অথঃ রসরাজ কথা এবং ঈমানদণ্ডের শিথিলায়ন

তুষার গায়েন: অবশেষে রসরাজ নির্দোষ প্রমাণ হইলো ! তাহাতে কি রসরাজের জীবনে আর রস ফিরিয়া আসিবে? সে যখন ভীত ও হতবিহ্বল হইয়া অশ্রুসিক্ত গণ্ডদেশ মুছিয়া বারংবার বলিতেছিল যে সে অশিক্ষিত, ঐরূপ কাজ করা তো দূরের কথা, ভাবাও সম্ভব নহে ; তখন তাহাতে কেহ কর্ণপাত করে নাই। ইসলাম অবমাননাকারী একটি মালাউন পাওয়া গিয়াছে, ইহাই যথেষ্ট ; খবরের সত্যতা যাচাই করিবার কী দরকার? একটি মিথ্যা সংবাদ চাউর করিয়া যদি এত বিধর্মীর ঘর ভাঙা যায়, তাহা হইলে উহাদের জায়গার দখলও নেওয়া গেল, নেকিও হাসিল হইল।

tushar-gayen
তুষার গায়েন

রসরাজের পক্ষে যে ফটোশপ করিয়া ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেওয়া সম্ভব না, এটা পাগলেও বোঝে। কিন্তু গুজব তৈরী করিয়া শুধু রসরাজের নহে, শত শত হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ ও লুটপাট হইয়াছে, হিন্দু মেয়েদের উপর অত্যাচার হইয়াছে এবং তাহা একবার মাত্র নহে ; সরকার বাহাদুর অবগত হইবার পরেও আরো তিনবার হামলা হইয়াছে। ইতোমধ্যে বহু হিন্দু দেশ ছাড়িয়া সীমান্ত পাড়ি দিয়াছে, যাহার মধ্যে রসরাজের পরিবারও আছে।

এখন অনেকেই আওয়াজ তুলিয়াছেন যে রসরাজ যেহেতু নির্দোষ, তাহাকে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাহাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। ভালো কথা ! আরো যে-সকল নিরপরাধ হিন্দুরা নিগৃহীত হইল তাহাদের ক্ষতিপূরণের কি হইবে? যাহারা গুজব যাচাই না করিয়া তাণ্ডব করিল, তাহাদের বিচারের কী হইবে?

এইবারই তো প্ৰথম নহে, এর পূর্বেও মিথ্যা ফটোশপের গুজব ছড়াইয়া বহু তাণ্ডব করা হইয়াছে, বহু হিন্দু শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলিয়া জেলে ঢুকানো হইয়াছে। অদ্ভুত ব্যাপার যখন প্রকৃত অপরাধী জাহাঙ্গীর নামের এক কুলাঙ্গারকে পুলিশ শনাক্ত করিল, তখন তাণ্ডবকারীদের কোনো উত্তেজনা নাই, কোনো মিছিল বা ভাঙচুর নাই ; ঈমানদণ্ড শিথিল হইয়া গিয়াছে !

কথা হইতেছে, এমন ঘটনা যে আবার ঘটিবে না, তাহার নিশ্চয়তা কি? এ জাতীয় গুজব তৈরী করিয়া ভবিষ্যতে যাহাতে আর কেহ ফায়দা লুটিতে না পারে, তাহার জন্য সরকার বাহাদুরের কি কোনো পরিকল্পনা আছে? নাকি মালাউনদের এইরূপ মার খাওয়া রাষ্ট্রীয় ইন্ধনে চলিতেছে এবং দেশ হিন্দুশূন্য না হওয়া পর্যন্ত চলিতেই থাকিবে?

শেয়ার করুন:
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.