অতঃপর মুতাহ্ বিবাহ সমাচার

লীনা হাসিনা হক: স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ইস্তানবুল থেকে যখন টার্কিশ এয়ারওয়েজের বিমানে উঠলাম আমার পাশের সিট তখনো খালি। ইস্তানবুল থেকে প্রায় সাড়ে দশ ঘন্টার উড়ান। পাশের সিট খালি পাওয়া বিরল সৌভাগ্য, শুয়ে না হলেও গুটি মেরে ঘুমানো যাবে।

মনে মনে বলছি, যেন খালি থাকে শেষ পর্যন্ত। বিমানে যাত্রী প্রবেশ প্রায় শেষের পথে, আমি ভেতরে ভেতরে খুশি হয়ে উঠছি, যাক কেউ বোধ হয় নাই। সব যাত্রী উঠে নিজ নিজ আসনে বসে গেছেন, প্রাথমিক ঘোষণা শুরু হয়েছে, আমি হাঁফ ছাড়ছি, যাক বাবা শেষ পর্যন্ত কেউ নাই। হুড়ুম দুড়ুম করে কেবিন ক্রু একজন প্রৌঢ় ভদ্রলোককে প্রায় হাতে ধরে নিয়ে এসে বসিয়ে দিলেন আমার পাশে বলতে বলতে, ‘দ্রুত বেল্ট বেঁধে নিন। আরেকটু হলে তো আপনাকে রেখেই যাত্রা শুরু করতে হতো, জনাব আপনি ভাগ্যবান’।

নিজের ভাগ্যকে অভিশাপ দিতে দিতে সহযাত্রীর দিকে তাকালাম, প্রৌঢ় মানুষটির কাঁচাপাকা দাড়ি, ভারী চশমা, মাথার ঠিক তালুতে কালো রঙের হাতে বোনা ক্রুশের টুপি, যেমনটি সাধারণত ইহুদী সম্প্রদায়ের মানুষরা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কপালের মাঝ বরাবর সিজদা দিতে দিতে যেমন দাগ পড়ে তেমন গোল কালো দাগ।

তিনিও আমার দিকে তাকালেন, আমি সৌজন্য হাসি দিলাম, ভদ্রলোকও সামান্য হাসলেন, কিন্তু তার চোখ হাসলো না বলে মনে হলো। যাক গিয়ে, চোখ হাসুক আর না হাসুক, আমি খালি সিট খোয়াবার বেদনায় কাতর।

প্রথম দফার নাশতা পানীয় সরবরাহ শুরু হয়েছে, টার্কিশ এয়ারওয়েজ সবই হালাল খাবার সরবরাহ করে, কিন্তু বিয়ার বা ওয়াইনের ক্ষেত্রে মনে হয় এখনও হালালের সুবিধা করে উঠতে পারে নাই। সহযাত্রী পানি, কোক, জুস ইত্যাদিতে মগ্ন। আর দীর্ঘ উড়ানের জন্য আমার নিজের তৈরি নিয়ম অনুযায়ী আমি ওয়াইনে বিশ্বাসী, এতে ঘুমটা ভালো হয়।

কিছু পরে ইমিগ্রেশন ফর্ম দিয়ে গেলো, নিজের কলম খুঁজে পাই না, সহকর্মীর কলম ধার নিলাম। এদিকে ফ্লাইটে আরও কয়েকজন বাংলাদেশী যাত্রী ছিলেন, বয়স্ক এক দম্পতি- ছেলের কাছে যাচ্ছেন নিউইয়র্কে, ইস্তানবুল এয়ারপোর্টে পরিচয়, তাঁরা ফর্ম বুঝতে পারছেন না তো তাঁদের ফর্ম ফিলআপ করে দিতে হলো। এসব কাজ কারবারে মোটামুটি ঘন্টা দেড়েক পার হয়ে তারপরে গিয়ে একটু আরাম করে বসলাম।

