জিরো টলারেন্স

tania morrshed
তানিয়া মোরশেদ

তানিয়া মোরশেদ: কারো অধিকার নেই তোমার গায়ে হাত তুলবার … হও তুমি শিশু, বালিকা, কিশোরী, তরুণী, যুবতী, মধ্যবয়স্কা, প্রৌঢ়া। আর হোক না সে তোমার বাবা, ভাই, প্রেমিক, বর, পুত্র ………… যে কেউ। তুমি অবুঝ (বুঝবার বয়স যদি না হয়ে থাকে), তোমাকে বুঝিয়ে দেবার দায়িত্ব তাদের। বুঝবার বয়স হবার পরও অবুঝ, ওদের বলো কেন তুমি ওদের কথা বুঝতে চাইছো না। ওদের বলো তোমার মত করে বুঝতে, ভাবতে। তারপরও অভিযোগ তুমি অবুঝ, বলো “আমাকে আমার মত ভাবতে দাও, থাকতে দাও। সবার বোঝবার পথ এক নয়, যদি পারো আমার আমিত্বকে মেনে নিতে, পাশাপাশি পথে হাঁটো, হোক না তা ভিন্ন। আর যদি তা না সয় পথ থেকে সরে দাঁড়াও। তোমাদের কারো অধিকার নেই, আমার পথ রুদ্ধ করবার।”
তুমি শিক্ষিত, কর্মজীবী, সংসারের সব দায়িত্ব তোমার, সন্তানের জন্মদান থেকে শুরু করে বড় করা পর্যন্ত সব, বরের সব চাহিদা মেটাও তুমি আর সেই তুমি পরে পরে মার খাও????!!!!!!!! কেন????!!!!! সে তোমায় বুঝিয়েছে, সে ছাড়া তুমি অচল! সে ছাড়া তোমার সন্তান পিতৃহীন জীবনের কষ্ট ভোগ করবে। আমায় বলো, পিতা মানে কি দানব?? দানব সে নয়?! তোমার চোখে হয়ত নয় (?!)।
সন্তানকে জিজ্ঞাসা করে দেখো, সে কি মানব দেখে, না দানবের ছায়া দেখে পিতার মুখে। তোমার এই পরে পরে মার খাওয়ার মাঝে সন্তানের জন্য আত্মত্যাগের মহিমা নেই। দুঃখিত চরম সত্যটি বলবার জন্য। তোমায় সে করুণা করে, শ্রদ্ধা নয়। যে নিজেকে শ্রদ্ধা করতে জানে না, সে আর কিছু পেলেও শ্রদ্ধা পায় না এমনকি আত্মজ/ আত্মজার কাছ থেকেও।
এখন বলো, তুমি কি শ্রদ্ধা চাও না করুণা বা ঘৃণা? হ্যাঁ, কখনো কখনো ঘৃণাও পেতে পারো, দানবের শয্যাসংগী হবার জন্য। ভাবছো, “বড়” হয়ে পুত্র তোমার “মানুষ” হবে! মানব মস্তিষ্কের/ মনস্তত্ত্বের আজব পথ অনুসরণ করে পুত্রের দানব পিতার পথে হাঁটবার সম্ভাবনা অনেক বেশী। আর কামনা করছো, কন্যা যেন তোমার “ভাগ্য” না পায়!? জেনে রাখো, যদি “ভাগ্য” তার তোমার মতই হয়, সে-ও তোমার মত পরে পরে মার খাবে। সে যে দেখেছে, তার জননীর আত্মত্যাগ!! দেখেছো, তোমার আত্মত্যাগের ভবিষ্যৎ!!
এরপরও তুমি উঠে দাঁড়াবে না??!! এরপরও তুমি বলবে না, “তোমার/তোমাদের কোনো অধিকার নেই আমার গায়ে হাত তুলবার।” এরপরও তুমি এগিয়ে আসা সেই থাবা মুচড়ে দেবে না??!! কেন???!!! সন্তানের, প্রেমের, পরিবারের, সমাজের, সংস্কৃতির, ধর্মের দোহাই দিয়ে যে তোমায় পিষছে, ভাংছে, গড়ছে (নিজের মত করে), নিংড়ে নিচ্ছে জীবনী শক্তি কি আছে তার মধ্যে??!! দোহাই তোমার, একবার … একবার উঠে দাঁড়াও, তাকে/তাদের দেখিয়ে দাও তোমার শক্তি। তার থেকেও বেশী নিজেকে দেখাও, কত সাহসী তুমি!! …………… আমি অপেক্ষায় আছি!
সে গায়ে হাত তুলেনা? এখন আর নয়? মানসিক নির্যাতন করে “শুধু”? মানসিক নির্যাতন কি শারিরীক নির্যাতনের থেকে কম কিছু??!! জেনে রাখো, সন্তানকে কিছু বুঝতে দিতে না চাইলেও সে ঠিকই বুঝছে/বুঝবে। ফলাফল একই হবে, শারিরীক নির্যাতন সওয়ার মতই! নিজের জীবনের সাথে সাথে সন্তান/সন্তানদের জীবন নষ্ট করো না। পিতা যদি হয় দানব, সে দানবের ছায়ায় সন্তানের জীবন কি স্বাভাবিক হয়??!!
আমি তোমাদের গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত, আর কতজনেরটা শুনবো??!! কেন শুনবো না উঠে দাঁড়ানোর/ রুখে দাঁড়ানোর গল্প? অশিক্ষিত/ কর্মহীন/ কোথাও যাবার জায়গা নেই এমন নারীদের কথা কখন শুনবো তাহলে!!??

শেয়ার করুন:
  • 38
  •  
  •  
  •  
  •  
    38
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.