলে সেটা থেকেও তাকে ভাগ দিতে হবে।

ছেলে বড় হচ্ছে। কত কী দরকার হয় ওর। সব কী দেখিয়ে দেখিয়ে খাওয়ানো যায়! আমি মাঝে মাঝে রুমের দরজা আটকে ওকে খাওয়াই। বুড়ি বাথরুম থেকে বের হলে গন্ধে আর কেউ বাথরুমে যেতে পারে না। বেসিনটাতে পানের পিক ফেলে কেমন নোংরা করে রাখে। সব তো আমারই পরিষ্কার করা লাগে। কয়দিন আর সহ্য করা যায় বলেন?

: হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। কয়দিন আর সহ্য করবেন? কেন সহ্য করবেন? তবে একটা কথা মনে রাখবেন- আপনার ছেলে বড় হচ্ছে। আরও বড় হবে। লেখাপড়া শেষ করে উপার্জন করবে। একদিন হয়তো আপনার মতো একটা মেয়েকেই আপনার পুত্রবধু করে আনবে। তাদেরও ছেলে হবে। আপনার ছেলেকে নিয়ে তার বউ আপনার সংসার থেকে বের হয়ে যাবে, আপনি যেমন ওই বুড়ির ছেলেকে নিয়ে বের হয়ে এসেছিলেন। আপনার এই নিজের ছেলেটা ওই মেয়ের নিজের মানুষ হয়ে যাবে, বুড়ির নিজের ছেলেটা যেমন করে আপনার হয়ে গেছে। আপনিও ছেলের, ছেলের বউয়ের সংসারে বেড়াতে যাবেন। তখন যদি ছেলে বউ আপনাকে ঝামেলা মনে করে, আপনাকে আড়াল করার জন্য বেডরুমের দরজা আটকে বউমা যদি আপনার নাতিকে সেদ্ধ ডিম বা অন্য কোনো ভালো খাবার খাওয়ায়, আপনি মনে কষ্ট নেবেন না তখন। বুড়ো হলে মানবদেহের অনেক যন্ত্রপাতিই ঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে বাথরুমে গেলে দুর্গন্ধ হয়। আপনি বুড়ো হলেও এমনটি হবে নিশ্চিত। তখন ছেলের বউ যদি নাক কুঁচকে রাখে বা অসহ্য লাগছে বলে ফেলে, সেই দোষ কিন্তু তার একার না। ওরাও আপনাকে আর কত সহ্য করবে!! তখনও আপনি মনে কষ্ট নেবেন না কেমন? 
বরং ছেলে/ছেলের বউয়ের উপর নির্ভর করে যেন বুড়াকালটা কাটাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করে রাখুন এখন থেকেই।

: আমার এতো যত্ন, এতো আদরের ছেলেকে ছেড়ে থাকবো! ভাবাই যায় না। 

: আপনার ছেলের বাবাও কিন্তু ওই বুড়ির অনেক আদরের ছেলে। আপনার মতো যত্ন করেই ওই মা তাকে বড় করেছেন। ছেলের দেয়া কোনো যন্ত্রণাকেই যন্ত্রণা মনে করেননি। ঘরের সবচেয়ে ভালো খাবারটা নিজে না খেয়ে ছেলের মুখেই তুলে দিয়েছেন। সেই ছেলের ঘরেই বুড়ি এখন সাত দিনের বেশি থাকলে “ঝামেলা” হিসেবে গণ্য হয়। তাই আদরের ছেলেকে ছেড়েই থাকতে হয়।

আপনি তবে এই চক্রের বাইরে যাবেন ক্যাম্নে??

লেখাটি ২,২৮৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

RFL
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.