সহযাত্রী জানতে চাইলেন, কোথা থেকে আসছি? জানার পরে দ্বিতীয় প্রশ্ন, আমি মুসলিম কিনা? এই প্রশ্নটিতে বড় আতংকিত থাকি, নিজেই তো ঠিক জানি না কোন ধর্মে আমার অবস্থান! মানবতা এখনো কোন ধর্ম হিসাবে স্বীকৃত নয়, কোন কালে হবে কিনা কে জানে, ধর্মে অবিশ্বাস আছে সেটাও বাজী ধরে বলতে পারি না, আবার পুরোপুরি বিশ্বাসী সেটাও তো সত্যি নয়। ত্রিশঙ্কু অবস্থা! নাম শুনলেই লোকে ধরে নেয় মুসলিম। সেটাও সত্য, মুসলিম পরিবারেই তো জন্ম। নন- প্র্যাকটিসিং শব্দটি বেশ লাগসই এসব ক্ষেত্রে। কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদির উত্তর দেয়া সহজ। মোক্ষম প্রশ্ন যখন এলো, আপনার স্বামী কী করেন বা কোথায় – এর উত্তরে ভদ্রলোকের চেহারার কী একটু পরিবর্তন হলো! দুষ্টু আমার তাই মনে হলো, ভুলও হতে পারে, বুঝতে পারলাম না।

বলা বাহুল্য, চলতি পথে মানুষের সাথে আলাপ করা আমার অনেক বদভ্যাসের একটি। মানুষকে জানতে আগ্রহ বোধ করি সবসময়। আর যেকোনো কারণেই হোক, শুরু থেকেই আমি ডিটারমাইন্ড ছিলাম এই আলাপ আমি চালিয়ে যাবো, যত বিরক্তিকর আর আপত্তিকর হোক না কেন।

লীনা হাসিনা হক

আমিও সমানতালে জানতে চাইলাম সহযাত্রীর হালবিত্তান্ত। জিজ্ঞেস করলাম, উনি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের কিনা (কথার উচ্চারণে মনে হচ্ছিলো)। জানালেন, উনি মার্কিন নাগরিক, নিউইয়র্কেই স্থায়ী গত চল্লিশ বছর ধরে। নাছোড়বান্দা আমি তবু জানতে চাই, ওরিজিন কি ভারতে? ব্যাজার চেহারা করে উত্তর দেন, জন্মসূত্রে পাকিস্তানি! অবশ্য এর মধ্যেই তিনি বসে বসে সফরকালীন সংক্ষিপ্ত নামাজ আদায় করে নিয়েছেন। কাজেই মাথার টুপি যাদের মতনই হোক না কেন তাঁর ধর্মগত অবস্থান পরিষ্কার, আমার মতন পেন্ডুলাম নন তিনি এই ব্যাপারে।  

ভদ্রলোক ফার্মাসিস্ট, বড় চাকরি করেন। আমাকে একটি বিজনেস কার্ডও দিলেন। এখন পাকিস্তান থেকে আসছেন, তাঁর ফ্লাইট দেরি হওয়ার কারণে এই কানেক্টিং ফ্লাইট প্রায় মিস করতে যাচ্ছিলেন, আল্লাহ’র অসীম করুণায় অল্পে রক্ষা পেয়েছেন।

এর মধ্যে খাবার দেয়া হলো, যথারীতি পানীয় হিসাবে ওয়াইন আমার প্রথম পছন্দ। হাঁচি দিচ্ছিলাম বলে কেবিন ক্রু মায়া ভরে খানিকটা ব্র্যান্ডি গরম পানি আর এক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে দিয়ে গেলেন ঔষধ হিসাবে। আমি চুক চুক করে ব্র্যান্ডিতে চুমুক দেই, আর চোখের কোনা দিয়ে সহযাত্রীর চেহারা দেখি। তিনিও আড়ে দেখছেন আমাকে। হেসে ফেলি আমি। তিনিও হাসেন, তবে কাষ্ঠ হাসি যাকে বলে। বিনা সহবতের আমি যেচে পরামর্শ দেই, দীর্ঘ উড়ানে এই পানীয় শুধু সর্দি থেকে বাঁচায় না, এটা ঘুমের সহায়ক।

আহ, ঝাঁকানো পেপসির বোতলের কর্ক খুলে দিলাম যেনো। অতি চমৎকার ইংরেজিতে অতি মোলায়েমভাবে আমি জানতে শুরু করলাম, এই পানীয় একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম নারীর জন্য হারাম! আচ্ছা, ঠ্যাং চিপটে ধরে ধরা জিনস, লটরপটর টপস, এক মাথা কাকের বাসা খোলা চুল, ব্র্যান্ডির গ্লাসে চুমুক দেয়া মানুষের চেহারায় সম্ভ্রান্ত মুসলমানত্ব কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায় সেও এক রহস্য! এই সব পানীয়’র বদলে গরম পানিতে মধু-লেবু কী পরিমাণ উপকারি, তা জানলাম।

আরো জানলাম, জয়তুন তেল মিশিয়ে কালো জিরা ঠাণ্ডার মোক্ষম দাওয়াই, অথবা জলপাই কিংবা শুকনো খেজুর সবই চলতে পারে, কিন্তু ব্র্যান্ডি নৈব নৈব চ! বেপরোয়া আমি আরও পেগ চেয়ে নিলাম।

ঘন্টা তিনেক ঘুম দিয়ে উঠে দেখি, সহযাত্রীর টিভিতে চোখ, হাতে তসবিহ। হেসে জানতে চান, ঘুম ভালো হলো? কেবিন ক্রুকে ডেকে কিছু খাবার চাইলাম। খেতে খেতে গল্প করি সহযাত্রীর সাথে।

তিনি লাহোরের আদি বাসিন্দা। তাঁর তিন স্ত্রী! একজন লাহোরে, একজন নিউইয়র্কে আর একজন জর্জিয়ায়। নয়টি সন্তান তাঁর। এলেমদার বটে, মনে মনে বলি। তিনি মার্কিন দেশে এসেছিলেন সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে উচ্চশিক্ষা নিতে, দেশে পাকিস্তানি স্ত্রী এবং গোটা তিনেক সন্তান রেখে সরকারি বৃত্তিতে নামকরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে  উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সাথে সাথে একটি মার্কিন স্ত্রীও সংগ্রহ করেছেন। সেই সাথে ভালো চাকরি এবং যথারীতি মার্কিন নাগরিকত্ব। মার্কিন স্ত্রীর গর্ভে তিনটি সন্তান। এই স্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং অত্যন্ত নামাজী এবং পর্দানশিন জেনে বেশ আমোদিত বোধ করি। স্ত্রীসহ হজ পালন করেছেন তিনি।

অবশ্য জানা গেলো প্রায়শই তিনি হজ পালন করেন এবং সকল স্ত্রীকে সাথে নিয়েই বার কয়েক হজ পালন করেছেন। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক, অর্থনৈতিক ভাবে সক্ষম মুসলিম পুরুষের জন্য তাঁর স্ত্রীসহ হজ পালন ফরজ। পরবর্তিতে পাকিস্তানি স্ত্রীর গর্ভে আরো দুটি সন্তান জন্ম নিয়েছে। মনে মনে গুনলাম আটটি সন্তান এ পর্যন্ত। জর্জিয়ান স্ত্রীর ব্যাপারটি কী জানতে চাইলাম।

আহ, আমোদের আর শেষ নাই। ভদ্রলোক অফিসের কাজে উজবেকিস্তান বা তাজিকিস্থান কোথাও গিয়েছিলেন, সেখানে জর্জিয়ান একজন নারীর সাথে পরিচয় এবং পরিণয়। সেখানে একটি সন্তান। জর্জিয়ান স্ত্রী জন্মসূত্রেই মুসলিম।

সময় যতো যাচ্ছে, আমি ততই বেশি ভদ্রলোকের জীবন সম্পর্কে জানতে কৌতুহলী হয়ে উঠছি। এতোসব সামলান কী করে? জীবনবোধই বা কী তাঁর, জানতে ইচ্ছে করে।

তিনি বছরে একবার পাকিস্তানে এবং একবার জর্জিয়া যান। সন্তানরা অনেকেই পড়ালেখা শেষ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত, মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ভদ্রলোকের নাতি-নাতনীও আছে। তিনি আমার সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করছিলেন, আমার পরিচিতরা সবাই জানে যে, আমার সন্তানদের কথা বলতে শুরু করলে আমার পরিমিতিবোধ লোপ পায়। দু’একবার বা তার থেকে বেশিবার আমার প্রশংসা করেননি তা নয় এবং আমি বিনা বিকারে সেসব প্রশংসাবাক্য আমাদের রাজনীতিবিদদের মতন আমার পাওনা হিসাবেই ধরে নেই। এখানেও তার ব্যতিক্রম করবো কেন।

মুসলিম নারীকে হিজাবে কতটা এলিগ্যান্ট দেখায় সেই বিষয়েও তাঁর মত শুনলাম এবং জানাতে দ্বিধা করলাম না যে, তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতা তাঁর, কিন্তু সেটার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করার স্বাধীনতা আমার। একটু থমকে গেলেও স্মার্ট তিনি থামেন না, আর আমি তো বদ্ধপরিকর, যত বেখাপ্পাই হোক না কেন, এই আলাপ আমি চালিয়ে যাবোই। মিশন ইস্তানবুল টু জেএফকে।

জানালেন, ইদানিং কাজের সূত্রে তাঁকে প্রায়ই চীন যেতে হচ্ছে। চীনে বেশ সংখ্যায় মুসলিম জনগোষ্ঠী আছে তা আমি জানি কিনা ইত্যাদি। আমি ঠাট্টা করে জিজ্ঞ্যেস করলাম, ভাইজান, চীনে আপনার কোনো পরিবার নাই? তাঁর জবাব শুনে আমার হাতের গ্লাস থেকে ওয়াইন ছিটকে পড়ে আমাকে ভিজিয়ে তো দিলোই, তাঁর গায়েও ফোঁটা পরে তাঁকে নাপাক করে দিলো। ক্রুকে ডেকে মোছামুছি করে ঠাণ্ডা পানি চেয়ে নিলাম।

একটু ধাতস্থ হয়ে বললাম, একটু খুলে বলেন তো ভাইজান, আপনার তাহলে চারটি স্ত্রী, চার দেশে? এই প্রশ্নের উত্তর শুনে আমার গলার পানি আটকে গিয়ে বরফ হয়ে গেলো। খাবি খেতে খেতে কোনরকমে সামলে নিলাম। ভদ্রলোক জানালেন, মূলত জর্জিয়ান এবং চাইনিজ স্ত্রীগণের সাথে তিনি ‘নিকাহ মুতা’হ’ বা মুতা’হ বিয়ে করেছেন। এই বিয়ে যে এখনো করা যায়, বা লোকে করে, তাই-ই তো জানি না। তিনি আমায় নিকাহ মুতা’হ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান দিতে শুরু করলেন।

আমি যতোই আমার জানা অল্প জ্ঞান থেকে বলার চেষ্টা করছিলাম যে, নিকাহ মুতা’হ (আরবি: نكاح المتعة‎) হলো এক ধরনের সাময়িক বা অস্থায়ী বিবাহ যা একটি সময়ের জন্য দেনমোহরের  বিনিময়ে কোনো স্ত্রী লোকের সাথে অনুষ্ঠিত হতো নির্দিষ্ট সময় সীমা অতিক্রম হওয়ার সাথে সাথে আপনা হতে এ বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যায় এর জন্য তালাকের দরকার হয় না এ বিবাহ প্রথাটি আরবে ইসলামপূর্ব যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলইসলামের প্রাথমিক যুগেও এর অনুমতি ছিল বিশেষত যুদ্ধের সময়ে বা ব্যবসার কাজে দীর্ঘসময় পরিবারবিহীন অবস্থায় থাকতে হলে এই ব্যবস্থা চালু ছিলো, যাতে বিশেষত পুরুষেরা তাদের যৌন প্রয়োজন সামাজিক পরিকাঠামোর ভিতরে থেকে মিটাতে পারে। পরে রাসূল পাক (সাঃ) কিয়ামত পর্যন্ত এর নিষিদ্ধতা ঘোষণা করেন কারণ ‘বিবাহ’ কোন ধর্মেই অস্থায়ী কোনো বিষয় নয়। এবং বিবাহ কখনই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ দুজন নারী-পুরুষকে পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ অস্বীকার করে না।

নিকাহ মুতা’হ মূলত প্রাচীন আরবে সামাজিক স্বীকৃত প্রস্টিটিউশন ছাড়া আর কিছু নয় এবং এতে কোনো ধরনের দায়িত্ব থাকে না। প্রফেট স্বয়ং এই বিষয়কে নিন্দা করেছেন এবং নিষেধ করেছেন বলেই পড়েছি।

ভদ্রলোক ততই বুঝাতে চেষ্টা করেন তাঁর কথার যৌক্তিকতা। শেষমেশ তিনি যখন উদাহরণ দেখান যে, আমি যদি হজে যেতে চাই, নিয়ম অনুযায়ী বৈধ মাহারাম (স্বামী, গর্ভজাত পুত্র, ভাইয়ের বা বোনের ছেলে ইত্যাদি যাদের সাথে ইসলামে  বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম ঘোষণা করা হয়েছে) ছাড়া যেতে পারবো না, সেক্ষেত্রে আমি নিকাহ মুতা’হ র মাধ্যমে একটি অস্থায়ী স্বামী সংগ্রহ করে হজ করে আসতে পারি!

ব্যাখ্যা শুনে আমার মাথা ঘুরতে থাকে। সিট ছেড়ে উঠে হাঁটাহাঁটি করি, বাংলাদেশী বয়স্ক দম্পতির খোঁজ খবর করার চেষ্টা করি। একজন অল্প বয়স্ক মা একা একা ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে জেরবার, বাচ্চাটিকে কোলে করে হাঁটি, মা’টি একটু অবসর পায়, একটু কফি খায়, টয়লেটে যায়।

বিমানে ঘোষণা হচ্ছে, আমরা আর মিনিট চল্লিশের মধ্যেই জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণ করবো। যার যার সিটে ফেরত যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। নিজের সিটে যাই। ভদ্রলোক আমাকে একটা কাগজে কিছু বইয়ের নাম, আর কিছু লিংক লিখে দেন, আমি যেন এগুলো পড়ার চেষ্টা করি। আমি বিনা বাক্যে কাগজটি নিয়ে নেই। তিনি আমাকে অবশ্যই তাঁর বাড়িতে যেতে দাওয়াত দেন, আমি সময় জানালে তিনি নিজে এসে আমাকে নিয়ে যাবেন।

বলি, আমি অবশ্যই জানাবো। আমার ছেলের ফোন নম্বর চান, আমি মুখস্ত নাই বলে জানাই। মনের মধ্যে ভয় কাজ করে, তিনি না আবার তাঁর সাথে আমাকে নিকাহ মুতা”হ করে হজ পালন করে আসার পরামর্শ দেন। অবতরণকালীন ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, কথা বাড়াই না।  

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.